খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে ভারতের বীমা খাতে। গ্রাহকসেবা উন্নয়ন, দাবি নিষ্পত্তি, জালিয়াতি শনাক্তকরণ এবং ঝুঁকি মূল্যায়নের মতো নানা ক্ষেত্রে বীমা কোম্পানিগুলো এআই-নির্ভর ব্যবস্থা চালু করছে। তবে এই প্রযুক্তির বিস্তারের সঙ্গে নতুন ধরনের ঝুঁকি ও চ্যালেঞ্জও সামনে আসছে। এ পরিস্থিতিতে বীমা খাতে এআই ব্যবহারের নিরাপত্তা, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে একটি বিশেষ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করেছে ভারতের বীমা নিয়ন্ত্রক সংস্থা ইন্স্যুরেন্স রেগুলেটরি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অথরিটি অব ইন্ডিয়া (আইআরডিএআই)।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাত সদস্যের এই ওয়ার্কিং গ্রুপের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন টেকনোলজি (আইআইআইটি) হায়দরাবাদের পরিচালক সন্দীপ কে. শুক্লা।
নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী, দলটি বীমা শিল্পে এআই প্রযুক্তির সামগ্রিক প্রভাব মূল্যায়ন করবে। এর মধ্যে থাকবে সম্ভাব্য ঝুঁকি, প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা, তথ্য নিরাপত্তা, নীতিগত চ্যালেঞ্জ এবং গ্রাহকদের ওপর সম্ভাব্য প্রভাবের বিশ্লেষণ। একই সঙ্গে বীমা কোম্পানি, পলিসিধারক এবং পুরো বীমা ব্যবস্থার ওপর এআই ব্যবহারের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবও পর্যালোচনা করা হবে।
আইআরডিএআই জানিয়েছে, ওয়ার্কিং গ্রুপটি বিশেষভাবে আধুনিক বা ‘ফ্রন্টিয়ার এআই’ প্রযুক্তির প্রভাব নিয়ে কাজ করবে। এ ধরনের উন্নত এআই ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিচালিত স্বয়ংক্রিয় সাইবার হামলা, তথ্য চুরি বা অপব্যবহারের মতো ঝুঁকি মোকাবিলায় কী ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রয়োজন, সে বিষয়ে সুপারিশও করবে দলটি।
বীমা খাতে এআই ব্যবহারের ফলে প্রতিষ্ঠানগুলো কতটা ঝুঁকিপূর্ণ বা কতটা প্রস্তুত, তা মূল্যায়নের জন্য শিল্পব্যাপী ‘স্ট্রেস টেস্ট’ চালুর প্রয়োজন আছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হবে। আর্থিক খাতে স্ট্রেস টেস্ট সাধারণত সম্ভাব্য সংকট বা অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা যাচাইয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদ্ধতি হিসেবে বিবেচিত হয়।
ওয়ার্কিং গ্রুপের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হলো বীমা খাতে বর্তমানে এআই ব্যবহারের বাস্তব চিত্র তুলে ধরা। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে প্রযুক্তিটির গ্রহণযোগ্যতা, ব্যবহারিক পরিপক্বতা, বাস্তবায়নের ধরণ এবং বিদ্যমান পরিচালন কাঠামো পর্যালোচনা করা হবে। পাশাপাশি নিয়ন্ত্রিত প্রতিষ্ঠানগুলো যেসব এআইভিত্তিক ব্যবস্থা ব্যবহার করছে, সেগুলোর কাঠামোগত মূল্যায়নও করা হবে।
পর্যালোচনার ভিত্তিতে দলটি একটি পূর্ণাঙ্গ এআই গভর্ন্যান্স কাঠামোর সুপারিশ করবে। এই কাঠামোর লক্ষ্য হবে বীমা খাতে এআই প্রযুক্তির নৈতিক, স্বচ্ছ এবং ব্যাখ্যাযোগ্য ব্যবহার নিশ্চিত করা। অর্থাৎ কোনো সিদ্ধান্ত কীভাবে নেওয়া হচ্ছে, তার যৌক্তিক ব্যাখ্যা যেন প্রতিষ্ঠান ও গ্রাহক উভয়ই বুঝতে পারেন, সেই বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
প্রস্তাবিত নীতিমালায় বীমা দাবি ব্যবস্থাপনা, জালিয়াতি প্রতিরোধ, ঝুঁকি বিশ্লেষণ, গ্রাহক তথ্যের সুরক্ষা এবং স্বয়ংক্রিয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলো অন্তর্ভুক্ত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বীমা শিল্পে এআই ব্যবহারের সম্ভাবনা ব্যাপক হলেও পর্যাপ্ত নিয়ন্ত্রণ ও সুরক্ষা ব্যবস্থা ছাড়া প্রযুক্তিটির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা নতুন ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। সে কারণে প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং গ্রাহক সুরক্ষার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে আইআরডিএআইয়ের এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে ভারতের বীমা খাতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত ভিত্তি হিসেবে কাজ করতে পারে।