খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ২১ জুন ২০২৬
জয়পুরহাট জেলার আক্কেলপুর উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সাইদুল ইসলামের মাদক সেবনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার (ভাইরাল) পর তাঁকে দলীয় পদ থেকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সুনির্দিষ্ট সাংগঠনিক পদক্ষেপ হিসেবে গোপীনাথপুর ইউনিয়ন বিএনপির বিদ্যমান কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করে ৩১ সদস্যবিশিষ্ট একটি নতুন আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। গত শনিবার রাতে আক্কেলপুর উপজেলা বিএনপির পক্ষ থেকে সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও প্রাথমিক পদক্ষেপ
দলীয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে গোপীনাথপুর ইউনিয়ন বিএনপির তৎকালীন সভাপতি সাইদুল ইসলামের মাদক সেবনের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর তা স্থানীয় জনমনে এবং রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দেয়। উদ্ভূত পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে আক্কেলপুর উপজেলা বিএনপি তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করে। মঙ্গলবার রাতেই অভিযুক্ত নেতা সাইদুল ইসলামকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ জারি করা হয়। একই সঙ্গে ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের উদ্দেশ্যে ৫ সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
তদন্ত প্রতিবেদন ও সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত
উপজেলা বিএনপির নির্দেশনা অনুযায়ী গঠিত ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি নির্ধারিত সময়ে তদন্ত কাজ সম্পন্ন করে। শনিবার রাতে উক্ত তদন্ত কমিটির আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন উপজেলা বিএনপির কার্যালয়ে জমা দেওয়া হয়। তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর উপজেলা বিএনপি সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়। সেই সিদ্ধান্ত মোতাবেক সাইদুল ইসলামকে গোপীনাথপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতির পদ থেকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ইউনিয়ন কমিটি বিলুপ্ত করে এস এম কায়কোবাদকে আহ্বায়ক মনোনীত করে ৩১ সদস্যের একটি নতুন আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে।
অব্যাহতি পত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট দায়ে সাইদুল ইসলামকে গোপীনাথপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতির পদ থেকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি প্রদান করা হলো। এর পর থেকে তাঁর সঙ্গে দলীয় কোনো কর্মকাণ্ডে কেউ জড়িত হলে, তা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ব্যক্তিগত দায় হিসেবে গণ্য করা হবে; দল এর কোনো দায়ভার নেবে না।
ঘটনার ধারাবাহিকতা এবং গৃহীত সাংগঠনিক ব্যবস্থার বিবরণ নিচে টেবিলের মাধ্যমে সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:
| ক্রমিক | ঘটনার বিবরণ ও সাংগঠনিক পদক্ষেপ | সময়কাল ও তারিখ |
| ১ | ফেসবুকে মাদক সেবনের ভিডিও ভাইরাল এবং শোকজ নোটিশ জারি | গত মঙ্গলবার |
| ২ | ৫ সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন | গত মঙ্গলবার (রাতেই) |
| ৩ | তদন্ত কমিটির মাঠপর্যায়ে তদন্ত সম্পন্ন | গত শনিবার (বিকেলে) |
| ৪ | তদন্ত প্রতিবেদন জমা ও সভাপতির পদ থেকে সাময়িক অব্যাহতি | গত শনিবার (রাতে) |
| ৫ | গোপীনাথপুর ইউনিয়ন কমিটি বিলুপ্ত ও নতুন আহ্বায়ক কমিটি গঠন | গত শনিবার (রাতে) |
| ৬ | নতুন কমিটির রূপরেখা ও প্রধানের নাম | ৩১ সদস্যবিশিষ্ট (আহ্বায়ক: এস এম কায়কোবাদ) |
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের বক্তব্য
এই বিষয়ে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা সাইদুল ইসলাম জানান, ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার ঘটনাটি সম্পূর্ণ পরিকল্পিত। শনিবার বিকেলে তদন্ত কমিটির সদস্যরা সরজমিনে তদন্ত করেছেন এবং তাঁর দাবি অনুযায়ী, তদন্তের সময় তাঁর পক্ষে অধিকাংশ লোকজন কথা বলেছেন। তদন্ত কমিটির সদস্যরা চলে যাওয়ার পর রাতে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে তিনি সাময়িক অব্যাহতির চিঠি পেয়েছেন। একই সঙ্গে ইউনিয়ন বিএনপির কমিটি ভেঙে দেওয়ার বিষয়টিও তিনি অবগত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেন।
অন্যদিকে, আক্কেলপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি কামরুজ্জামান কমল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে জানান, মাদক সেবনের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর যথাযথ নিয়ম মেনে সাইদুল ইসলামকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল এবং ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। তদন্ত কমিটির দাখিলকৃত চূড়ান্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করেই তাঁকে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতির পদ থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে এবং রাজনৈতিক স্থবিরতা এড়াতে ইউনিয়ন কমিটি ভেঙে দিয়ে নতুন আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে।