খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সোমবার সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের যথাসময়ে অফিসে উপস্থিত থাকার নির্দেশ জারি করেছে। মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব (প্রশাসন) কামরুল হাসানের স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে বলা হয়েছে, উক্ত নির্দেশনা “সরকারি কর্মচারী (নিয়মিত উপস্থিতি) বিধিমালা, ২০১৯” এর প্রেক্ষিতে দেওয়া হয়েছে।
অফিস আদেশে পরিষ্কারভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, নিম্নলিখিত আচরণগুলো দপ্তর শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে:
| আচরণ | বিবরণ |
|---|---|
| বিনা অনুমতিতে অনুপস্থিতি | অফিস সময়ে দপ্তরে অনুপস্থিত থাকা |
| বিনা অনুমতিতে অফিস ত্যাগ | অনুমতি ছাড়া অফিস ত্যাগ করা |
| বিলম্বে অফিসে উপস্থিতি | নির্ধারিত সময়ের পরে দপ্তরে প্রবেশ করা |
অফিস আদেশে আরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে কর্মদিবসে সকাল ৯টার মধ্যে নিজ নিজ দপ্তরে উপস্থিত থাকতে হবে। অফিস সময় শেষ হওয়ার আগে—পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে বিকেল ৩টা ৩০ মিনিট এবং রমজান-পরবর্তী সময়ে বিকেল ৫টার আগে—কেউ নিজ দপ্তর ত্যাগ করতে পারবে না।
দাপ্তরিক বা জরুরি প্রয়োজনে অফিস ত্যাগের প্রয়োজন হলে, কর্মকর্তাদের নিজ অনুবিভাগ প্রধান (যুগ্ম সচিব/সলিসিটর) থেকে অনুমতি গ্রহণ করতে হবে। অনুমোদন প্রাপ্ত কর্মকর্তা তফসিল অনুযায়ী অফিস ত্যাগের রেজিস্টার-এ এন্ট্রি এবং ডিজিটাল হাজিরা নিশ্চিত করবেন।
অফিস আদেশে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে যে, বিনা অনুমতিতে অনুপস্থিত থাকা, অফিস ত্যাগ করা বা অফিসে বিলম্বে উপস্থিতির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ এবং নিয়মিত উপস্থিতি বিধিমালা, ২০১৯ অনুযায়ী শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য হলো সরকারি অফিসসমূহে দাপ্তরিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং কর্মপ্রবাহের কার্যকারিতা নিশ্চিত করা। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দফতর উপস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করার জন্য মন্ত্রণালয় ডিজিটাল হাজিরা ও অফিস ত্যাগের রেজিস্টারকে প্রাধান্য দিয়েছে।
অফিসের সূত্রে জানা গেছে, এই নির্দেশনার ফলে সকল বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সক্রিয়ভাবে সময়মতো দপ্তরে উপস্থিত থাকার জন্য আরও দায়িত্বশীল হবেন। এছাড়া, অফিস শৃঙ্খলা বজায় রাখার পাশাপাশি জনসেবা কার্যক্রমের গতি বৃদ্ধি ও প্রশাসনিক দায়িত্ব যথাযথভাবে সম্পাদন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
সুতরাং, মন্ত্রণালয় আশা করছে, সরকারি কর্মচারীরা এই নির্দেশনার প্রতি যথাযথ দৃষ্টি দেবেন এবং অফিস শৃঙ্খলার উন্নয়নে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করবেন।