খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 3শে পৌষ ১৪৩২ | ১৭ই ডিসেম্বর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
বিশ্বের শেয়ারবাজারে মঙ্গলবার সামগ্রিকভাবে মন্দাভাব লক্ষ্য করা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে শীতলতার স্পষ্ট ইঙ্গিত এবং ইউক্রেন যুদ্ধ অবসানের সম্ভাবনা ঘিরে নতুন আশাবাদের কারণে বিনিয়োগকারীরা সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। অর্থনৈতিক সূচকের দুর্বলতা ও ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তন—এই দুইয়ের মিলিত প্রভাব বিশ্বজুড়ে শেয়ার, পণ্য ও বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে ঝুঁকি নেওয়ার প্রবণতা কমিয়ে দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম দপ্তরের প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, নভেম্বর মাসে দেশটির বেকারত্বের হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ৬ শতাংশে, যা ২০২১ সালের পর সর্বোচ্চ। এটি স্পষ্টভাবে নির্দেশ করে যে, দীর্ঘদিন ধরে শক্তিশালী থাকা মার্কিন শ্রমবাজার এখন ধীরে ধীরে শীতল হচ্ছে। দীর্ঘ সরকারি অচলাবস্থার কারণে বিলম্বিত এই প্রতিবেদনে আরও জানা যায়, অক্টোবর মাসে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে ১ লাখ ৫ হাজার কর্মসংস্থান কমে গেছে। যদিও নভেম্বরে নতুন করে ৬৪ হাজার কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে, তবে বছরের শুরুর দিকের তুলনায় নিয়োগের গতি ছিল উল্লেখযোগ্যভাবে কম।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এই তথ্য প্রত্যাশার তুলনায় দুর্বল হলেও তাৎক্ষণিক মন্দার আশঙ্কা তৈরি করার মতো ভয়াবহ নয়। ফরেক্স ডটকমের বিশ্লেষক ফাওয়াদ রাজাকজাদা জানিয়েছেন, এই প্রতিবেদনের পর আগামী মার্চেই মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ সুদহার কমাতে পারে—এমন সম্ভাবনা বেড়ে প্রায় ৬০ শতাংশে পৌঁছেছে, যা আগে ছিল প্রায় ৫০ শতাংশ। সাধারণত সুদ কমার প্রত্যাশা শেয়ারবাজারকে সহায়তা করে, কিন্তু বিনিয়োগকারীরা এবার সস্তা ঋণের সম্ভাবনার চেয়ে অর্থনৈতিক শ্লথতার দিকেই বেশি নজর দিয়েছেন।
অন্যদিকে ভোক্তা ব্যয়ের তথ্য মিশ্র চিত্র তুলে ধরেছে। অক্টোবর মাসে যুক্তরাষ্ট্রের খুচরা বিক্রি অপরিবর্তিত ছিল, যেখানে সামান্য বৃদ্ধির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল। সেপ্টেম্বরের বিক্রির হারও সংশোধন করে মাত্র ০ দশমিক ১ শতাংশে নামানো হয়েছে। তবে ইটোরোর বিশ্লেষক ব্রেট কেনওয়েল মনে করেন, জিডিপি হিসাবের গুরুত্বপূর্ণ একটি উপাদান গ্রীষ্মের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা ভোক্তাদের আংশিক স্থিতিশীলতার ইঙ্গিত দেয়।
পণ্যমূল্যের বাজারে সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে তেলের দামে। ইউক্রেনে শান্তি আলোচনার সম্ভাবনা বাড়ায় এবং রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল হতে পারে—এমন আশঙ্কায় তেলের দাম দ্রুত কমেছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৬০ ডলারের নিচে নেমেছে, যা মে মাসের পর সর্বনিম্ন। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ডব্লিউটিআই তেল ৫৫ ডলারের নিচে নেমে ২০২১ সালের পর সর্বনিম্ন পর্যায় স্পর্শ করেছে।
প্রধান অর্থনৈতিক সূচকগুলোর সারসংক্ষেপ নিচে দেওয়া হলো—
সূচক | সর্বশেষ অবস্থা
মার্কিন বেকারত্ব হার | ৪.৬ শতাংশ
অক্টোবরে চাকরি হ্রাস | ১,০৫,০০০
নভেম্বরে নতুন চাকরি | ৬৪,০০০
ব্রেন্ট তেলের দাম | ৬০ ডলারের নিচে
ডব্লিউটিআই তেলের দাম | ৫৫ ডলারের নিচে
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইউক্রেন যুদ্ধের একটি সমঝোতা ‘আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে কাছাকাছি’। ন্যাটো-ধাঁচের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা এবং রাশিয়ার সম্মতির বিষয়ে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। এদিকে ইউরোপে শান্তির সম্ভাবনায় প্রতিরক্ষা খাতের শেয়ার কমেছে, আর যুক্তরাজ্যের দুর্বল শ্রমবাজারের তথ্য ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের সুদহার কমানোর প্রত্যাশা জোরদার করেছে। এশিয়ায় জাপানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সম্ভাব্য সুদহার বৃদ্ধির আগে ডলারের বিপরীতে ইয়েন শক্ত অবস্থানে ছিল।
কোম্পানি পর্যায়ে ফাইজারের শেয়ার ৩ দশমিক ৪ শতাংশ কমেছে। কোভিড-সম্পর্কিত আয়ের পতন পুষিয়ে নিতে নতুন পণ্যে বিনিয়োগ বাড়ানোর ফলে চলতি বছরের আয় কমতে পারে—এমন পূর্বাভাসই এই পতনের প্রধান কারণ।