খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারি ২০২৬
অভিনন্দন
শুভ জন্মদিন
মমতা ব্যানার্জি
আজ পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির সবচেয়ে প্রভাবশালী ও সংগ্রামী নারী নেত্রী, মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি-র জন্মদিন। কালীঘাটের সরু গলি থেকে বাংলার মসনদ—এই দীর্ঘ পথচলায় গঙ্গায় যেমন গড়িয়েছে অনেক জল, তেমনি রাজনীতির উত্তাপে শুকিয়ে গেছে তিস্তা, জন্ম নিয়েছে ধুধু বালুচর, জমেছে ইতিহাসের বহু স্তর।
তৃণমূল কংগ্রেসের সুপ্রিমো মমতা ব্যানার্জির রাজনৈতিক যাত্রাপথের সূচনা কলেজ জীবন থেকেই। কংগ্রেসের হাত ধরেই রাজনীতিতে তাঁর প্রবেশ। ছাত্র রাজনীতি থেকেই তিনি ছিলেন এক উজ্জ্বল, স্পষ্টভাষী ও লড়াকু মুখ। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অজস্র ঘাত-প্রতিঘাত, সংঘাত ও ষড়যন্ত্রের মধ্য দিয়েই গড়ে ওঠে আজকের ‘অগ্নিকন্যা’—বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি।
কংগ্রেস থেকে বেরিয়ে এসে নিজের রাজনৈতিক বিশ্বাসকে পাথেয় করে তিনি গড়ে তোলেন নতুন দল—তৃণমূল কংগ্রেস। সেই দলই একদিন ভেঙে দেয় বামফ্রন্টের ৩৪ বছরের অটুট লাল দুর্গ। ২০১১ সালে বাংলায় বইয়ে দেন পরিবর্তনের হাওয়া। এরপর টানা তিনবার পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্বে আসীন হয়ে তিনি প্রমাণ করেছেন, রাজনৈতিক দৃঢ়তা ও জনসংযোগ কীভাবে ইতিহাস বদলে দেয়।
জাতীয় রাজনীতিতেও তাঁর ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য। নতুন দল গড়ে তোলার পাশাপাশি তিনি পরপর দু’বার রেলমন্ত্রী, একবার কয়লা মন্ত্রকের দায়িত্ব এবং মানবসম্পদ উন্নয়ন, যুব ও ক্রীড়া, নারী ও শিশুকল্যাণ বিভাগের রাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে কেন্দ্রীয় শাসক দলের বিরুদ্ধে তিনি অন্যতম প্রধান বিরোধী কণ্ঠ—যার রাজনৈতিক প্রভাব জাতীয় রাজনীতিতেও গভীরভাবে আলোচিত।
নিজের অদম্য প্রচেষ্টা আর আত্মবিশ্বাসেই কালীঘাটের গলির মেয়েটি আজ সকলের প্রিয় ‘দিদি’। রাজনীতির পথে হাঁটতে গিয়ে একাধিকবার হামলা, হুমকি ও শারীরিক আঘাতের শিকার হয়েছেন তিনি। তবুও মাথা নত না করে বারবার উঠে দাঁড়িয়েছেন, আন্দোলনের মাঠে নেমেছেন অগণিতবার।
বাম আমলে বাংলায় শক্তিশালী বিরোধী রাজনীতির মুখ ছিলেন মমতা ব্যানার্জি। সিঙ্গুর ও নন্দীগ্রাম আন্দোলন তাঁর রাজনৈতিক জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। শিল্পায়নের নামে কৃষিজমি দখল, তাপসি মালিক হত্যাকাণ্ড—এই সব ঘটনার বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েই তিনি মানুষের আস্থা অর্জন করেন। সেই আস্থার ফলেই ২০১১ সালে বাংলার শাসনভার তাঁর হাতে আসে।
এই সাফল্য একদিনে আসেনি। দীর্ঘদিনের সংগঠন, লড়াই ও আত্মত্যাগের ফসল ছিল সেই বিজয়। এক সময়ের ছোট দল তৃণমূল কংগ্রেস পরিণত হয় রাজ্যের শাসক দলে, আর মমতা ব্যানার্জি হয়ে ওঠেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী।
ক্ষমতায় আসার পর তাঁর ঝুলিতে যোগ হয় একের পর এক সাফল্য। ২০১২ সালে টাইম ম্যাগাজিন তাঁকে বিশ্বের ১০০ জন প্রভাবশালী ব্যক্তির তালিকায় স্থান দেয়। একই বছর ব্লুমবার্গ মার্কেটস তাঁকে বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রভাবশালী ৫০ জন ব্যক্তির একজন হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। ২০১৮ সালে তিনি লাভ করেন স্কচ বর্ষসেরা মুখ্যমন্ত্রী সম্মাননা।
তাঁর সরকারের অন্যতম জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ ‘কন্যাশ্রী’ প্রকল্প আন্তর্জাতিক পরিসরে প্রশংসিত ও পুরস্কৃত হয়েছে। পাশাপাশি বিজেপির দুর্নীতি ও সাম্প্রদায়িক রাজনীতির বিরুদ্ধে দৃপ্ত কণ্ঠে বিরোধিতা করতে আজও তিনি অগ্রভাগে।
জন্ম: ৫ জানুয়ারি ১৯৫৫
বাংলার এই জননেত্রীর জন্মদিনে এপার বাংলার মানুষের পক্ষ থেকেও একটি প্রত্যাশা উচ্চারিত হচ্ছে—
দিদি, আমাদের ন্যায্য প্রাপ্যটুকু বুঝিয়ে দিন। তিস্তা সমস্যার আশু ও স্থায়ী সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখুন।
আজকের এই বিশেষ দিনে ফেসবুক পরিবারের পক্ষ থেকে রইল আপনার জন্য আন্তরিক শুভেচ্ছা ও শুভকামনা।