খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক:
প্রকাশ: 26শে শ্রাবণ ১৪৩২ | ১০ই আগস্ট ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
সরকার ও জনগণের মানসিক সংস্কার ছাড়া রাষ্ট্রকাঠামোর সংস্কার সফল হবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ।
তিনি বলেন, ‘আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি এইভাবে গ্রহণ করে আমরা প্রতিদিন সংস্কারের মধ্য দিয়ে যাব, একটি জনকল্যাণমুখী সংস্কারের মধ্য দিয়ে যাব, একটি জনকল্যাণকর রাষ্ট্র ব্যবস্থা, সমাজ ব্যবস্থা বিনির্মাণের জন্য কাজ করব।’
রবিবার (১০ আগস্ট) বিকালে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ এর এক অনুষ্ঠানে সালাহউদ্দিন আহমেদ এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘আমরা রাষ্ট্রীয়ভাবে ইদানীং সবাই একটা কথা শুনি যে, সংস্কার হচ্ছে। রাষ্ট্র কাঠামোর সংস্কারের মধ্য দিয়ে কাঙ্ক্ষিত মানবিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা পরিচালিত হয়। কারণ এই রাষ্ট্র ব্যবস্থাটা যারা পরিচালনা করবে, তাদের মানসিক সংস্কার হওয়া দরকার, জনগণের মানসিক সংস্কার হওয়া দরকার, আমাদের দৃষ্টিভঙ্গির সংস্কার হওয়া দরকার এবং এই সমাজের মানুষের, আমাদের, রাজনৈতিক নেতাদের যারা রাষ্ট্র পরিচালনা করবেন তাদের। অর্থাৎ সম্মিলিতভাবে সবার মানসিক সংস্কারের মধ্য দিয়ে আমরা যদি রাষ্ট্র কাঠামো সংস্কারটা বাস্তবায়ন করতে পারি, তাহলেই দুইয়ে দুইয়ে চার হবে। তাহলেই আমরা একটা কল্যাণমূলক মানবিক রাষ্ট্র পেতে পারব।’
তিনি বলেন, ‘কারণ সংস্কারের মধ্য দিয়ে আমরা একটা গণতান্ত্রিক সংবিধান পেলাম। সেই গণতান্ত্রিক সংবিধানের মাধ্যমে যে সরকার ব্যবস্থা গঠিত হবে তাদের সেই ব্যবস্থা যারা পরিচালনা করবে, তাদের মানসিক সংস্কার এবং দৃষ্টিভঙ্গি না পাল্টায় এবং অপরপক্ষে যারা রাষ্ট্রের জনগণ, যারা বেনিফিসিয়ারি, সরকার যাদের কাছে দায়বদ্ধ, সমাজের কাছে দায়বদ্ধ তাদেরও যদি দৃষ্টিভঙ্গি না পাল্টায়, তাহলে মানবিক রাষ্ট্র হবে কীভাবে? আমরা জনগণ হিসেবে যদি মনে করি, সব দায়িত্ব সরকারের সেটা একটা ভুল ধারণা। রবার্ট কেনেডি যখন প্রথমবার আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন, তখন তিনি বলেছিলেন, আমি তিন জেনারেশনকে কিছু দিতে পারব না, হয়তো থার্ড জেনারেশনকে কিছু দিতে পারি।’
বিএনপির এই সিনিয়র নেতা বলেন, ‘আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি এমন হবে যে, সরকার আমাদের জন্য কী করে তা নয়। জনগণ দেশের জন্য কী করবে সেটাও ভাবতে হবে? এটাই হচ্ছে দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন। তাহলেই আমরা জনগণ এবং দায়বদ্ধ সরকার জনগণের কাছে এই উভয়ে মিলে একটা আমাদের কাঙ্ক্ষিত রাষ্ট্র ব্যবস্থা, সরকার ব্যবস্থা, সমাজ ব্যবস্থা গতিশীল করতে পারবে। যেই স্বপ্ন ছিল স্বাধীনতার শহীদদের, মুক্তিযোদ্ধাদের, যেই স্বপ্ন ছিল ২০২৪ সালের আমাদের ছাত্র গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের। যারা রক্তদান করেছেন, যারা জীবন দিয়েছেন, যারা পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন তাদের। আমরা যেন সেই সমাজ নির্মাণ করতে পারি, যারা আজকে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন, তাদের সন্তানরা যেন তাদের কাঙ্ক্ষিত সমাজ ও রাষ্ট্র ব্যবস্থা দেখে যেতে পারে… আমরা সবসময় বলি শত সহস্র শহীদের রক্তের আকাঙ্ক্ষা আমাদের পূরণ করতে হবে।’
ক্যান্সার আক্রান্ত রোগী ও অসহায় অসুস্থ ব্যক্তিদের চিকিৎসা সহায়তা দিতে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ‘আমরা বিএনপি পরিবার’।
‘সেই ফ্যাসিস্টের মধ্যে কোনো অনুশোচনা নেই’
আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন বলেন, ‘সেই ফ্যাসিস্টের মধ্যে কোনো অনুশোচনা নেই, বেদনা নেই, কোনো পরাজয়ের স্বীকারোক্তি নেই বরং দেখি দাম্ভিকতা। সেই স্বৈরাচারে দাম্ভিক আচরণ আমরা যতই দেখব, আমাদের মনে হবে যে, ভবিষ্যতে এরকম কোনো ফ্যাসিবাদের উৎপত্তি যাতে না হয়, সেইভাবে যেন আমরা রাষ্ট্র ব্যবস্থাটা পরিচালিত করি।’
‘আমরা বিএনপি পরিবার’ এর আহ্বায়ক আতিকুর রহমান রুমনের সভাপতিত্বে ও সদস্য জাহিদুল ইসলাম রনির সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বিএনপি মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল, কোষাধ্যক্ষ রশিদুজ্জামান মিল্লাহ, তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সহ-সম্পাদক আশরাফ উদ্দিন বকুল উপস্থিত ছিলেন।
খবরওয়ালা/এসআর