শার্শায় শিশু ধর্ষণচেষ্টায় অভিযুক্ত আলম গাজী গ্রেপ্তার

যশোরের শার্শা উপজেলায় তিন বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টা ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগে আলম গাজী (৩৫) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত শুক্রবার (২২ মে) রাতে উপজেলার সরুপদাহ গ্রাম থেকে তাকে আটক করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত আলম গাজী ওই গ্রামের জহুর গাজীর ছেলে। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং ভুক্তভোগী শিশুর পরিবার দ্রুত বিচার দাবি করেছে।

ঘটনার বিবরণ ও প্রেক্ষাপট

পুলিশ এবং স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত শুক্রবার সকালে অভিযুক্ত আলম গাজী শিশুটিকে প্রলোভন দেখিয়ে জনশূন্য স্থানে নিয়ে যায়। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, শিশুটিকে মুখরোচক খাবার (কাটিভাজা) খাওয়ানোর কথা বলে প্রলুব্ধ করা হয়েছিল। আলম গাজী শিশুটিকে তার বাড়ির পাশের একটি পরিত্যক্ত বা নিরিবিলি ঘরে নিয়ে গিয়ে যৌন নিপীড়নের চেষ্টা চালায়।

শারীরিক নির্যাতনের এক পর্যায়ে শিশুটি চিৎকার শুরু করলে আশেপাশে থাকা পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনাস্থলের দিকে ছুটে আসেন। মানুষের উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্ত আলম গাজী দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে আত্মগোপন করে। পরবর্তীতে পরিবারের সদস্যরা শিশুটিকে উদ্ধার করেন এবং তার শরীরে কামড়ের চিহ্নসহ বিভিন্ন আঘাত লক্ষ্য করেন।

আইনি পদক্ষেপ ও পুলিশের বক্তব্য

ঘটনার পরপরই ভুক্তভোগী শিশুর পিতা বাদী হয়ে শার্শা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ অভিযোগটিকে গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করে এবং ওই দিন রাতেই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে অভিযুক্তকে তার নিজ গ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।

শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মারুফ হোসেন সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন যে, এই ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় একটি নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে। মামলার বর্তমান অবস্থা ও পরবর্তী পদক্ষেপসমূহ নিচে তুলে ধরা হলো:

বিষয় বিস্তারিত তথ্য
মামলার ধরন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন
অভিযুক্তের নাম আলম গাজী (৩৫)
অভিযুক্তের বর্তমান অবস্থান পুলিশি হেফাজতে / গ্রেপ্তার
ভুক্তভোগীর অবস্থা ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে প্রেরণ
তদন্তকারী সংস্থা শার্শা থানা পুলিশ, যশোর

বর্তমান পরিস্থিতি

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, শিশুটির শারীরিক অবস্থার গুরুত্ব বিবেচনা করে তার প্রয়োজনীয় ডাক্তারি পরীক্ষা (মেডিকেল এক্সামিনেশন) সম্পন্ন করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এই পরীক্ষার রিপোর্ট মামলার সাক্ষ্য হিসেবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অপরাধের আলামত সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের জবানবন্দি গ্রহণের কাজ শুরু হয়েছে।

যশোর জেলার পুলিশ বিভাগ জানিয়েছে, নারী ও শিশু নির্যাতনের মতো জঘন্য অপরাধের ক্ষেত্রে তারা ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছেন। অভিযুক্তকে যথাশিঘ্র আদালতে সোপর্দ করা হবে এবং আইনানুযায়ী কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করার লক্ষে তদন্ত কার্যক্রম ত্বরান্বিত করা হচ্ছে। বর্তমানে এলাকায় শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রয়েছে এবং পুলিশ বিষয়টি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

Tags :

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।