খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ৪ জানুয়ারি ২০২৬
যশোর শহরে এক চাঞ্চল্যকর ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় দুর্বৃত্তদের অতর্কিত গুলিতে প্রাণ হারিয়েছেন স্থানীয় বিএনপি নেতা আলমগীর হোসেন (৫০)। প্রকাশ্য দিবালোকে জনবহুল এলাকায় এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুরো শহরজুড়ে আতঙ্ক ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। নিহত আলমগীর হোসেন যশোর পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন। তিনি শঙ্করপুর এলাকার ইন্তাজ চৌধুরীর সন্তান। রাজনৈতিক ও স্থানীয় মহলে একজন সক্রিয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত আলমগীরের মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পারিবারিক সূত্র থেকে জানা যায়, শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে আলমগীর হোসেন শঙ্করপুর এলাকায় স্থানীয় কাউন্সিলর নয়নের অফিসের সামনে কয়েকজনের সঙ্গে গল্প করছিলেন। এসময় মোটরসাইকেলে আসা একদল অজ্ঞাতপরিচয় দুর্বৃত্ত দ্রুতগতিতে সেখানে পৌঁছে এবং আলমগীরকে লক্ষ্য করে অত্যন্ত কাছ থেকে গুলি চালায়। গুলিটি সরাসরি তাঁর মাথার বাঁ পাশে বিদ্ধ হয়। প্রচণ্ড শব্দে এলাকাটি প্রকম্পিত হয়ে ওঠে এবং উপস্থিত লোকজন আতঙ্কিত হয়ে দিকবিধিক ছুটতে শুরু করে। ঘটনার আকস্মিকতায় আলমগীর রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং ঘাতকরা মুহূর্তের মধ্যে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত এগিয়ে এসে গুরুতর আহত অবস্থায় আলমগীরকে উদ্ধার করেন এবং চিকিৎসার জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক বিচিত্র মল্লিক জানান, আলমগীরকে যখন হাসপাতালে আনা হয়, তখন তাঁর অবস্থা ছিল অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। তাঁর মাথার বাঁ পাশে গভীর গুলির ক্ষত ছিল এবং প্রচুর রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। চিকিৎসকদের আপ্রাণ চেষ্টা সত্ত্বেও হাসপাতালে আনার কিছুক্ষণ পরই তাঁর মৃত্যু হয়। মরদেহের প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।
হত্যাকাণ্ডের ঘটনার সংক্ষিপ্ত সারসংক্ষেপ
| ঘটনার বিবরণ | তথ্যের বিস্তারিত |
|---|---|
| নিহতের নাম | আলমগীর হোসেন (৫০) |
| রাজনৈতিক পরিচয় | যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি, যশোর পৌরসভা |
| ঘটনার সময় | ৩ জানুয়ারি (শনিবার), সন্ধ্যা ৭:৩০ মিনিট |
| ঘটনাস্থল | শঙ্করপুর এলাকা, নয়ন কাউন্সিলরের কার্যালয়ের সামনে |
| আঘাতের ধরন | মাথার বাম পাশে আগ্নেয়াস্ত্রের গুলি |
| আইনি পদক্ষেপ | তদন্তাধীন ও আসামি গ্রেফতারে অভিযান চলছে |
যশোর কোতোয়ালি থানার ইন্সপেক্টর মুমিনুল হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, পুলিশের একাধিক টিম ইতোমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। শঙ্করপুর ইসহাক সড়কে সংঘটিত এই অপরাধের প্রকৃত রহস্য উদঘাটন এবং খুনিদের শনাক্ত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ শুরু করেছে। হত্যাকাণ্ডের সময় আশপাশে থাকা লোকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং আশেপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা নাকি ব্যক্তিগত কোনো বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এদিকে, আলমগীর হোসেনের বড় ভাই জাহাঙ্গীর হোসেন এই ঘটনায় গভীর শোক ও ক্ষোভ প্রকাশ করে দ্রুত খুনিদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। বিএনপি নেতৃবৃন্দও এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং একে একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হিসেবে অভিহিত করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে শঙ্করপুর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। নিহতের পরিবার থেকে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।