গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে এক নারীকে গাছে বেঁধে অমানবিক নির্যাতনের ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এ ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়ভাবে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে নির্যাতনের শিকার নারী শহিদা বেগম (৪৫) জানিয়েছেন, তিনি পলাশবাড়ী উপজেলার মনোহরপুর ইউনিয়নের তালুক ঘোড়াবান্ধা গ্রামের দিনমজুর দুলা মিয়ার স্ত্রী।
মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) দুপুরে ঘটনাস্থলে গিয়ে শহিদা বেগম ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেন প্রতিবেদক। কান্নাজড়িত কণ্ঠে শহিদা বলেন, “গত রবিবার দুপুরে স্থানীয় প্রভাবশালী ইউনুস মিয়া ও তার লোকজন আমাকে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখে। পরে তারা বেধড়ক মারপিট করে। মাথার চুল কেটে দেয়, জুতার মালা পরিয়ে দেয়। পরে বাড়িঘরে হামলা করে ভাঙচুর ও লুটপাট করে।”
তিনি আরও বলেন, “তাদের সমাজে ব্যাপক প্রভাব। কেউ মুখ খুলতে সাহস করে না। আমি হরিনাবাড়ী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে অভিযোগ দিয়েছি।”
শহিদা বেগমের অভিযোগ, তাঁর শরীরে এখনো নির্যাতনের চিহ্ন রয়েছে। “গরু বিক্রির টাকা, ঘরের জিনিসপত্র সব লুটে নিয়েছে। তারা বলেছে আমাকে এই গ্রামে থাকতে দেবে না। আমার জমি দখল করতে চায়। পূর্বশত্রুতার জেরে এসব করছে। মামলা না করার জন্য হুমকি দিচ্ছে। ভয়ে বাড়ির বাইরে যেতে পারছি না। আমরা এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমি এর বিচার চাই।”
সরেজমিন ও অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত রবিবার শহিদা বেগম পার্শ্ববর্তী গ্রামে বড় জায়ের বাপের বাড়িতে পোশাক তৈরি করতে গিয়েছিলেন। বাড়ি ফেরার পর স্থানীয় ইউনুস মিয়া ও তাঁর সহযোগীরা ‘পরকীয়ার’ অপবাদ দিয়ে তাঁকে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখে। প্রায় আড়াই ঘণ্টা ধরে কাঠ ও বাঁশের লাঠি দিয়ে মারধর, মাথার চুল কেটে ফেলা, মুখে রং মাখানো, জুতার মালা পরানো এবং বিবস্ত্র অবস্থায় রাখা হয় তাঁকে। একপর্যায়ে শহিদা জ্ঞান হারান। পরে স্থানীয় ইউপি সদস্য আসাদুজ্জামান মজনু তাঁকে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।
তিনি বলেন, “খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই নারীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠাই। আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পরামর্শ দিয়েছি।”
ঘটনার বিষয়ে ইউনুস মিয়ার সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করা হলে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কোনো কথা বলেননি। বরং তাঁর লোকজন সাংবাদিকের ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন।
হরিনাবাড়ী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের উপপরিদর্শক (এসআই) সবুজার আলী বলেন, “প্রাথমিক তদন্তে নির্যাতনের সত্যতা পাওয়া গেছে। থানায় মামলা করতে বলা হয়েছে।”
এ ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভ বিরাজ করছে। ভুক্তভোগী নারী ও তাঁর পরিবার প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু বিচার ও নিরাপত্তার দাবি জানিয়েছেন।
খবরওয়ালা/এসআই



