রোমানিয়ান ফুটবলের কিংবদন্তি ব্যক্তিত্ব মিরচা লুচেস্কু আর নেই। রাজধানী বুখারেস্টের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। সম্প্রতি তিনি রোমানিয়া জাতীয় দলের কোচের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন, যা তাঁর দীর্ঘ ও গৌরবময় ফুটবলজীবনের শেষ অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছিল।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, লুচেস্কু ছিলেন রোমানিয়ার ইতিহাসে অন্যতম সফল ফুটবলার ও কোচ। তাঁর নেতৃত্বেই ১৯৮৪ সালে প্রথমবারের মতো ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের মূলপর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে রোমানিয়া। এই অর্জন দেশটির ফুটবল ইতিহাসে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছিল। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তিনি শুধু একজন কোচ নন, বরং জাতীয় গৌরবের প্রতীক হয়ে ওঠেন।
জানা যায়, প্রায় দশ দিন আগে স্লোভাকিয়ার বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচের প্রস্তুতির সময় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। দ্রুত তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। প্রথমদিকে তাঁর শারীরিক অবস্থার উন্নতি ঘটছিল এবং চিকিৎসকেরা তাঁকে ছেড়ে দেওয়ার কথাও ভাবছিলেন। কিন্তু হঠাৎ করেই অবস্থার অবনতি ঘটে এবং তিনি মারাত্মক হৃদ্রোগে আক্রান্ত হন, যা শেষ পর্যন্ত তাঁর মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
১৯৪৫ সালের ২৯ জুলাই বুখারেস্টে জন্ম নেওয়া লুচেস্কু খেলোয়াড় ও কোচ—উভয় ভূমিকাতেই অসামান্য সাফল্য অর্জন করেন। খেলোয়াড় হিসেবে তিনি ছিলেন একজন দক্ষ রাইট উইঙ্গার এবং ১৯৭০ বিশ্বকাপে রোমানিয়া দলের অধিনায়কত্ব করেন। জাতীয় দলের হয়ে ৬৫টি ম্যাচে অংশ নিয়ে ১০টি গোল করেন তিনি।
কোচিং ক্যারিয়ারে তাঁর সাফল্য আরও উজ্জ্বল। ইতালি, তুরস্ক ও ইউক্রেনের বিভিন্ন ক্লাবের দায়িত্ব পালন করে তিনি ৩০টিরও বেশি শিরোপা জিতেছেন। তাঁর কৌশলী মেধা, শৃঙ্খলা এবং খেলোয়াড়দের প্রতি মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি তাঁকে বিশ্ব ফুটবলে অনন্য মর্যাদা এনে দেয়।
নিচে তাঁর ক্যারিয়ারের উল্লেখযোগ্য দিকগুলো সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো—
| বিষয় |
তথ্য |
| জন্ম |
২৯ জুলাই ১৯৪৫, বুখারেস্ট |
| মৃত্যু |
২০২৬, বুখারেস্ট |
| জাতীয় দলের ম্যাচ |
৬৫ |
| জাতীয় দলের গোল |
১০ |
| বিশ্বকাপ অংশগ্রহণ |
১৯৭০ (অধিনায়ক) |
| উল্লেখযোগ্য কোচিং অর্জন |
১৯৮৪ ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে যোগ্যতা |
| ক্লাব শিরোপা |
৩০টির বেশি |
তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন রোমানিয়ার রাষ্ট্রপতি নিকোসর দান। তিনি বলেন, “মিরচা লুচেস্কুর প্রয়াণে পুরো জাতি শোকাহত। তিনি আমাদের ফুটবলকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরেছেন এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবেন।”
লুচেস্কুর মৃত্যুতে তুরস্কের প্রখ্যাত ক্লাব গালাতাসারাইও শোক জানিয়েছে। এক বার্তায় তারা তাঁর অবদানের কথা স্মরণ করে গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে।
মিরচা লুচেস্কুর প্রয়াণ শুধু রোমানিয়ার জন্য নয়, বিশ্ব ফুটবলের জন্যও এক অপূরণীয় ক্ষতি। তাঁর কর্মময় জীবন, সাফল্য ও অবদান আগামী প্রজন্মের কাছে চিরকাল প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।