খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১২ ডিসেম্বর ২০২৫
স্বাধীনতা–বিরোধী মতাদর্শের ব্যক্তিদের নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে নতুন এক প্রবণতা দেখা যাচ্ছে—কেউ যদি তাদের ‘রাজাকার’ বা ’স্বাধীনতা বিরোধী’ হিসেবে চিহ্নিত করে, তারা সঙ্গে সঙ্গে দাবি তুলছে যে তারা নাকি “মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান”। সাংবাদিক ও বিশ্লেষক আনিস আলমগীর এই প্রবণতাকে ‘কৌশলী পাল্টা প্রচেষ্টা’ বলে উল্লেখ করেছেন।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, যখনই কোনো ব্যক্তি স্বাধীনতা বিরোধী হিসেবে সমালোচিত হন, তখন তিনি এমন এক পরিচয় তুলে ধরেন, যেটি ব্যবহার করলে রাজনৈতিক বা সামাজিকভাবে নিজের অবস্থান রক্ষা করা সহজ হয়। কিন্তু এখানে বড় প্রশ্নটি চাপা পড়ে যায়—যে পরিবারকে তিনি ‘মুক্তিযোদ্ধা পরিবার’ বলছেন, সেখানে আসলেই কে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন?
আনিস আলমগীর তুলে ধরেন, মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের পরিচয় দিতে হলে স্পষ্টভাবে জানাতে হয়—
বাবা?
ভাই?
দাদা?
নানা?
ঠিক কে অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করেছিলেন? অনেকেই ইচ্ছেমতো এই পরিচয়টি ব্যবহার করলেও সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারেন না। তিনি ব্যঙ্গ করে বলেন, “এখন যদি মায়ের খালু, বাবার ফুপা, দূর–সম্পর্কের আত্মীয়দেরও মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় গণ্য করতে হয়, তাহলে তো দেশের প্রায় সব পরিবারই মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের দাবি করতে পারবে।”
আনিস আলমগীরের মতে, এই ভুয়া পরিচয়ের আশ্রয় নেওয়া শুধু ইতিহাস বিকৃত করে না; বরং প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবারের মর্যাদাকেও ক্ষুণ্ন করে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা রাজনৈতিক সুবিধা পাওয়ার ঢাল হয়ে দাঁড়ালে প্রকৃত ইতিহাস ও ব্যক্তিগত অবস্থান নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়।
তিনি বলেন, “শাক দিয়ে কি মাছ ঢাকা যায়? মিথ্যা পরিচয়ে মান বাড়ে না।”
একজন মানুষ কোন মতাদর্শে বিশ্বাসী, কোন অবস্থানে দাঁড়ান—এসবই প্রকাশ পায় তার আচরণ, বক্তব্য, এবং দেশের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে অবস্থানের মধ্য দিয়ে।
বিশ্লেষকদের মতে, স্বাধীনতা বিরোধী প্রশ্ন উঠলেই ‘মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান’ পরিচয় তুলে ধরা মূলত নৈতিক দুর্বলতার প্রতিফলন। সত্যিকারের মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তানরা সাধারণত এই পরিচয়কে সম্মানের সঙ্গে বহন করেন, সুবিধাবাদী ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেন না।
| বিষয় | ব্যাখ্যা |
|---|---|
| নতুন কৌশল | রাজাকার বলা হলে সঙ্গে সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের দাবি |
| মূল প্রশ্ন | পরিবারে ঠিক কে যুদ্ধ করেছিলেন—তা স্পষ্ট না করা |
| সম্ভাব্য প্রভাব | ইতিহাস বিকৃতি, প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি অসম্মান |
| বিশ্লেষণ | ভুয়া পরিচয় দিয়ে নিজস্ব রাজনৈতিক অবস্থান আড়াল করার চেষ্টা |
শেষ পর্যন্ত আনিস আলমগীরের বক্তব্যে স্পষ্ট—
পরিচয় নয়, কর্মই বলে দেয় কেউ সত্যিই কোন পক্ষের।