খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 23শে মাঘ ১৪৩২ | ৫ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
যুক্তরাজ্যের আর্থিক বাজারে অস্থিরতা বিরাজ করছে, যেখানে ব্যাংক অফ ইংল্যান্ডের সুদের হার অপরিবর্তিত রাখার সম্ভাবনা এবং দেশীয় রাজনীতির চাপ একসাথে প্রভাব ফেলেছে। আর্থিক বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে প্রধানমন্ত্রী কীর স্টারমারের নেতৃত্বের উপর চাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় পাউন্ড এবং সরকারি ঋণের বাজারে ওঠানামা দেখা দিতে পারে।
আইজি-এর প্রধান বাজার বিশ্লেষক ক্রিস বিউচাম্প বলেন, “সার্বজনীন শান্তির পরিপ্রেক্ষিতে কীর স্টারমারের সম্ভাব্য পদত্যাগ বাজারে উদ্বেগ সৃষ্টি করছে। লেবার পার্টির বিভিন্ন অংশ থেকে নেতৃত্বের প্রার্থীদের সম্ভাবনা ব্যালান্স পরিবর্তনের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।”
লিভারপুল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর কস্টাস মিলাস উল্লেখ করেছেন, জনমতের ভিত্তিতে সুদের হার অপরিবর্তিত রাখাই যৌক্তিক। তিনি বলেন, “জনগণের মূল্যস্ফীতি পূর্বাভাস ব্যাংকের পূর্বাভাসের চেয়ে সম্প্রতি আরও যথাযথ। ২০২৬ সালের প্রথম ত্রৈমাসিকে মূল্যস্ফীতি ৩% এর বেশি হবে বলে জনগণ ধারণা করছে, যা সুদের হার অপরিবর্তিত রাখার ইঙ্গিত দিচ্ছে।”
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন ‘ক্রিটিকাল মিনারেলস সামিট’-এ ৫০টি দেশ অংশগ্রহণ করেছে। এখানে চিনের উপর নির্ভরতা কমাতে বেশ কয়েকটি দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্র ৩০ দিনের মধ্যে যৌথ সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
দ্বিতীয়দিকে যুক্তরাজ্যের নির্মাণ খাত সামান্য সংকুচিত হলেও সংকটের তীব্রতা কমেছে। এসএন্ডপি গ্লোবালের সর্বশেষ জরিপ অনুযায়ী, জানুয়ারিতে মোট নির্মাণ কার্যক্রমে পতন কমে ৪৬.৪-এ দাঁড়িয়েছে, যেখানে ৫০-এর নিচের মান অর্থনৈতিক ক্রিয়াকলাপ সংকোচন নির্দেশ করে।
| খাত | সূচক (PMI) | পূর্ব মাস (ডিসেম্বর ২০২৫) | মন্তব্য |
|---|---|---|---|
| মোট নির্মাণ কার্যক্রম | 46.4 | 40.1 | সংকোচন কমেছে, তবে এখনও স্থিতিশীল নয় |
| গৃহনির্মাণ | 42.0 | 39.5 | তিন মাসের মধ্যে সবচেয়ে ধীর সংকোচন |
| বাণিজ্যিক নির্মাণ | 49.8 | 46.7 | প্রায় স্থিতিশীল, চুক্তি বৃদ্ধি |
| সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং | 44.5 | 41.2 | ক্রমশ কমছে, তবে ধীর গতিতে |
এসএন্ডপি গ্লোবালের অর্থনীতি পরিচালক টিম মুর বলেন, “নির্মাণ খাতের পতনের ধাপ ইতিমধ্যেই শেষ হতে শুরু করেছে। নতুন প্রকল্প নিয়ে আশাবাদী অনুভূতি বেড়েছে, চাকরির ক্ষতি কমেছে এবং ব্যবসায়িক ক্রিয়াকলাপের প্রত্যাশা আট মাসের উচ্চতায় পৌঁছেছে।”
মোটকথা, রাজনৈতিক চাপ, সুদের হার ও গৃহনির্মাণের ধীরগতি মিলিতভাবে যুক্তরাজ্যের অর্থনীতিতে অস্থিরতা বজায় রাখছে। তবে সামান্য ইতিবাচক চিহ্ন দেখা যাচ্ছে, যা ২০২৬ সালে খাতের পুনরুদ্ধারের সূচনা করতে পারে।