খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 6শে অগ্রহায়ণ ১৪৩২ | ২০ই নভেম্বর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
শাহরিয়ার কবির—বাংলাদেশের সাহিত্যে, সাংবাদিকতায়, মানবাধিকার আন্দোলনে এবং প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণে এক উজ্জ্বল ও সাহসী নাম। বহুমাত্রিক প্রতিভায় তিনি যেমন পরিচিত, তেমনি দেশের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা রক্ষা ও মানবতার পক্ষে তার নিরলস লড়াই তাঁকে অনন্য মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করেছে।
জন্ম ও পারিবারিক পটভূমি:
১৯৫০ সালের ২০ নভেম্বর ফেনীতে জন্মগ্রহণ করেন শাহরিয়ার কবির। তিনি এমন একটি পরিবারে বেড়ে ওঠেন, যাদের শিকড় দৃঢ়ভাবে জড়িত সাহিত্য, সংস্কৃতি ও বুদ্ধিবৃত্তিক জগতে। তিনি প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকার ও লেখক জহির রায়হান এবং বিশিষ্ট সাহিত্যিক-বুদ্ধিজীবী শহীদুল্লাহ কায়সার–এর চাচাতো ভাই—যা তাঁর সৃজনশীল বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে।
শিক্ষা ও কর্মজীবন:
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আনুষ্ঠানিক শিক্ষাজীবন শেষ করে শাহরিয়ার কবির ১৯৭২ সালে যোগ দেন দেশের তৎকালীন সবচেয়ে জনপ্রিয় সাপ্তাহিক পত্রিকা ‘বিচিত্রা’–য়। দীর্ঘ দুই দশক সেখানে সাংবাদিকতা করে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত তিনি নির্বাহী সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
তার লেখনী সবসময়ই সামাজিক ন্যায়বিচার, অসাম্প্রদায়িকতা ও মানবতা প্রতিষ্ঠার পক্ষে উচ্চকিত।
লেখক ও শিশুসাহিত্যিক হিসেবে অবদান:
যদিও তিনি বহু ঘরানায় লিখেছেন, তবু শিশুসাহিত্যিক হিসেবে তাঁর পরিচিতি বিশেষভাবে উজ্জ্বল। সহজ-সরল ভাষায় লেখা তাঁর গল্প-কবিতা শিশুদের কল্পনা, মূল্যবোধ ও মানবিক চেতনা লালনে গভীর ভূমিকা রেখেছে।
প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণ:
ডকুমেন্টারি নির্মাতা হিসেবে শাহরিয়ার কবিরের কাজ দেশ-বিদেশে প্রশংসিত। তাঁর নির্মিত ‘জিহাদের প্রতিকৃতি’ উল্লেখযোগ্য প্রামাণ্যচিত্র, যা চরমপন্থা ও কট্টরপন্থী মতাদর্শের বিপদ সম্পর্কে তীক্ষ্ণ ও সাহসী দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে।
মানবাধিকার ও মুক্তিযুদ্ধচেতনা রক্ষায় ভূমিকা:
১৯৯২ সাল থেকে তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের বিরুদ্ধশক্তি, ঘাতক-দালাল ও মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সক্রিয়ভাবে যুক্ত। তিনি একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি–র অন্যতম মুখপাত্র ও প্রধান সংগঠক।
দেশে মানবাধিকার, ধর্মনিরপেক্ষতা, সাংস্কৃতিক মুক্তি এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সংরক্ষণে তাঁর ভূমিকা সুদীর্ঘ ও অনন্য।
ব্যক্তিগত সম্মাননা ও অবদান:
সাহিত্য, সাংবাদিকতা, মানবাধিকার ও প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণ—সব ক্ষেত্রেই শাহরিয়ার কবিরের প্রতি সমাজের শ্রদ্ধা ও সম্মান অপরিসীম। তাঁর কাজ নতুন প্রজন্মকে সত্য, মানবতা এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পথে অনুপ্রাণিত করে।
শুভকামনা:
আজকের এই বিশেষ দিনে তাঁর প্রতি রইল আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।
বাংলাদেশের চিন্তা-সংস্কৃতি, মানবাধিকার ও মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ রক্ষায় তাঁর কলম, কণ্ঠ ও ক্যামেরা অটুট থাকুক—এই শুভকামনা জানাই।