খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ই নভেম্বর ২০২৫, ৫:৩ পিএম
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো হাউসে ভল্টের তালা ভাঙে এবং অস্ত্র-গুলির চুরির ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যা থেকে ২৮ অক্টোবর সকাল সোয়া ৭টার মধ্যে ভল্টে রাখা অস্ত্র চুরি হয়। এই সময়কার কার্গো হাউসের নিরাপত্তায় মোট ১৭ জন দায়িত্ব পালন করছিলেন। পুলিশসহ একাধিক সংস্থা এই ঘটনায় তদন্ত চালাচ্ছে। বিমান কর্তৃপক্ষ চারজন নিরাপত্তাকর্মীর কাছ থেকে কৈফিয়ত তলব করেছে।
গত ১৮ অক্টোবর কার্গো হাউসে আগুন লাগার পর ভল্ট ভেঙে একটি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের ৩৮টি আগ্নেয়াস্ত্র ও এক লাখ গুলি চুরি হয়। স্ট্রং ভল্টে থাকা ২০৮ নম্বর কার্টনের ২১টি বক্সের সাতটির হদিস নেই। বিমান মন্ত্রণালয় তাদের তদন্ত প্রতিবেদনে মাত্র সাতটি আগ্নেয়াস্ত্র চুরি হওয়ার কথা উল্লেখ করেছে এবং প্রতিরোধে সুপারিশ দিয়েছে।
পুলিশের তদন্তকারীরা বলছেন, ওই ১৭ জন নিরাপত্তাকর্মীর কেউ চুরিতে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত থাকতে পারে অথবা চরম গাফিলতির কারণে ঘটনাটি ঘটেছে। তাঁদের ব্যক্তিগত ফোনের কল ডিটেইলস (সিডিআর) যাচাই করা হচ্ছে। ২৭ অক্টোবর থেকে ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত তারা কাকে ফোন করেছেন এবং কার থেকে কল এসেছে তা বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।
ভল্টের নিরাপত্তা দায়িত্বে থাকা বিমান, আর্মড পুলিশ ও আনসার সদস্যরা ডিউটি রেজিস্টারে ‘সব ঠিক আছে’ লিখে দায়িত্ব হস্তান্তর করেন। তদুপরি, রেজিস্টারে লেখা সত্ত্বেও ভল্টের তালা ভাঙা ছিল এবং অস্ত্র অনুপস্থিত ছিল। এই বিষয়টি তদন্তকারীদের কাছে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ভবিষ্যৎ তদন্তে জানা যাচ্ছে, ভল্ট খোলার তথ্য সকাল ৭টা ৭ মিনিটে জানা যায়। তবে রেজিস্টারে তার আগের রাত ১০টায় ‘সব ঠিক আছে’ লেখা ছিল। নিরাপত্তাকর্মীরা কি তথ্য গোপন করেছেন, নাকি শুধুমাত্র কাগজে-কলমে দায়িত্ব পালন করেছেন, তা জানা এখনও বাকি।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জনসংযোগ বিভাগের জিএম বোশরা ইসলাম জানিয়েছেন, দায়িত্বরতদের নোটিশ দেওয়া হয়েছে এবং তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে দুই সপ্তাহ পেরিয়েও বিমান কর্তৃপক্ষ মামলা করেনি। চুরি হওয়া পণ্যের পূর্ণ তালিকাও এখনও প্রস্তুত হয়নি।
কার্যক্রমে ভাড়াটে তরুণ ও কিশোরদের ব্যবহারের কারণে নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, অস্ত্র ও গোলাবারু ভুল হাতে গেলে দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি প্রভাবিত হতে পারে। এই ঘটনায় নিরাপত্তায় ব্যর্থতা ও রেজিস্টারে মিথ্যা তথ্য থাকা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্টরা এখনও কর্মরত।
তদন্তকারীরা বলছেন, মিথ্যা তথ্য, ভল্ট পরিদর্শন না করা, দেরিতে জিডি এবং মামলা না করা পুরো তদন্তকে জটিল করেছে। ফলে চুরির সময়, জড়িতদের ভূমিকা এবং চুরি হওয়া পণ্যের প্রকৃত পরিমাণ নির্ধারণও কঠিন হয়ে পড়েছে।
খবরওয়ালা/এসএস
মন্তব্য