খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬
বাংলাদেশের ব্যাংক খাতে ঋণের ডিফল্টের হার গত বছরের তুলনায় নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক “ব্যাংকিং আপডেট” প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ডিসেম্বর ত্রৈমাসিকের শেষে ডিফল্টের হার ৩১.২০ শতাংশে পৌঁছেছে, যা আগের বছরের একই সময়ে ১৯.৯০ শতাংশের তুলনায় ১২.৩ শতাংশ বেশি।
টাকার পরিমাণে, এই ডিফল্ট হার প্রায় ৫,৫৪,৪৮৬ কোটি টাকা। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, মূলত ২০২৫ সালে প্রবর্তিত আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী ঋণ শ্রেণিবিন্যাসের ফলে এই বৃদ্ধি ঘটেছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ৯০ দিনের বেশি সময় ধরে পরিশোধ না হওয়া ঋণকে ডিফল্ট হিসেবে ধরা হয়, যা পূর্বে ১৮০ দিনের ছিল।
বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই কঠোর ৯০ দিনের নিয়মের কারণে নন-পারফর্মিং ঋণের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তবে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিভিন্ন নীতি সহায়তার কারণে ডিসেম্বর ত্রৈমাসিকে কিছুটা হ্রাস দেখা গেছে। এর মধ্যে অন্যতম পদক্ষেপ হলো ক্ষতিগ্রস্ত ঋণ দ্রুত বাদ দেওয়া; আগে এই ঋণ দুই বছর পরিশোধ না হলে বাদ দেওয়া যেত। নতুন নিয়মে ঋণ আগে বাতিল করা সম্ভব হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরের শেষে ডিফল্টের হার ছিল ৩৬.৩০ শতাংশ। শীর্ষ কর্মকর্তা আরও জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সহায়তায় অনেক প্রতিষ্ঠান তাদের ডিফল্ট ঋণ পুনর্গঠন করেছে। ফলে অনেক ঋণ ডিফল্ট তালিকা থেকে সরানো হয়েছে; অন্যথায় ডিসেম্বরের সংখ্যা আরও বেশি হতো।
ব্যাংকারদের মতে, গত এক বছর-আধাবছরে ঋণ ডিফল্ট বৃদ্ধির মূল কারণ হলো আগে লুকানো খারাপ ঋণ প্রকাশ পায়। আগে যেসব ঋণ নিয়মিত দেখানো হতো অথচ আসলেই পরিশোধ হতো না, তা এখন আর সম্ভব নয়। বিদেশি অডিট প্রতিষ্ঠানগুলোও বিভিন্ন ব্যাংকের ঋণ পর্যালোচনা করেছে। বিশেষ করে পাঁচটি ইসলামী ব্যাংক একীভূত হওয়ার পর ডিফল্ট ঋণের সংখ্যা তীব্রভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
দীর্ঘ সময়ের ব্যাংক খাতে অনিয়ম, জালিয়াতি এবং দুর্নীতির প্রভাব বর্তমান পরিস্থিতিতে স্পষ্ট। এস আলম গ্রুপ, বেক্সিমকো গ্রুপ, নাসা গ্রুপ, বিসমিল্লাহ গ্রুপ, হল-মার্ক গ্রুপ এবং BASIC ব্যাংক সংক্রান্ত কেলেঙ্কারিগুলো ঋণ ডিফল্ট বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
নীচের টেবিলটি প্রধান ব্যাংকগুলোর ডিফল্ট ঋণ হারের সাম্প্রতিক চিত্র দেখাচ্ছে:
| ব্যাংকের ধরন | সেপ্টেম্বর ২০২৫ | ডিসেম্বর ২০২৫ | পরিবর্তন (%) |
|---|---|---|---|
| ইসলামী ব্যাংক | ৪০.৫% | ৩৫.২% | -৫.৩% |
| সাধারণ ব্যাংক | ৩২.০% | ৩১.৮% | -০.২% |
| মোট | ৩৬.৩% | ৩১.২% | -৫.১% |
বিশ্লেষকরা মনে করেন, ইসলামী ব্যাংকগুলো সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হয়েছে, যদিও কিছু সাধারণ ব্যাংকও বড় ধরনের ঋণ অনিয়মের সম্মুখীন হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে ব্যাংক খাতে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি ও কঠোর নিয়ন্ত্রণ ছাড়া ডিফল্ট হার কমানো কঠিন।