খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫
দুই দশকের বিস্তৃত অধ্যায়ের শেষ পৃষ্ঠায় এসে লিওনেল মেসি যেন লিখলেন অমরত্বের নতুন কবিতা। আর্জেন্টিনার জার্সিতে তার প্রতিটি মুহূর্তই ছিল ইতিহাসের অংশ, কিন্তু বুয়েনস আইরেসের মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার রাতে যা ঘটল, তা নিছক ইতিহাস নয়, এটি আবেগ, ভালোবাসা আর অনন্ত স্মৃতির এক অপূর্ব সংমিশ্রণ।
ভেনেজুয়েলার বিপক্ষে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের সেই ম্যাচের আগে থেকেই বাতাস ভারি ছিল আবেগে। রোসারিওর সন্তান, বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলের অধিনায়ক যখন তিন সন্তান, থিয়াগো, মাতেও ও সিরোকে নিয়ে মাঠে প্রবেশ করলেন, তখন গ্যালারির ৮০ হাজার দর্শক একসঙ্গে দাঁড়িয়ে অভিবাদন জানালেন তাদের নায়ককে। ভিআইপি বক্স থেকে স্ত্রী আন্তোনেলা রোকুজ্জোও সেই মুহূর্তে ভিজে গেলেন আবেগে। চোখে পানি নিয়ে ওয়ার্ম-আপ শুরু করলেন মেসি, তিনিও জানতেন, এটাই তার দেশের মাটিতে শেষ আনুষ্ঠানিক ম্যাচ।
ম্যাচের ৩৯ মিনিটে এল সেই পরিচিত জাদু। লিয়ান্দ্রো পারেদেসের নিখুঁত পাস ধরে বক্সে ঢুকে জুলিয়ান আলভারেজ খুঁজে নিলেন মেসিকে। ঠাণ্ডা মাথায় চিপ শটে বল জালে জড়িয়ে দিলেন আর্জেন্টিনার মহাতারকা। পুরো স্টেডিয়াম মুহূর্তেই উৎসবে ফেটে পড়ল। দর্শকরা গাইতে শুরু করল ‘লিও মেসি আছে পাশে, পুরো পথ আমরা পাড়ি দেব একসঙ্গে।’
কিন্তু গল্প এখানেই শেষ হয়নি। দ্বিতীয়ার্ধে নিকো গঞ্জালেসের ক্রসে লাওতারো মার্টিনেজের হেডে যখন ব্যবধান দ্বিগুণ হলো, তখনো সবাই অপেক্ষায় ছিলেন এক বিশেষ মুহূর্তের। সেটি এল থিয়াগো আলমাদার সঙ্গে বোঝাপড়ায়। সহজ এক ট্যাপ-ইনে পূর্ণ হলো মেসির জোড়া গোল। চলতি বাছাইপর্বে এটি তার অষ্টম গোল, যা তাকে শীর্ষ গোলদাতা বানিয়েছে।
গোলের উল্লাসে আর্জেন্টিনা জিতল ৩-০ ব্যবধানে। কিন্তু জয় নয়, এ রাতটিকে বিশেষ করেছে মেসির অশ্রুসিক্ত চোখ, করতালিতে ভেসে যাওয়া তার প্রতিটি পদক্ষেপ। বিশ্বকাপ, কোপা আমেরিকা, ফাইনালিসিমা, সবই জিতে ফেলেছেন তিনি। তবু আর্জেন্টিনার মাটিতে এই শেষ ম্যাচের আবেগ যেন তার অর্জনের মহাকাব্যে আরেকটি সোনালি অধ্যায়।
আগামী ৯ সেপ্টেম্বর ইকুয়েডরের বিপক্ষে অ্যাওয়ে ম্যাচ দিয়ে শেষ হবে আর্জেন্টিনার এই বাছাই মিশন। কিন্তু মনুমেন্টালে যে রাতটি কাটল, তা সমর্থকদের মনে থেকে যাবে চিরকাল। এ শুধু ফুটবল নয়, এটি ছিল বিদায়বেলার সুর, যেখানে মাঠ, বল, দর্শক আর নায়ক একসঙ্গে মিশে তৈরি করেছে অনন্ত স্মৃতি।
লিওনেল মেসি বিদায় নিলেন নিজের দেশে, কিন্তু রেখে গেলেন এমন এক জাদু, যা যুগ যুগ ধরে আর্জেন্টাইন ফুটবলের হৃদস্পন্দন হয়ে বাজতে থাকবে।
খবরওয়ালা/এমএজেড