খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬
মাদারীপুরের ডাসার উপজেলায় প্রেমিকার বাড়িতে বিয়ের স্বীকৃতি ও প্রিয় মানুষকে ফিরে পাওয়ার দাবিতে এক যুবকের অনশন শুরু হওয়ায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনা সামাজিক ও স্থানীয় গণমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে।
অনশনে বসা যুবক হলেন বিশ্বজিৎ পাত্র (২৮), যিনি ডাসার উপজেলার নবগ্রাম ইউনিয়নের আলিসাকান্দি গ্রামের বাসিন্দা এবং বিপ্রদাশ পাত্রের ছেলে। তাঁর প্রেমিকা অনুশীলা বাড়ৈ, পাশের বাড়ির বাসিন্দা। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সকাল থেকে বিশ্বজিৎ অনশনে বসেছেন, দাবি করেছেন যে বিয়ের স্বীকৃতি ছাড়া তিনি শান্তিতে থাকতে পারছেন না।
বিশ্বজিৎ পাত্র বলেন, “আমি এবং অনুশীলা ১০ বছর আগে প্রেমের সম্পর্ক শুরু করি। পরে সেই সম্পর্ক এগিয়ে গিয়ে কোর্ট ম্যারেজের মাধ্যমে চার বছর আগে বৈধ বিবাহে পরিণত হয়। স্ত্রীর শিক্ষার জন্য আমি প্রায় ১৫-২০ লাখ টাকা খরচ করেছি। কিন্তু সম্প্রতি অনুশীলা একটি চাকরিতে যোগদানের পর থেকে আমার সঙ্গে যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছেন। তাই বাধ্য হয়ে আমি বিয়ের স্বীকৃতি ও প্রিয় মানুষকে ফিরে পাওয়ার দাবিতে অনশনে বসেছি।”
বিশ্বজিতের এই অনশন সামাজিক ও স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচিত হয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, “অনশন এবং প্রেমের বিষয়টি এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে, অনেকেই ঘটনাস্থলে ভিড় করেছেন।”
অনুশীলা বাড়ৈ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমার সঙ্গে বিশ্বজিতের সম্পর্ক ছিল, তবে জোরপূর্বক কোর্ট ম্যারেজে স্বাক্ষর নেয়া হয়েছিল। আমি এক সপ্তাহ আগে ডিভোর্স করেছি এবং এখন আর সংসার করার কোনো ইচ্ছা নেই। বিশ্বজিতের অনশন সম্পূর্ণ অনভিপ্রেত।”
ডাসার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তারিকুল ইসলাম জানান, “ঘটনার বিষয়টি সম্পর্কে আমরা খোঁজ নিচ্ছি। এখনো থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| যুবকের নাম | বিশ্বজিৎ পাত্র (২৮) |
| গ্রামের নাম | আলিসাকান্দি, নবগ্রাম ইউনিয়ন, ডাসার, মাদারীপুর |
| প্রেমিকার নাম | অনুশীলা বাড়ৈ |
| সম্পর্কের ইতিহাস | ১০ বছর প্রেম, ৪ বছর কোর্ট ম্যারেজ |
| খরচের পরিমাণ | ১৫–২০ লাখ টাকা (শিক্ষা ও অন্যান্য খরচ) |
| দাবি | বিয়ের স্বীকৃতি ও পুনর্মিলন |
| প্রেমিকার প্রতিক্রিয়া | ডিভোর্স করেছেন, সংসার করার ইচ্ছা নেই |
| পুলিশী অবস্থান | তদন্ত চলছে, লিখিত অভিযোগ না হলে আইনগত ব্যবস্থা স্থগিত |
মাদারীপুরের এই অনশন কেবল দুটি মানুষের ব্যক্তিগত বিষয় নয়, বরং এটি সামাজিক ও স্থানীয় গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রেমিকের বিয়ের দাবির সঙ্গে প্রেমিকার প্রত্যাখ্যান এবং পুলিশের আপাত নীরব অবস্থান এলাকায় উত্তেজনা বৃদ্ধি করেছে। স্থানীয়রা বলছেন, পরিস্থিতি যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে তা স্থানীয় প্রশাসনকে হস্তক্ষেপ করতে বাধ্য করবে।
বর্তমানে, যুবকের অনশন ও প্রেমিকার অবস্থান নিয়েই পরিস্থিতি অচল। আইনগত ব্যবস্থার আলোকে এই বিষয়টি ভবিষ্যতে কিভাবে সমাধান হয়, তা স্থানীয় জনগণ ও সামাজিক পর্যবেক্ষকদের কাছে মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।