মিডল্যান্ড ব্যাংক পিএলসি সফলভাবে তাদের বার্ষিক ব্যবসায়িক সম্মেলন ২০২৬ আয়োজন করেছে, যা ছিল একটি পূর্ণদিবসব্যাপী কৌশলগত ফোরাম। ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনের মূল লক্ষ্য ছিল আগামী বছরের জন্য ব্যাংকের দিকনির্দেশনা নির্ধারণ, সাম্প্রতিক কার্যক্রমের মূল্যায়ন, প্রস্তাবিত ২০২৬ সালের বাজেট পর্যালোচনা এবং টেকসই প্রবৃদ্ধি ও দীর্ঘমেয়াদি মূল্য সৃষ্টির লক্ষ্যে কৌশলগত অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা। সম্মেলনে ব্যাংকের শীর্ষ নেতৃত্ব, বিভিন্ন বিভাগের প্রধান, শাখা ও উপশাখা ব্যবস্থাপক এবং গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়িক ইউনিটের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।
সম্মেলনের উদ্বোধন ও সভাপতিত্ব করেন ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আহসান-উজ-জামান। উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি সুষম সম্প্রসারণ, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় সতর্কতা এবং গ্রাহককেন্দ্রিক সেবার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, প্রতিযোগিতামূলক ও নীতিমালানির্ভর ব্যাংকিং পরিবেশে শক্তিশালী করপোরেট গভর্ন্যান্স এবং দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত পরিকল্পনা ছাড়া স্থিতিশীলতা ও সাফল্য অর্জন সম্ভব নয়। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাধীন পরিচালক রিয়াজ আহমেদ চৌধুরী, যিনি করপোরেট গভর্ন্যান্স ও কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আলোচনায় মূল্যবান মতামত দেন।
সম্মেলনে উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান ঝুঁকি কর্মকর্তা মো. জাহিদ হোসেন এবং উপব্যবস্থাপনা পরিচালক, তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের প্রধান ও সিআরও মো. নজমুল হুদা সরকারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া মিডল্যান্ড ব্যাংক অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার অংশগ্রহণ সম্মেলনকে আরও সমন্বিত ও বহুমাত্রিক করে তোলে।
প্রধান অর্থ কর্মকর্তা দিদারুল ইসলাম ব্যাংকের সামগ্রিক আর্থিক অবস্থান নিয়ে বিশদ উপস্থাপনা দেন। এতে আয়-ব্যয়ের প্রবণতা, সাম্প্রতিক অর্জন এবং উন্নয়নযোগ্য ক্ষেত্রগুলো তুলে ধরা হয়। পরবর্তীতে ইনস্টিটিউশনাল ব্যাংকিং বিভাগের প্রধান মো. জাভেদ তারেক খান, এসএমই ব্যাংকিং ও ট্রেজারি বিভাগের প্রধানরা নিজ নিজ বিভাগের কর্মদক্ষতা ও ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন। আইডি বিভাগের কার্যক্রম ও কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গি আলাদাভাবে উপস্থাপন করেন খন্দকার তৌফিক হোসেন।
আলোচনায় ইনস্টিটিউশনাল ব্যাংকিং, এসএমই, ট্রেজারি, আইডি এবং প্রবাসী ব্যাংকিংসহ মূল ব্যবসায়িক খাতগুলোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। ২০২৬ সালের প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়, যেখানে উচ্চাভিলাষী প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ও সম্পদের গুণগত মান, মূলধন পর্যাপ্ততা এবং নিয়ন্ত্রক নীতিমালার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার ওপর জোর দেওয়া হয়। বাজার পরিস্থিতি, ঋণঝুঁকি এবং পোর্টফোলিও উন্নয়নের সুযোগগুলোও বিশ্লেষণ করা হয়।
খুচরা ব্যাংকিং বিষয়ক একটি বিশেষ অধিবেশন পরিচালনা করেন খুচরা বিতরণ বিভাগের প্রধান ও প্রধান ব্যাংকঅ্যাস্যুরেন্স কর্মকর্তা মো. রাশেদ আক্তার। এতে শাখা, উপশাখা, এজেন্ট ব্যাংকিং, কার্ড, ডিজিটাল সেবা, ইসলামি ব্যাংকিং উইন্ডো এবং ব্যাংকঅ্যাস্যুরেন্স সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশ নেন। এই অধিবেশন আন্তঃবিভাগীয় সমন্বয়, সেবার মান উন্নয়ন ও ডিজিটাল রূপান্তর ত্বরান্বিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
সম্মেলনে আলোচিত প্রধান ব্যবসায়িক খাতসমূহ
| ব্যবসায়িক খাত | মূল আলোচ্য বিষয় |
|---|---|
| ইনস্টিটিউশনাল ব্যাংকিং | কর্মদক্ষতা মূল্যায়ন ও প্রবৃদ্ধি কৌশল |
| এসএমই ব্যাংকিং | পোর্টফোলিও গুণগত মান ও নিয়ন্ত্রিত সম্প্রসারণ |
| ট্রেজারি | বাজার পূর্বাভাস ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা |
| খুচরা ও শাখা ব্যাংকিং | সেবার মান ও বিক্রয় দক্ষতা |
| এজেন্ট ও ইসলামি ব্যাংকিং | আর্থিক অন্তর্ভুক্তি ও নীতিপালন |
| কার্ড ও ডিজিটাল সেবা | পণ্য উদ্ভাবন ও ডিজিটাল রূপান্তর |
| প্রবাসী ব্যাংকিং | রেমিট্যান্স প্রবৃদ্ধি ও সম্পর্ক উন্নয়ন |
সমাপনী বক্তব্যে ব্যবস্থাপনা পরিচালক সকল কর্মকর্তাকে নিয়ন্ত্রক নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণ, খেলাপি ঋণ আদায় জোরদার এবং শেয়ারহোল্ডারদের জন্য টেকসই মুনাফা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। সম্মেলনের শেষ পর্বে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে সেরা কর্মীদের পুরস্কৃত করা হয়, যা ব্যাংকের ভেতরে দায়বদ্ধতা, প্রেরণা ও পেশাগত উৎকর্ষের সংস্কৃতিকে আরও শক্তিশালী করে।