খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫
‘আমাদের দেশে শিল্পীদের কদর কোনো দিন ছিল না। এখনো নেই। রাষ্ট্র যাঁরা চালাচ্ছেন, তাঁরা যদি গানবাজনা না বোঝেন, গানবাজনাকে মূল্য না দেন, তাহলে তো আমাদের কিছু করার নেই। জোর করে আমরা তো কিছু করতে পারব না।’
মগবাজারের তানপুরা রেকর্ডিং স্টুডিওতে গান রেকর্ডিং শেষে কথাগুলো বলেন দেশবরেণ্য সংগীতশিল্পী সাবিনা ইয়াসমীন।
অসুস্থতার কারণে কয়েক মাস গান থেকে দূরে ছিলেন তিনি। এখন আবার নিয়মিত গাইছেন। সেই ধারাবাহিকতায় এবার গাইলেন ‘অতীত গল্পগুলি’ শিরোনামের একটি নতুন গান। এর সুর ও সংগীত করেছেন তরুণ সুরকার সম্রাট আহমেদ, কথা লিখেছেন ফারুক আনোয়ার। গানটি প্রকাশ করবে এফ এ মিউজিক।
গানটি প্রসঙ্গে সাবিনা ইয়াসমীন বলেন, ‘খুব চমৎকার একটি গান। এই তরুণ সংগীত পরিচালকের সঙ্গে আমার প্রথম কাজ। খুব সুন্দর সুর করেছে। আধুনিকতার পাশাপাশি গানটিতে ৭০–৮০ দশকের মেলোডির একটা ছোঁয়া আছে। মনে হলো, এই সময়ে এসে সুন্দর কথা ও সুরের আরেকটি গান গাওয়া হলো।’
গান রেকর্ডিংয়ের ফাঁকে তিনি কথা বলেন সংগীতাঙ্গন নিয়ে। বলেন, বাংলাদেশে কখনোই গানের মানুষ ও গানের কদর রাষ্ট্রীয়ভাবে হয়নি।
পাশের দেশ ভারতের উদাহরণ টেনে সাবিনা বলেন, ‘আমরা দেখেছি, লতা মঙ্গেশকরের পা ছুঁয়ে মোদি সাহেব প্রণাম করছেন। উনারা গান ভালোবাসেন, গানকে কোথায় নিয়ে গেছেন সেটা বলে বোঝানো সম্ভব নয়। কিন্তু এমনটা কি আমাদের দেশে কখনো হয়েছে? আমি তো বলব পাইনি। সরকারিভাবে সে রকম কোনো কিছু চোখে পড়েনি।’
দেশে অনেক বড় শিল্পী জন্ম নিয়েছেন, অনেকে চলে গেছেন। তাঁদের স্বীকৃতি ও গান সংরক্ষণের উদ্যোগ নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সাবিনা বলেন, ‘সুবীর নন্দী হোক, এন্ড্রু কিশোর হোক—পুরোনো সবার গান আর্কাইভ করা যেত। এত শিল্পী আছেন, তাঁদের গানগুলো সংরক্ষণের কথা কেউ ভাবে না। অথচ অন্য রাষ্ট্রগুলো শিল্পীদের সবকিছু সংরক্ষণ করে। আমাদের দুর্ভাগ্য, ফরিদা পারভীনের মতো শিল্পীও নিভৃতে চলে গেলেন।’
শিল্পীদের গানের রয়্যালটি প্রসঙ্গেও কথা বলেন তিনি। বলেন, ‘আমাদের এখানে রয়্যালটির কোনো সুব্যবস্থা নেই। সরকার যদি এদিকে নজর না দেয়, তাহলে সমস্যার সমাধান হবে না। আবদুল আলীম বা আবদুর রহমান বয়াতির মতো শিল্পীর পরিবার রয়্যালটি পেলে অনেক ভালো থাকতেন। এই সিস্টেম থাকলে শিল্পীরা ও তাঁদের পরিবার ভবিষ্যৎ নিয়ে নিশ্চিন্ত থাকতে পারতেন।’
খবরওয়ালা/এন