খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বাংলাদেশের রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো ঋণ প্রদানে সক্ষম হলেও ঋণ পুনরুদ্ধারে উল্লেখযোগ্য চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান হাবিব মানসুর সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারি, আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটি বসুন্ধরা (ICCB)-এ অনুষ্ঠিত সোনালী ব্যাংকের বার্ষিক সম্মেলনে এই উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
ড. মানসুর উল্লেখ করেন, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো বিভিন্ন কাঠামোগত সীমাবদ্ধতার মধ্যে কাজ করে যা তাদের কার্যক্ষমতাকে প্রভাবিত করে। তিনি বলেন, “যখন ঋণ সঠিক গ্রাহকের কাছে প্রদান করা হয়, তখন ডিফল্টের হার কমে। তবে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো নানা বিধিনিষেধের কারণে ঋণ প্রদানে সতর্কতা অবলম্বন করে। বাস্তবে, তাদের ঋণ দেওয়ার ক্ষমতা থাকলেও তা পুনরুদ্ধার করা জটিল।” তিনি উল্লেখ করেন যে এই সীমাবদ্ধতা ২০০০ সালের আগেও লক্ষ্য করা যেত।
গভর্নর আরও বলেন যে ব্যাংকগুলোকে অর্থনৈতিকভাবে ফলপ্রসূ খাতে আমানত প্রবাহিত করতে হবে। যদিও সোনালী ব্যাংক বর্তমানে ঋণ প্রদানে সতর্ক, তিনি লক্ষ্য করেন যে সুনির্দিষ্ট খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির মাধ্যমে অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করা সম্ভব।
ড. মানসুর সমালোচনামূলকভাবে ক্রেতা ঋণের অপর্যাপ্ত ব্যবহারকেও নির্দেশ করেন। তিনি বলেন, “অন্যান্য দেশে কনজুমার ক্রেডিট একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত, কিন্তু বাংলাদেশের রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো এ ক্ষেত্রে সীমিত অবদান রাখছে। হাউজিং ফাইন্যান্স আছে, তবে তা সীমিত। কনজুমার ঋণে সম্প্রসারণের যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।”
সোনালী ব্যাংকের বাণিজ্যিক কার্যক্রম নিয়ে তিনি বলেন, “এটি আংশিকভাবে বাণিজ্যিক প্রধান ব্যাংকের ভূমিকা পালন করছে। পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক ব্যাংকে রূপান্তর এবং লাভজনকতা নিশ্চিত করা জরুরি।”
গত বছরের ব্যাংকের কার্যক্রমের প্রধান সূচকগুলো তিনি তুলে ধরেছেন:
| ব্যাংকিং সূচক | তথ্য / মন্তব্য |
|---|---|
| লাভ | মূলধন ঘাটতি সমর্থন করেছে |
| ব্যর্থ ঋণ (NPL) | ১৮% থেকে হ্রাস; আরও হ্রাস আশা করা হচ্ছে |
| ঋণ বিতরণ | সীমিত; সম্প্রসারণের প্রয়োজন |
ড. মানসুর মনে করিয়ে দেন যে সরকার চাইলে সোনালী ব্যাংককে স্বাধীনভাবে বাণিজ্যিক প্রধান ব্যাংক হিসেবে পরিচালনার সুযোগ দিতে পারে, তবে এটি ভবিষ্যতের প্রশাসন দ্বারা সমর্থিত হতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন যে ব্যাংক প্রবাসী রেমিটেন্স এবং রফতানি খাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সংক্রান্ত উপসংহারে, গভর্নর সঠিক ঋণ প্রদানের গুরুত্বের উপর জোর দেন, বিশেষত গ্রামীণ উদ্যোক্তা এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ (SME)-এর ক্ষেত্রে। তিনি বলেন, “নির্ভরযোগ্য মূলধনী উদ্যোগ চিহ্নিত করা এবং SME-কে লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তা প্রদান কার্যকর ব্যাংকিং ও টেকসই অর্থনৈতিক বৃদ্ধির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”