খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫
দেশের বৈদেশিক মুদ্রাবাজারের অস্থিরতা নিরসন এবং টাকার মান স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যে ফের বাজার থেকে ডলার কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গত রবিবার (২৮ ডিসেম্বর) নিলামের মাধ্যমে দেশের তিনটি শীর্ষস্থানীয় বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে মোট ১১৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ক্রয় করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ডলারের বিনিময় হার এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক তারল্য বজায় রাখতে এই পদক্ষেপটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট অর্থনীতিবিদরা।
বিনিময় হার ও ডলার সংগ্রহের পরিমাণ
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, প্রতিটি ডলার ১২২.৩০ টাকা দরে কেনা হয়েছে। গত কয়েক মাস ধরে মুদ্রাবাজারে ডলারের সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এখন রিজার্ভ শক্তিশালী করার সুযোগ পাচ্ছে। এই ডলার ক্রয়ের ফলে একদিকে যেমন আমদানিকারকদের জন্য ডলারের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা সহজ হবে, অন্যদিকে মুদ্রাবাজারে টাকার প্রবাহ বৃদ্ধি পাবে।
নিচে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাস এবং চলতি অর্থবছরের ডলার সংগ্রহের একটি তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরা হলো:
| সময়কাল | ডলার ক্রয়ের পরিমাণ (মিলিয়ন মার্কিন ডলারে) | সংগ্রহের উদ্দেশ্য |
|---|---|---|
| ডিসেম্বর ২০২৫ (মাসিক) | ৯২০.৫০ মিলিয়ন ডলার | মুদ্রাবাজারের স্থিতিশীলতা ও রিজার্ভ বৃদ্ধি। |
| ২০২৫-২৬ অর্থবছর (এখন পর্যন্ত) | ৩,০৪৬.৫০ মিলিয়ন ডলার | বৈদেশিক মুদ্রার মজুত শক্তিশালীকরণ। |
| সর্বশেষ নিলাম (২৮ ডিসেম্বর) | ১১৫.০০ মিলিয়ন ডলার | বাণিজ্যিক ব্যাংকের উদ্বৃত্ত ডলার সংগ্রহ। |
অর্থনৈতিক প্রভাব ও প্রয়োজনীয়তা
সাধারণত মুদ্রাবাজারে ডলারের সরবরাহ প্রয়োজনের তুলনায় বেশি হলে টাকার মান কৃত্রিমভাবে বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে, যা রপ্তানি আয়ের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এই ঝুঁকি এড়াতে এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে উদ্বৃত্ত ডলার কিনে নেয়। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শুরু থেকেই কেন্দ্রীয় ব্যাংক ধারাবাহিকভাবে বাজার থেকে ডলার সংগ্রহ করছে। এ পর্যন্ত ৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি সংগ্রহ করা হয়েছে, যা দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতার জন্য একটি ইতিবাচক সংকেত।
বাজার সংশ্লিষ্টদের অভিমত
ব্যাংকিং খাতের বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে বর্তমানে ডলারের তীব্র সংকট নেই বললেই চলে। প্রবাসী আয় (রেমিট্যান্স) এবং রপ্তানি আয়ের ইতিবাচক প্রবৃদ্ধির ফলে ব্যাংকগুলোর কাছে বৈদেশিক মুদ্রার পর্যাপ্ত তারল্য রয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক যদি এই পর্যায়ে ডলার না কিনত, তবে বাজারে ডলারের দাম আরও কমে যাওয়ার সম্ভাবনা ছিল, যা প্রবাসীদের রেমিট্যান্স পাঠানোর আগ্রহ কমিয়ে দিতে পারত। ১২২.৩০ টাকা দরে ডলার কেনার মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ব্যাংক একটি ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান বজায় রাখার চেষ্টা করছে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও রিজার্ভ পরিস্থিতি
বাংলাদেশ ব্যাংক ইঙ্গিত দিয়েছে যে, বাজারের চাহিদা ও সরবরাহ পরিস্থিতি বিবেচনা করে আগামী দিনগুলোতেও এ ধরণের নিলাম প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখা হতে পারে। মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) নির্ধারিত রিজার্ভের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে এই ধরণের ডলার ক্রয় কার্যক্রম সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। তবে মুদ্রাবাজারে যেন টাকার তারল্য সংকট তৈরি না হয়, সেদিকেও কেন্দ্রীয় ব্যাংক সতর্ক দৃষ্টি রাখছে।v