খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 27শে মাঘ ১৪৩২ | ৯ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে সরকারি ট্রেজারি-বিল (টি-বিল) সুদের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে, যা মূলত আর্থিক বাজারে তরলতার পরিবর্তন এবং বিনিয়োগকারীদের সতর্ক মনোভাবকে প্রতিফলিত করছে। নির্বাচনের অস্থির প্রেক্ষাপটে বেসরকারি খাতের ঋণ চাহিদা কম থাকায় ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলি তাদের অতি তৎপর তহবিল ঝুঁকিমুক্ত সরকারি সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী হচ্ছে। বিনিয়োগকারীরা মূলধন সংরক্ষণ এবং স্থিতিশীলতা অগ্রাধিকার দিচ্ছেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক নিলামের ফলাফলে দেখা গেছে, সব মেয়াদের টি-বিলের কেটে নেওয়া (cut-off) সুদ কমেছে। ৯১ দিনের টি-বিলের সুদ ১০.৪০% থেকে ১০.২৪% এ নেমেছে, ১৮২ দিনের জন্য সুদ ১০.৩৪% থেকে ১০.২৮% এবং ৩৬৪ দিনের দীর্ঘমেয়াদি টি-বিলের সুদ সবচেয়ে বেশি কমে ১০.৪৯% থেকে ১০.৩৪% হয়েছে।
সরকার এই নিলামের মাধ্যমে মোট ৭৫,০০০ কোটি টাকা সংগ্রহ করেছে, যার একটি অংশ জাতীয় বাজেট ঘাটতি পূরণের জন্য ব্যবহার করা হবে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই সুদের হ্রাস মূলত ব্যাংকগুলোর মধ্যে সরকারি সঞ্চয়পত্রের উচ্চ চাহিদার কারণে হয়েছে, যেখানে ভোটের আগে বেসরকারি খাতের ঋণ গ্রহণ কম ছিল।
নীচের টেবিলে সাম্প্রতিক নিলামের বিস্তারিত তুলে ধরা হলো:
| টি-বিল মেয়াদ | পূর্বের সুদ (%) | বর্তমান সুদ (%) | পরিবর্তন (bps) | তহবিল সংগ্রহ (ট্রিলিয়ন টাকা) |
|---|---|---|---|---|
| 91 দিন | 10.40 | 10.24 | -16 | 0.25 |
| 182 দিন | 10.34 | 10.28 | -6 | 0.25 |
| 364 দিন | 10.49 | 10.34 | -15 | 0.25 |
বাংলাদেশ ব্যাংকের এক সিনিয়র কর্মকর্তা জানান, “ব্যাংকগুলো অতিরিক্ত তহবিলকে নিরাপদ ও তরল স্থানে বিনিয়োগ করার পথ খুঁজছে। টি-বিল একটি ঝুঁকিমুক্ত ও সহজলভ্য বিকল্প, বিশেষ করে নির্বাচনের আগে বেসরকারি ঋণের চাহিদা কম থাকার কারণে।”
অর্থনীতিবিদরা মন্তব্য করেছেন, বর্তমান তরলতার অভাবটি সংক্ষিপ্ত মেয়াদে টি-বিলের সুদকে নিম্নমুখী রাখবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিপো ও রিভার্স রিপো লেনদেন এবং নির্বাচনের সময় প্রদত্ত নীতি সংকেত স্বল্পমেয়াদি সুদের হারের উপর প্রভাব ফেলতে পারে।
বাজার বিশ্লেষকরা আরও দেখাচ্ছেন, দীর্ঘমেয়াদি টি-বিলের সুদের হ্রাস মুদ্রাস্ফীতি স্থিতিশীল থাকার প্রত্যাশা এবং ঝুঁকি প্রিমিয়ামের কমার ইঙ্গিত দিচ্ছে। ব্যাংক ও ঝুঁকিসংবেদনশীল আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য টি-বিল একটি পূর্বনির্ধারিত, নিম্নঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগের পথ প্রদান করে। বাজেট ঘাটতি পূরণে সরকারের নির্ভরতা এবং প্রতিষ্ঠানিক তহবিলের জন্য ঝুঁকিমুক্ত বিনিয়োগ মাধ্যম হিসেবে টি-বিলের গুরুত্ব বাংলাদেশের আর্থিক ব্যবস্থায় অপরিহার্য।