খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 18শে চৈত্র ১৪৩২ | ১ই এপ্রিল ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
মানিকগঞ্জে হঠাৎ করেই উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে হামের সংক্রমণ। গত ৪৮ ঘণ্টায় জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ১৪ জন শিশু হামে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলার সিভিল সার্জন ডা. এ কে এম মোফাখখারুল ইসলাম।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত জেলায় মোট ৩৯ জন শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১১ জন, মুন্নু মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৮ জন, সিংগাইর উপজেলা হাসপাতালে ৩ জন, ঘিওর উপজেলা হাসপাতালে ৩ জন, সাটুরিয়া উপজেলা হাসপাতালে ৫ জন, মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে ১ জন, দৌলতপুর উপজেলা হাসপাতালে ৫ জন এবং হরিরামপুর উপজেলা হাসপাতালে ৩ জন রোগী ভর্তি হয়েছিলেন।
হামের সংক্রমণ মোকাবেলায় মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ইতোমধ্যে ১০ শয্যার একটি পৃথক বিশেষ ইউনিট চালু করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। হাসপাতালের শিশু বিভাগে মোট ৪৮টি শয্যা থাকলেও রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় আলাদা ইউনিট চালুর প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়।
সিভিল সার্জন ডা. মোফাখখারুল ইসলাম বলেন, “হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। আক্রান্ত শিশুদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা নিলে অধিকাংশ রোগী দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠে। তবে সচেতনতা অত্যন্ত জরুরি। হামের লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে, কোনোভাবেই অবহেলা করা যাবে না।”
এদিকে, সংক্রমণ বৃদ্ধির কারণে আক্রান্ত শিশুদের স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। দৌলতপুর উপজেলার চরকাটারি গ্রামের বাসিন্দা রুবেল মিয়া জানান, ঈদের ছুটিতে বাড়ি ফেরার পরদিন থেকেই তার এক বছরের ছেলের জ্বর শুরু হয়। স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নেওয়ার পরও জ্বর না কমায় এবং পরে শরীরে লালচে ফুসকুড়ি দেখা দিলে তাকে মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসকরা নিশ্চিত করেন, শিশুটি হামে আক্রান্ত। তিনি আরও জানান, শিশুটিকে জন্মের পর কিছু টিকা দেওয়া হলেও সব টিকা সম্পন্ন করা হয়নি।
মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. হুমায়ুন কবীর বলেন, “যেসব শিশু নিয়মিত টিকা পায়নি, তাদের মধ্যেই হামের সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি দেখা যাচ্ছে। তাই সময়মতো টিকাদান নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।”
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হামের বিস্তার রোধে নিয়মিত টিকাদানের কোনো বিকল্প নেই। পাশাপাশি আক্রান্ত শিশুদের দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আনা এবং সচেতনতা বৃদ্ধি করাও জরুরি।