খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
লিওনেল মেসি যেখানেই যান, তাকে ঘিরে উন্মাদনা যেন সকল সীমা ছাড়িয়ে যায়। এবার পুয়ের্তো রিকোয় ইন্টার মায়ামির প্রাক-মৌসুম প্রস্তুতিমূলক এক প্রীতি ম্যাচে সেই উন্মাদনারই এক অনাকাঙ্ক্ষিত শিকার হলেন আর্জেন্টাইন এই কিংবদন্তি। এক ভক্তের অতি-আবেগের আতিশয্যে মাঠের মধ্যেই পড়ে যেতে হলো তাকে। তবে ভাগ্যক্রমে কোনো বড় ধরনের চোটের কবলে পড়েননি বিশ্বজয়ী এই ফুটবল জাদুকর।
ম্যাচটি মূলত গত ১৩ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও মেসির পেশির চোটের কারণে সূচি পরিবর্তন করে আজ সকালে নির্ধারণ করা হয়। পুয়ের্তো রিকোর বায়ামোনের হোয়ান র্যামন লোব্রিয়েল স্টেডিয়ামে ইকুয়েডরের ক্লাব ইন্দেপেদিয়েন্তে দেল ভ্যালের মুখোমুখি হয়েছিল ইন্টার মায়ামি। ২০ হাজার দর্শকের কানায় কানায় পূর্ণ গ্যালারিতে ম্যাচের শুরু থেকেই ছিল টানটান উত্তেজনা। যদিও শুরুর একাদশে মেসি ছিলেন না, তবুও গ্যালারিতে ছিল কেবল তারই জয়ধ্বনি।
ম্যাচের ১৬ মিনিটে সান্তিয়াগো মোরালেসের গোলে মায়ামি লিড নিলেও দ্রুতই সমতায় ফেরে ইন্দেপেদিয়েন্তে। বিরতির পর যখন মেসি বদলি হিসেবে মাঠে নামেন, তখন পুরো স্টেডিয়াম যেন প্রকম্পিত হয়ে ওঠে। ম্যাচের ৭০ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে দলকে ২-১ ব্যবধানের জয় এনে দেন তিনি।
ম্যাচ যখন শেষের পথে, ঠিক ৮৮ মিনিটের মাথায় ঘটে সেই নাটকীয় ঘটনা। কয়েকজন ভক্ত নিরাপত্তার বেষ্টনী টপকে আচমকা মাঠে ঢুকে পড়েন। তাদেরই একজন মেসিকে জড়িয়ে ধরতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন এবং ধাক্কা লেগে মেসি সরাসরি ঘাসের ওপর লুটিয়ে পড়েন। একই সময় এক নিরাপত্তাকর্মী সেই ভক্তকে ঠেকাতে গিয়ে তিনিও ভারসাম্য হারান। ফলে মেসি, ভক্ত এবং নিরাপত্তাকর্মী—তিনজনই একসঙ্গে মাটিতে পড়ে গিয়ে এক বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি করেন।
নিচে এই ম্যাচের একটি সংক্ষিপ্ত পরিসংখ্যান এবং ঘটনার সারসংক্ষেপ দেওয়া হলো:
| বিষয় | বিস্তারিত তথ্য |
| প্রতিপক্ষ | ইন্দেপেদিয়েন্তে দেল ভ্যালে (ইকুয়েডর) |
| মাঠ ও দর্শক | হোয়ান র্যামন লোব্রিয়েল স্টেডিয়াম (২০,০০০ দর্শক) |
| ফলাফল | ইন্টার মায়ামি ২ – ১ ইন্দেপেদিয়েন্তে দেল ভ্যালে |
| গোলদাতা (মায়ামি) | সান্তিয়াগো মোরালেস (১৬ মি.), লিওনেল মেসি (৭০ মি. পেনাল্টি) |
| ঘটনার সময় | ম্যাচের ৮৮তম মিনিটে ভক্তের অনুপ্রবেশ |
| পরবর্তী ম্যাচ | ২ মার্চ, প্রতিপক্ষ: অরল্যান্ডো সিটি |
মাঠে পড়ে যাওয়ার পর মেসি দ্রুতই উঠে দাঁড়ান এবং দর্শকদের আশ্বস্ত করেন যে তিনি ঠিক আছেন। তবে এই ঘটনার পর পরিস্থিতি এতটাই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় যে, মাঠ খালি করতে পুলিশ মোতায়েন করতে হয়। মাঠে ঢুকে পড়া সমর্থকদের সিংহভাগই ছিল কিশোর বয়সী, যারা প্রিয় তারকাকে এক পলক ছুঁয়ে দেখার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছিল। ম্যাচ শেষে বিশেষ নিরাপত্তা বেষ্টনী দিয়ে মেসিকে ড্রেসিংরুমে নিয়ে যাওয়া হয়।
ইন্টার মায়ামির জন্য এমএলএস (MLS) নতুন মৌসুমের শুরুটা সুখকর হয়নি। লস অ্যাঞ্জেলেস এফসির কাছে ৩-০ গোলে হারের পর এই জয়টি দলের আত্মবিশ্বাস জোগাবে। তবে মাচেরানোর শিষ্যদের মূল চ্যালেঞ্জ শুরু হবে আগামী ২ মার্চ অরল্যান্ডো সিটির বিপক্ষে ম্যাচে। ভক্তদের এমন আচরণে মেসির নিরাপত্তা নিয়ে আবারও প্রশ্ন উঠেছে আন্তর্জাতিক ফুটবল অঙ্গনে।