খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৯ ডিসেম্বর ২০২৫
আজ ৯ ডিসেম্বর, রোকেয়া দিবস—বাংলাদেশের ইতিহাসে এক বিশেষ দিন। নারী জাগরণ ও নারী অধিকার আন্দোলনের পথিকৃৎ বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের জন্ম ও মৃত্যুদিন একই তারিখে হওয়ায় দিনটি ধারণ করেছে অনন্য গুরুত্ব। আজ তাঁর ১৪৫তম জন্মবার্ষিকী এবং ৯৩তম মৃত্যুবার্ষিকী।
১৮৮০ সালের এই দিনে রংপুরের পায়রাবন্দের প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী পরিবারে জন্ম নিয়েছিলেন রোকেয়া। বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে নারীর শিক্ষা, স্বাধীনতা ও অধিকার নিয়ে তিনি যে সংগ্রাম শুরু করেছিলেন, তা উপমহাদেশের নারী জাগরণের ভিত্তি স্থাপন করে। তাঁর লেখা, কর্ম ও দৃষ্টিভঙ্গি আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক, এমনকি অনেক ক্ষেত্রে আরও প্রয়োজনীয়।
বেগম রোকেয়ার জীবনের সংগ্রাম ছিল বহুমাত্রিক। নারীর শিক্ষার পক্ষে আন্দোলন করতে গিয়ে তিনি বদ্ধ সমাজের কঠোর বিরোধিতার মুখে দাঁড়ালেও তিনি থামেননি। ১৯১৬ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ‘সাখাওয়াত মেমোরিয়াল গার্লস স্কুল’, যা আজও নারীশিক্ষার ক্ষেত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান হিসেবে সম্মানিত। তাঁর সাহিত্যকর্ম—‘সুলতানার স্বপ্ন’, ‘অবরোধবাসিনী’, ‘মতিচূরের’ প্রবন্ধসমূহ—নারীর সামাজিক অবস্থান, অধিকার এবং সমতার লড়াইয়ে যুগান্তকারী দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছে।
রোকেয়ার ভাবনা ছিল সময়ের চেয়ে বহু দূরে এগিয়ে। তাঁর বিখ্যাত প্রশ্ন—“আমরা সমাজেরই অর্ধাঙ্গ। আমরা পড়িয়া থাকিলে সমাজ উঠিবে কি রূপে?”—আজও নারী-পুরুষ সমতার প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যায় এক শক্তিশালী যুক্তি হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
রোকেয়া দিবস উপলক্ষে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস আজ এক বাণীতে বলেছেন, বেগম রোকেয়া নারী সমাজকে অন্ধকার থেকে আলোর পথে নিয়ে এসেছিলেন। তাঁর নেতৃত্ব, সাহিত্য ও সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমেই নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠার বীজ বোনা হয়।
সরকারি ও বেসরকারিভাবে আজ বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় আয়োজন করেছে রোকেয়া পদক প্রদান ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এবারের রোকেয়া পদক ২০২৫ পাচ্ছেন চারজন বিশিষ্ট নারী—নারীশিক্ষায় গবেষণার জন্য রুভানা রাকিব, শ্রম অধিকার আন্দোলনে অবদানের জন্য কল্পনা আক্তার, মানবাধিকার সুরক্ষায় ভূমিকার জন্য নাবিলা ইদ্রিস এবং নারীর জাগরণে ক্রীড়াক্ষেত্রে অবদানের জন্য ঋতুপর্ণা চাকমা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। সভাপতিত্ব করবেন উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ।
বেগম রোকেয়ার জীবন, দর্শন ও সংগ্রাম আজও নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করে। নারীর স্বাভাবিক অধিকার—শিক্ষা, কর্মসংস্থান, মত প্রকাশের স্বাধীনতা, ভ্রমণ স্বাধীনতা—এসব মৌলিক অধিকারের সুরক্ষায় তাঁর চিন্তা ভবিষ্যতের পথ দেখায়। রোকেয়া দিবস শুধু স্মরণ নয়—নারীর মুক্তি ও সমতার লড়াই নতুনভাবে শুরু করারও অঙ্গীকার।