খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 22শে চৈত্র ১৪৩২ | ৫ই এপ্রিল ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
শেরপুর জেলার শ্রীবরদী উপজেলায় গত ১ এপ্রিল একটি চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, যা মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সমাধান করা সম্ভব হয়েছে। ঘটনাস্থল ছিল তাঁতীহাটি নয়াপাড়া ঢালিবাড়ী মোড়, যেখানে একটি ট্রাংকের মধ্যে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত নারী হলেন ডলি আক্তার (৩৫), নেত্রকোণার মোহনগঞ্জ উপজেলার মো. আলাল মিয়ার কন্যা।
পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), জামালপুর জানিয়েছে, মূল আসামি মো. নিয়ামুর নাহিদ (২৬) ও তার স্ত্রী মোছা. রিক্তা মনি (২৬) গ্রেপ্তার হয়ে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। তারা হত্যার দায় স্বীকার করেছেন। এছাড়া পিকআপ চালক আশরাফ আলী সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন।
পিবিআই জামালপুরের পুলিশ সুপার পংকজ দত্ত পিপিএম জানান, ৩০ মার্চ রাত আনুমানিক ৮টার দিকে নিয়ামুর নাহিদ তার স্ত্রী অনুপস্থিতি সুযোগে ডলির সাথে পরিচয়ের সূত্র ধরে তাকে বাসায় নিয়ে যায়। সেখানে টাকার দর কষাকষি ও অনৈতিক বিষয় নিয়ে বাগবিতণ্ডা হয়। ডলি চিৎকার শুরু করলে নাহিদ লোক দেখার ভয়ে গামছা পেঁচিয়ে তাকে হত্যা করে।
পরবর্তী দিন মরদেহ পিকআপে ভাড়া করে শ্রীবরদীতে ফেলে দেওয়া হয়। পিবিআই তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে পিকআপ ও ড্রাইভার শনাক্ত করে ঘটনার চক্র উদঘাটন করে।
ডলির জীবনচক্র অনুযায়ী, তার প্রথম স্বামী কাজিম উদ্দিন মারা যাওয়ার পর প্রায় তিন বছর আগে তিনি মো. বিল্লাল হোসেনের সাথে পুনর্বিবাহ করেন। গাজীপুরে ভাড়া বাসায় থাকা ডলি গার্মেন্টস চাকরিতে নিয়োজিত ছিলেন। অপরদিকে আসামি নিয়ামুর নাহিদ ও রিক্তা মনি গাজীপুরের শ্রীপুরে ভাড়া বাসায় থেকে টেক্সটাইলে চাকরি করতেন।
মূল আসামি ও সহযোগী আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এরপর তাদের জেলা কারাগারে প্রেরণ করা হয়।
প্রেস ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন পিবিআইয়ের এসআই মো. আব্দুস সালাম, মো. ফয়জুর রহমান, মো. সামিউল ইসলাম, মো. হাফিজুর রহমান সহ স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা। পিবিআই’র তৎপরতা ও তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার হত্যাকাণ্ড দ্রুত সমাধান নিশ্চিত করেছে।
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| নিহতের নাম | ডলি আক্তার, ৩৫ বছর |
| ঘটনা তারিখ | ১ এপ্রিল ২০২৬ |
| হত্যাকাণ্ডের স্থান | শ্রীবরদী, তাঁতীহাটি নয়াপাড়া ঢালিবাড়ী মোড় |
| মরদেহ অবস্থান | ট্রাংকের ভেতর, হাত-পা বাঁধা |
| মূল আসামি | মো. নিয়ামুর নাহিদ, ২৬ বছর |
| সহযোগী আসামি | মোছা. রিক্তা মনি, ২৬ বছর |
| হত্যার কারণ | অর্থ ও অনৈতিক বিষয় নিয়ে বিরোধ |
| গ্রেপ্তার তারিখ | ৪ এপ্রিল ২০২৬ |
| স্বীকারোক্তি | ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকার |
| তদন্তকারী সংস্থা | পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) |
শ্রীবরদীর এই হত্যাকাণ্ডের দ্রুত সমাধান পিবিআই’র কার্যকর তদন্ত এবং তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার কে প্রমাণ করেছে। দ্রুত গ্রেপ্তার ও স্বীকারোক্তি দেশের আইনশৃঙ্খলা ও অপরাধ তদন্ত ব্যবস্থার সক্ষমতা তুলে ধরেছে। স্থানীয় ও জাতীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার গুরুত্ব এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশের সক্ষমতা এ ঘটনায় পুনরায় প্রমাণিত হয়েছে।