খবরওয়ালা আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৪ জুন ২০২৫
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান সংঘাতের অবসান ঘটাতে একপাক্ষিকভাবে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়েছেন। সোমবার (২৩ জুন) রাতে দেওয়া এ ঘোষণার বিষয়টি তাঁর নিজের প্রশাসনের কিছু শীর্ষ কর্মকর্তাদের কাছেও ছিল অপ্রত্যাশিত বলে জানিয়েছে নিউইয়র্ক টাইমস।
হোয়াইট হাউসের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনার পর এই সিদ্ধান্তে উপনীত হন। আলোচনায় মধ্যস্থতার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে কাতার, বিশেষ করে দেশটির আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি।
যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেওয়ার পরপরই ইসরায়েল ও ইরান উভয় দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে এর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করে। তবে ঘোষণা আসার তিন ঘণ্টার মধ্যেই ইসরায়েল ইরানে নতুন হামলা চালায় বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এতে প্রশ্ন উঠেছে, যুদ্ধবিরতির শর্তাবলি সব পক্ষের কাছে কতটা পরিষ্কার ছিল, কিংবা আদৌ তা সবাই মেনে নিয়েছিল কি না।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই পদক্ষেপের নেপথ্যে কাজ করেছে তার প্রশাসনের তিনজন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা—ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ। তারা যুদ্ধবিরতির পক্ষে ট্রাম্পকে চাপ দেন এবং বিগত দুই মাস ধরে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণে আনতে একটি চুক্তির চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন।
জানা গেছে, এসব কর্মকর্তা সরাসরি ও পরোক্ষ কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছেন। ইসরায়েলের পক্ষ থেকে যুদ্ধবিরতির শর্ত ছিল, যদি ইরান তাদের ওপর আর কোনো হামলা না চালায়, তবে তারা যুদ্ধবিরতি মেনে নেবে।
উল্লেখ্য, গত ২২ জুন (শনিবার) যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ফরদো, নাতাঞ্জ ও ইসফাহান এলাকায় তিনটি পারমাণবিক সুবিধায় বিমান হামলা চালায়। এই হামলার পর পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যেতে শুরু করে এবং যুদ্ধবিরতির আলোচনায় গতি আসে।
তবে এখনো স্পষ্ট নয়, ইরান কী শর্তে যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছে বা তাদের ইউরেনিয়ামের মজুত কোথায় রাখা হয়েছে—এ বিষয়ে কোনও পক্ষই বিস্তারিত কিছু জানায়নি।
খবরওয়ালা/আরডি