খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বাংলাদেশি অভিনেত্রী জয়া আহসান বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নিজের ভেতরে ও বাহ্যিক রূপে যে পরিবর্তন লক্ষ্য করছেন, সেটিই এখন তাঁর কাছে বিশেষ উপভোগের বিষয়। সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গে মুক্তিপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র ওসিডি–এর প্রচারণা উপলক্ষে ভারতীয় গণমাধ্যম The Wall–কে দেওয়া এক ভিডিও সাক্ষাৎকারে তিনি ব্যক্তিজীবন, কাজের পরিধি এবং দুই বাংলার চলচ্চিত্র পরিস্থিতি নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন।
গত ৬ ফেব্রুয়ারি পশ্চিমবঙ্গে মুক্তি পাওয়া ‘ওসিডি’ পরিচালনা করেছেন সৌকর্য ঘোষাল। জয়া জানান, এই ছবিতে তাঁর অভিনয়ের জন্য যথেষ্ট ‘পারফরম্যান্স স্পেস’ ছিল এবং চরিত্রটি সামাজিক বার্তাবাহী। তিনি মনে করেন, সাম্প্রতিক সময়ে তাঁর করা তিনটি কাজ—ডিয়ার মা, পুতুলনাচের ইতিকথা এবং ‘ওসিডি’—তিনটিই ভিন্ন মাত্রার। একটি পারিবারিক আবহের, একটি ক্ল্যাসিক সাহিত্যনির্ভর, আর সর্বশেষটি সামাজিক মনস্তত্ত্বভিত্তিক। একজন শিল্পী হিসেবে এ ধরনের বৈচিত্র্যময় চরিত্র পাওয়া তিনি নিজের জন্য সৌভাগ্যের বিষয় বলে মনে করেন।
অন্যদিকে, গত বছরে বাংলাদেশে মুক্তিপ্রাপ্ত তাঁর অভিনীত উৎসব ও তান্ডব বাণিজ্যিকভাবে সফল হয়েছে বলে উল্লেখ করেন জয়া। তিনি জানান, নানা সামাজিক ও রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মধ্যেও দেশের দর্শক ভালো কনটেন্টকে গ্রহণ করছেন। সামনে তাঁর অভিনীত ‘রইদ’ নামের আরেকটি চলচ্চিত্র মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে, যা নিয়েও তিনি আশাবাদী।
নিচে সাম্প্রতিক আলোচিত চলচ্চিত্রগুলোর সংক্ষিপ্ত তথ্য উপস্থাপন করা হলো—
| চলচ্চিত্রের নাম | মুক্তির স্থান | ধরন/বৈশিষ্ট্য | অবস্থা |
|---|---|---|---|
| ওসিডি | পশ্চিমবঙ্গ | সামাজিক মনস্তাত্ত্বিক | চলমান প্রদর্শনী |
| ডিয়ার মা | পশ্চিমবঙ্গ | পারিবারিক | পূর্বে মুক্তিপ্রাপ্ত |
| পুতুলনাচের ইতিকথা | পশ্চিমবঙ্গ | ক্ল্যাসিক সাহিত্যভিত্তিক | পূর্বে মুক্তিপ্রাপ্ত |
| উৎসব | বাংলাদেশ | বাণিজ্যিক | সুপারহিট |
| তান্ডব | বাংলাদেশ | বাণিজ্যিক | ব্লকবাস্টার |
| রইদ | বাংলাদেশ | সম্ভাব্য সামাজিকধর্মী | মুক্তির অপেক্ষায় |
দুই বাংলার চলচ্চিত্র বিনিময় প্রসঙ্গে জয়া আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, পশ্চিমবঙ্গের সিনেমা বাংলাদেশে এবং ঢাকার সিনেমা কলকাতায় নিয়মিত মুক্তি না পাওয়াটা সাংস্কৃতিক আদান-প্রদানের জন্য সীমাবদ্ধতা তৈরি করছে। তবে ভবিষ্যতে পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে তিনি আশাবাদী।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সম্পর্কে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গিও স্পষ্ট। তাঁর মতে, এটি ব্যক্তিগত নয়; বরং তাঁর শিল্পী-পরিচয়ের একটি আনুষ্ঠানিক প্ল্যাটফর্ম। তবু মাঝেমধ্যে ব্যক্তিগত মুহূর্তও শেয়ার করেন।
সাক্ষাৎকারের ‘র্যাপিড ফায়ার’ পর্বে বয়স প্রসঙ্গে প্রশ্নের উত্তরে জয়া বলেন, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি নিজেকে বাবার মতো দেখতে হয়ে উঠছেন—এ বিষয়টি তিনি গভীর আবেগ নিয়ে উপভোগ করেন। পাশাপাশি তিনি জানান, সময়ের সঙ্গে তিনি আরও সাহসী ও অভিযাত্রিক হয়ে উঠছেন; এমন কোনো কাজ নেই, যা করতে তিনি নিজেকে সরাসরি ‘না’ বলেন। বয়সকে তাই তিনি সীমাবদ্ধতা নয়, বরং আত্ম-আবিষ্কারের পরিণত অধ্যায় হিসেবে দেখছেন।