খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫
মাগুরায় বিজয়ের ৫৪তম বার্ষিকী উদযাপনের এই মাহেন্দ্রক্ষণে স্বাধীনতাবিরোধীদের বিরুদ্ধে এক অভিনব ও ব্যতিক্রমধর্মী প্রতিবাদ কর্মসূচী পালন করেছেন স্থানীয় শিক্ষার্থীরা। বুধবার সকালে মাগুরা সরকারি হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের প্রধান ফটকের সামনে সাধারণ শিক্ষার্থীরা অস্থায়ীভাবে একটি রাজাকার স্তম্ভ স্থাপন করেন। এই স্তম্ভটি স্থাপনের পর থেকেই সেখানে দিনভর চলে ঘৃণা প্রদর্শনের নানা কার্যক্রম, যা জেলাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও আলোচনার সৃষ্টি করেছে।
সকাল থেকে দেখা যায়, কলেজের শত শত শিক্ষার্থী সারিবদ্ধ হয়ে ওই প্রতীকী স্তম্ভে স্যান্ডেল নিক্ষেপ করছেন। অনেকে আবার ঘৃণাভরে থুতু, কফ এবং ইট-পাটকেল ছুড়ে একাত্তরের সেই কুখ্যাত রাজাকার, আল-বদর ও আল-শামস বাহিনীর প্রতি তাদের তীব্র ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন। শিক্ষার্থীদের এই প্রতিবাদী অবস্থানে সাধারণ পথচারী এবং অভিভাবকরাও সংহতি প্রকাশ করেন। দিনভর চলা এই কর্মসূচীটি কেবল একটি সাধারণ প্রতিবাদ নয়, বরং এটি ছিল নতুন প্রজন্মের পক্ষ থেকে দেশদ্রোহীদের প্রতি একটি কঠোর বার্তা।
বিজয়ের এই মাসে এমন উদ্যোগকে সময়োপযোগী ও সাহসী বলে আখ্যায়িত করেছেন মাগুরার সচেতন নাগরিক সমাজ। কলেজগামী শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি সাধারণ শ্রমজীবী ও পেশাজীবী মানুষও সেখানে দাঁড়িয়ে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ঘৃণা প্রকাশে অংশ নেন। অনেকে মন্তব্য করেছেন যে, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে বিকৃত করার যে কোনো অপচেষ্টার বিরুদ্ধে এটি একটি বড় সামাজিক প্রতিরোধ। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে পরবর্তী প্রজন্মের হৃদয়ে সমুন্নত রাখা এবং স্বাধীনতাবিরোধীদের বিরুদ্ধে সামাজিক সচেতনতা গড়ে তোলাই এই কর্মসূচীর মূল লক্ষ্য বলে আয়োজক শিক্ষার্থীরা জানান।
এই আন্দোলনের অন্যতম মুখ মাগুরা সরকারি হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের শিক্ষার্থী জুলফিকার আলি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, একাত্তরের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে যারা এই দেশের অন্ন-জলে বড় হয়েও এ দেশের মানুষের সঙ্গে বেইমানি করেছিল, সেই সব কুখ্যাত রাজাকারদের প্রতি ঘৃণা জানাতেই আমরা এই প্রতীকী স্তম্ভটি নির্মাণ করেছি। আমরা চাই প্রজন্মের পর প্রজন্ম জানুক, বিশ্বাসঘাতকদের জন্য এই বাংলায় কোনো সম্মান নেই, কেবল ঘৃণাই তাদের প্রাপ্য।
আরেক শিক্ষার্থী আতিক ফয়সাল সাইফ তার অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন, আমরা একাত্তর দেখিনি সত্য, কিন্তু ইতিহাসের পাতায় তাদের নৃশংসতার কথা পড়েছি। বর্তমানেও আমরা লক্ষ্য করছি যে, সেই পরাজিত শক্তিরা নানাভাবে দেশের অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করার ষড়যন্ত্র করছে। একাত্তরে তারা যেভাবে দেশের বিরুদ্ধাচরণ করেছিল, এখনো তারা ভিন্ন ভিন্ন ছদ্মবেশে সেই অপকর্ম অব্যাহত রেখেছে। তাই আমরা তাদের ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করার শপথ নিয়েছি।
শিক্ষার্থী ইমন মোল্যা বলেন, যারা আমাদের মা-বোনের সম্ভ্রম কেড়ে নিয়েছিল এবং লাখ লাখ নিরীহ মানুষকে নির্বিচারে হত্যা করেছিল, তাদের প্রতি আমাদের এই ঘৃণা আজন্মকাল বজায় থাকবে। আমরা চাই সারা দেশের প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এভাবে ঘৃণা স্তম্ভ তৈরি করে নতুন প্রজন্মকে দেশপ্রেমের চেতনায় উজ্জীবিত করা হোক।
মাগুরার এই বিশেষ প্রতিবাদটি এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ভাইরাল হয়েছে। সাধারণ মানুষ একে একটি প্রতীকী যুদ্ধ হিসেবে দেখছেন, যেখানে অস্ত্রের বদলে ঘৃণা হচ্ছে প্রতিবাদের হাতিয়ার। শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিজয়ের মাসজুড়ে তাদের এমন সচেতনতামূলক কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকবে যাতে করে তরুণ সমাজ মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস সম্পর্কে জানতে পারে এবং দেশবিরোধী শক্তির বিরুদ্ধে সবসময় সজাগ থাকে।