Khaborwala Online Desk
প্রকাশ: সোমবার, ২২ ডিসেম্বর ২০২৫
ক্রিকেটে একটি বহুল ব্যবহৃত প্রবাদ হলো—ফর্ম সাময়িক, কিন্তু ক্লাস চিরস্থায়ী। এই কথাটির বাস্তব প্রমাণ আবারও দিলেন বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। আইএল টি-টোয়েন্টির গুরুত্বপূর্ণ এক ম্যাচে ব্যাট ও বল হাতে অনবদ্য পারফরম্যান্স দেখিয়ে তিনি শুধু দলকে জয় এনে দেননি, বরং নিজের সামর্থ্য নিয়েও নতুন করে জানান দিয়েছেন।
দুবাই আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে ডেজার্ট ভাইপার্সের বিপক্ষে মাঠে নামে এমআই এমিরেটস। প্রথমে ব্যাট করে ভাইপার্স মাত্র ১২৪ রান সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়, যার পেছনে বড় ভূমিকা রাখেন সাকিব। চার ওভার বল করে মাত্র ১৪ রান দিয়ে দুটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট শিকার করেন তিনি। তার স্পিনের ভেলকিতে প্রতিপক্ষ ব্যাটাররা ছিলেন দিশেহারা।
বিশেষ করে ফখর জামান ও স্যাম কারানের উইকেট ছিল ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া মুহূর্ত। ফখর জামান স্কিড করা বল বুঝতে না পেরে স্টাম্প হারান এবং পরের ওভারে নিখুঁত লুপে স্যাম কারানকে ফিরিয়ে দেন সাকিব নিজেই। দুই ওভারে তার বোলিং ফিগার দাঁড়ায় ২-০-৮-২, যা প্রতিপক্ষের রান তোলার গতি কার্যত থামিয়ে দেয়।
এরপর ব্যাট হাতে নামেন সাকিব। লক্ষ্য ছোট হলেও উইকেট ছিল স্পিন সহায়ক ও কঠিন। দ্রুত রান তোলার চেয়ে উইকেটে টিকে থাকাই ছিল মূল চ্যালেঞ্জ। সেই দায়িত্বই কাঁধে তুলে নেন অভিজ্ঞ এই অলরাউন্ডার। ২৫ বল খেলে করেন ১৭ রান—সংখ্যায় কম মনে হলেও ম্যাচের প্রেক্ষাপটে ছিল অমূল্য।
১৮তম ওভারে তার ব্যাট থেকেই আসে জয়সূচক বাউন্ডারি। দলের বড় হিটাররা যেন নিশ্চিন্তে খেলতে পারেন, সেই ভিত্তিটা গড়ে দেন সাকিব নিজেই। ম্যাচ শেষে স্ট্রাইক রেট নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে নিজের ভূমিকা ব্যাখ্যা করতে ভুল করেননি তিনি। জানান, দলীয় স্বার্থেই তিনি ‘নেগেটিভ রোল’ পালন করেছেন।
এই ম্যাচসেরার পুরস্কার ছিল স্বীকৃত টি-টোয়েন্টিতে সাকিবের ৪৫তম। এই তালিকায় তার ওপরে আছেন কেবল ক্রিস গেইল, কাইরন পোলার্ড ও গ্লেন ম্যাক্সওয়েল। তবে টুর্নামেন্ট সেরার পুরস্কারে সাকিবই সবার শীর্ষে—৮ বার এই কৃতিত্ব অর্জন করেছেন তিনি।
একাদশের বাইরে থাকা, ব্যয়বহুল বোলিংয়ের সমালোচনা—সবকিছুর জবাব মাঠেই দিয়েছেন সাকিব। এই ম্যাচ যেন আবারও প্রমাণ করল, বড় ক্রিকেটাররা কখনো হারিয়ে যান না; তারা শুধু ফিরে আসেন আরও শক্তভাবে।