খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬
ভোলার চরফ্যাশন উপজেলায় সিএনজি চালিত অটোরিকশার চালকদের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় জেলা বাস শ্রমিক ইউনিয়ন যে অনির্দিষ্টকালের বাস ধর্মঘট ঘোষণা করেছিল, তা সোমবার (৯ মার্চ) সন্ধ্যায় প্রত্যাহার করা হয়েছে। ধর্মঘট প্রত্যাহারের ফলে ভোলার সব অভ্যন্তরীণ রুটে বাস চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। এই পদক্ষেপে জেলা বাস পরিবহন ব্যবস্থায় অচলাবস্থা শিথিল হয়েছে।
জেলা বাস শ্রমিক ইউনিয়নের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রোববার (৮ মার্চ) দুপুরে চরফ্যাশন উপজেলার টিবি স্কুল এলাকা এবং বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল বাসস্ট্যান্ডের নিকট সিএনজি চালকদের হাতে বাস শ্রমিকদের ওপর হামলা এবং বাস ও ডিপো ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার তীব্রতার কারণে শ্রমিকরা যথাযথ বিচারের দাবিতে আন্দোলনের ডাক দেন। পরবর্তীতে জেলার সকল রুটে বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
ভোলার বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল বাসস্ট্যান্ডের ডিপো কর্মকর্তা অসীম দত্ত জানিয়েছেন, “সিএনজি চালকেরা রোববার দুপুরে জোরপূর্বক বাস মালিক সমিতির নিজস্ব ডিপো থেকে বাস বের করে এবং বাস শ্রমিকদের ওপর হামলা চালায়। পাশাপাশি বাস ও ডিপো ভাঙচুর করা হয়। এসব ঘটনার প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা ও দায়ীদের বিচারের দাবিতে শ্রমিকরা ধর্মঘটের ঘোষণা দেয়।”
পরবর্তীতে জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমান এবং পুলিশ সুপার শহিদুল্লাহ কাওছার মঙ্গলবার বিকেলে উভয় পক্ষকে নিয়ে আলোচনা সভার আয়োজনের ঘোষণা দেন। তাদের আশ্বাস এবং সমাধানমূলক উদ্যোগে বাস শ্রমিক ইউনিয়ন ধর্মঘট প্রত্যাহার করে। জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমান বলেন, “আমরা উভয় পক্ষকে নিয়ে বসে বিষয়টি সমাধানের জন্য কাজ করছি। আগামী দিনে এমন ঘটনা পুনরাবৃত্তি না ঘটে তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন সক্রিয়ভাবে তৎপর থাকবে।”
এদিকে বাস মালিক, শ্রমিক এবং সিএনজি মালিক সমিতির নেতাদের সঙ্গে মঙ্গলবার (১০ মার্চ) বিকেলে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে একটি বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। এতে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন। বৈঠকের উদ্দেশ্য হলো উভয় পক্ষের মধ্যে শৃঙ্খলা, নিরাপত্তা এবং চলমান পরিবহন সেবা নিশ্চিত করা।
ঘটনার প্রেক্ষাপট এবং ধর্মঘট সম্পর্কিত সংক্ষিপ্ত তথ্য নিচের টেবিলে তুলে ধরা হলো—
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| ঘটনা স্থান | চরফ্যাশন উপজেলা, ভোলা |
| ঘটনার তারিখ ও সময় | ৮ মার্চ, দুপুর পৌনে ১টা |
| সংঘর্ষে জড়িত | সিএনজি চালক ও বাস শ্রমিক |
| ভাঙচুরের এলাকা | বাস, ডিপো, কাউন্টারের অংশ |
| ধর্মঘটের সময় | ৮ মার্চ দুপুর ১টা থেকে ৯ মার্চ সন্ধ্যা পর্যন্ত |
| ধর্মঘট প্রত্যাহারের তারিখ | ৯ মার্চ, সন্ধ্যা |
| বৈঠকের তারিখ | ১০ মার্চ, বিকেল |
| বৈঠকে উপস্থিত | জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, মালিক ও শ্রমিক নেতারা |
| ধর্মঘটের কারণ | হামলায় জড়িতদের বিচারের দাবি ও নিরাপত্তা |
বিশ্লেষকদের মতে, ভোলায় এই ঘটনা পরিবহন খাতের শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার গুরুত্বকে পুনর্ব্যক্ত করেছে। প্রশাসনের সক্রিয় উদ্যোগ এবং শ্রমিকদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে দ্রুত সমাধান পাওয়া গেলে ভবিষ্যতে একই ধরনের সংঘর্ষ প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে এবং যাত্রী ও শ্রমিক উভয়ের স্বার্থ রক্ষা করা সম্ভব হবে।