রাজধানীর রমনা থানাধীন মালিবাগ এলাকায় অবস্থিত ‘আলোকিত ইনসান’ নামের একটি রিহ্যাব সেন্টারে ঘটে যাওয়া মারামারির ঘটনায় এক যুবক নিহত হয়েছেন। মৃতের নাম রাশেদুল ইসলাম তানভীর (২৮)। শুক্রবার রাত পৌনে ১০টার দিকে আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (ঢামেক) আনা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের পরিবার শনিবার রমনা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছে। নিহত তানভীর রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি থানার তিলোচনপুর গ্রামের আব্দুল খালেক মিয়ার ছেলে। তিনি ঢাকার তেজগাঁও থানাধীন পশ্চিম নাখালপাড়া এলাকায় বসবাস করতেন। পরিবারে তিনি দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে মেঝো সন্তান।
পরিবারের সূত্রে জানা গেছে, তানভীর আগে মাদকাসক্ত ছিলেন। চার মাস আগে তার উগ্র আচরণের কারণে তাকে মালিবাগের শাহজালাল কমপ্লেক্সের ৯ম তলায় অবস্থিত ‘আলোকিত ইনসান ইসলামিক মাদকাসক্তি নিরাময় ও পরামর্শ কেন্দ্রে’ ভর্তি করা হয়। কেন্দ্রের মালিক মো. ফখরুল ইসলাম আজাদ পরিবারের কাছে দ্বীনি পরিবেশ, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা, নিয়মিত ব্যায়াম ও স্বাস্থ্যসম্মত খাবারের আশ্বাস দিয়েছিলেন। তানভীরকে মাসিক ৩০ হাজার টাকায় ভর্তি করা হয়।
এজাহার অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার দুপুর আনুমানিক ২টা ৩০ মিনিটে কেন্দ্রের পশ্চিম ওয়ার্ডে জানালা খোলা নিয়ে তানভীর ও অপর এক রোগী মো. তাওহিদুল ইসলামের মধ্যে ঝগড়া শুরু হয়। একপর্যায়ে তা মারামারিতে রূপ নেয়। অভিযোগ, ওয়ার্ড সুপারভাইজার গোলাম মোস্তফার উপস্থিতিতে তাওহিদুল তানভীরকে ধাক্কা দিলে তিনি ফ্লোরে পড়ে গুরুতর আঘাত পান। মারধরের সময় তার অণ্ডকোষেও আঘাত করা হয়।
পরিবারের অভিযোগ, আহত তানভীরকে সময়মতো চিকিৎসা না দিয়ে তাকে অন্য একটি ওয়ার্ডে সরিয়ে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয়। খবরটি পরিবারের কাছে গোপন রাখা হয়। পরদিন বিকাল ৫টা ৫০ মিনিটে তানভীরের চাচাকে ফোনে জানিয়েছিলেন যে সে গুরুতর অসুস্থ। স্বজনরা হাসপাতালে খোঁজাখুঁজি করলে জানতে পারেন তানভীর মৃত অবস্থায় আনা হয়েছে।
মামলায় রিহ্যাব সেন্টারের মালিক ফখরুল ইসলাম আজাদ, ওয়ার্ড সুপারভাইজার গোলাম মোস্তফা, রোগী মো. তাওহিদুল ইসলামসহ অজ্ঞাত আরও ৩–৪ জনকে আসামি করা হয়েছে। রমনা থানার ওসি রাহাত খান জানান, এজাহারভুক্ত তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, বাকিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। নিহতের ভাই জানান, চার মাসের মধ্যে তানভীরের পুনর্বাসন শেষ হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু তার পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।



