খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 14শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ২৬ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ক্যাম্পাসে বুধবার রাতে রাজনৈতিক স্লোগানের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল ও প্রেস ব্রিফিং আয়োজন করেছে। ঘটনা শুরু হয় রাত ১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় শহীদ মিনারের সামনে থেকে। শিক্ষার্থীরা সরেজমিনে দাবি করেন, ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধ রাখা তাদের অটল ইচ্ছা এবং বিশ্ববিদ্যালয়কে অরাজনৈতিক রাখার প্রতিশ্রুতির অংশ।
বিক্ষোভকারীরা জানান, ঢাকা-৮ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য প্রার্থী নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী তার নিয়মিত তারাবি ও জনসংযোগ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বুয়েট কেন্দ্রীয় মসজিদে নামাজ পড়তে আসেন। মসজিদটি সবার জন্য উন্মুক্ত হওয়ায় শিক্ষার্থীরা মনে করেন, যে কেউ সেখানে নামাজ পড়তে পারে। কিন্তু নামাজ শেষে তার সঙ্গে রাজনৈতিক স্লোগান দেওয়া হয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের দাবি অনুযায়ী, বুয়েটের অরাজনৈতিক পরিচয়ের পরিপন্থী।
প্রেস ব্রিফিংয়ে শিক্ষার্থীরা বলেন, “আবরার ফাহাদ এবং সাবেকুন্নাহার সনি—দুইজন মেধাবী ও দেশপ্রেমিক শিক্ষার্থীর ত্যাগের বিনিময়ে আমরা বুয়েটে একটি অরাজনৈতিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠা করেছি। ছাত্ররাজনীতি শুধু প্রাণহানিই ঘটায়নি, বহু শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন ও ক্যারিয়ারকেও ধ্বংস করেছে।”
তাদের বক্তব্যে আরও বলা হয়, বুয়েটে শিক্ষার্থীদের একমাত্র পরিচয় হওয়া উচিত শিক্ষার্থী হিসেবে। কোনো রাজনৈতিক পরিচয় ক্যাম্পাসে গ্রহণযোগ্য নয়। এটি হবে জ্ঞানচর্চা, গবেষণা ও মানবিক মূল্যবোধ বিকাশের নিরাপদ ক্ষেত্র, রাজনৈতিক প্রভাব প্রদর্শনের মঞ্চ নয়।
শিক্ষার্থীরা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, বুয়েটে যেকোনো রাজনৈতিক দলের যেকোনো কর্মকাণ্ড তারা প্রত্যাখ্যান করে এবং ভবিষ্যতেও রাজনীতিমুক্ত ক্যাম্পাস বজায় রাখার জন্য দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।
নিচের টেবিলে বুয়েটের অরাজনৈতিক ক্যাম্পাস রক্ষার মূল বিষয়গুলো সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো:
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| বিক্ষোভের তারিখ ও সময় | ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, রাত ১টা |
| আয়োজনের স্থান | শহীদ মিনার, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় |
| মূল অভিযোগ | রাজনৈতিক স্লোগান এবং প্রার্থীর ক্যাম্পাসে উপস্থিতি |
| শিক্ষার্থীর দাবি | বুয়েটকে অরাজনৈতিক রাখা এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধ রাখা |
| প্রতিশ্রুতি | ভবিষ্যতেও রাজনীতিমুক্ত ক্যাম্পাস বজায় রাখা |
শিক্ষার্থীরা আশা প্রকাশ করেছেন যে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাদের এই দাবিকে গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করবে এবং বুয়েটের অরাজনৈতিক পরিচয় অক্ষুণ্ণ রাখবে। এই উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের মধ্যে একত্রিত হওয়ার এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে, যা উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে রাজনীতির অনৈতিক প্রভাব রোধে সহায়ক হতে পারে।
ক্যাম্পাসজুড়ে শান্তিপূর্ণ এই প্রতিবাদ দেখিয়েছে যে শিক্ষার্থীরা শুধু শিক্ষার প্রতি উৎসাহী নয়, বরং তাদের প্রতিষ্ঠানের নৈতিক ও সামাজিক মূল্যবোধ রক্ষাতেও সচেতন।