খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 2শে বৈশাখ ১৪৩৩ | ১৫ই এপ্রিল ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) শীর্ষ নেতৃত্বে সাম্প্রতিক সময়ে নজিরবিহীন রদবদল লক্ষ্য করা গেছে। গত কয়েক মাসে তিনবার বিসিবি সভাপতি পরিবর্তিত হলেও জাতীয় দলের প্রধান কোচ ফিল সিমন্স বিষয়টিকে স্বাভাবিক জীবনবোধের অংশ হিসেবেই দেখছেন। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে আসন্ন ওয়ানডে সিরিজ উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, দীর্ঘ ক্যারিয়ারে নানা অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হওয়ার ফলে বর্তমান পরিস্থিতিতে তিনি মোটেও বিস্মিত নন।
২০২৪ সালের মে মাসে যখন ফিল সিমন্স বাংলাদেশ জাতীয় দলের প্রধান কোচের দায়িত্ব গ্রহণ করেন, তখন বিসিবির সভাপতি ছিলেন ফারুক আহমেদ। তবে সিমন্সের যোগদানের মাত্র দুই সপ্তাহের মাথায় এক নাটকীয় পরিবর্তনের মাধ্যমে ফারুক আহমেদকে সরিয়ে আমিনুল ইসলামকে বিসিবির সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়। প্রায় ১০ মাস দায়িত্ব পালনের পর ২০২৬ সালের ৭ এপ্রিল জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) আমিনুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন কমিটি ভেঙে দেয়। বর্তমানে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের অ্যাডহক কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল।
এক নজরে গত কয়েক মাসে বিসিবি সভাপতি পরিবর্তনের সংক্ষিপ্ত সারণি:
| সময়কাল | বিসিবি সভাপতি | পরিবর্তনের প্রেক্ষাপট |
| মে ২০২৪ | ফারুক আহমেদ | সিমন্সের নিয়োগকালীন সভাপতি |
| মে ২০২৪ – এপ্রিল ২০২৬ | আমিনুল ইসলাম | ফারুক আহমেদের স্থলাভিষিক্ত হন |
| এপ্রিল ২০২৬ – বর্তমান | তামিম ইকবাল (অ্যাডহক) | জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ কর্তৃক কমিটি পুনর্গঠন |
বোর্ডের প্রশাসনিক এই টালমাটাল অবস্থায় দলের পারফরম্যান্স বা প্রস্তুতির ওপর কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ৬৩ বছর বয়সী এই ক্যারিবীয় কোচ অত্যন্ত ইতিবাচক এবং পেশাদার উত্তর দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, প্রশাসনিক পরিবর্তন মাঠের ক্রিকেট বা কোচিং স্টাফদের কাজের ধরনে কোনো ভিন্নতা তৈরি করেনি।
সিমন্স বলেন, জীবনের এই পর্যায়ে এসে কোনো কিছুই তাঁকে আর অবাক করে না। তাঁর মতে, এটি কেবল বাংলাদেশের ক্রিকেটের বিষয় নয়, বরং দীর্ঘ জীবনের চড়াই-উতরাই থেকে প্রাপ্ত এক গভীর উপলব্ধি। তিনি আরও জানান যে, কোচিং প্যানেল বরাবরের মতোই তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করে যাচ্ছে এবং একটি সিরিজের প্রস্তুতির জন্য যে ধরনের কঠোর পরিশ্রম প্রয়োজন, তাতে কোনো ঘাটতি রাখা হয়নি।
সংবাদ সম্মেলনে ফিল সিমন্স দাবি করেন, সভাপতি বদলের এই নাটকীয় ঘটনাপ্রবাহ ক্রিকেটারদের অনুশীলনে কোনো ব্যাঘাত ঘটায়নি। খেলোয়াড়রা তাদের স্বাভাবিক রুটিন অনুযায়ী কঠোর পরিশ্রম করছেন এবং সিরিজের প্রস্তুতিতে সম্পূর্ণ মনোযোগী রয়েছেন। তিনি বলেন:
“আমরা কী করছি বা কীভাবে অনুশীলন করছি, তাতে এই পরিবর্তনের কোনো প্রভাব পড়েনি। খেলোয়াড়দের ওপর মানসিক কোনো প্রভাব আমি ব্যক্তিগতভাবে দেখছি না। তারা তাদের দায়িত্ব ঠিকঠাক পালন করছে এবং প্রস্তুতির জন্য প্রয়োজনীয় সব কাজ করে যাচ্ছে।”
উল্লেখ্য যে, ৭ এপ্রিল যখন বিসিবিতে নেতৃত্ব পরিবর্তনের ঘটনা ঘটে, তখন জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা নিউজিল্যান্ড সিরিজের প্রস্তুতি ক্যাম্পে ব্যস্ত ছিলেন। প্রশাসনিক এই পরিবর্তনের ডামাডোলে মাঠের আলোচনার চেয়ে মাঠের বাইরের আলোচনা বেশি প্রাধান্য পাওয়ায় সংবাদ সম্মেলনে এক পর্যায়ে সিমন্স বিরক্তি প্রকাশ করে পুনরায় ক্রিকেটীয় আলোচনায় ফিরে আসার অনুরোধ জানান।
বাংলাদেশ ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যকার আসন্ন সাদা বলের সিরিজটি আগামী শুক্রবার থেকে শুরু হতে যাচ্ছে। সিরিজের প্রথম ও দ্বিতীয় ওয়ানডে ম্যাচ ঢাকার মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে। সিরিজের শেষ ম্যাচটি আয়োজিত হবে চট্টগ্রামে। ওয়ানডে সিরিজ শেষে উভয় দল তিন ম্যাচের একটি টি-টোয়েন্টি সিরিজে অংশগ্রহণ করবে।
সিরিজের মূল তথ্যসমূহ:
ফরম্যাট: ৩টি ওয়ানডে এবং ৩টি টি-টোয়েন্টি।
প্রথম ওয়ানডে: আগামী শুক্রবার।
সময়: ম্যাচগুলো সকাল ১১টায় শুরু হবে।
ভেন্যু: মিরপুর (ঢাকা) ও জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়াম (চট্টগ্রাম)।
বাংলাদেশ দল বর্তমানে এই সিরিজের জন্য পূর্ণ প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে এবং সিমন্সের অধীনে নিজেদের পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর। মাঠের বাইরের প্রশাসনিক অস্থিতিশীলতা কাটিয়ে মাঠের ক্রিকেটে ইতিবাচক ফলাফল অর্জন করাই এখন দলের প্রধান লক্ষ্য।