খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 18শে শ্রাবণ ১৪৩২ | ২ই আগস্ট ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
চাঁদাবাজির অভিযোগে গুলশান থেকে গ্রেপ্তার হওয়া ‘সমন্বয়ক’ পরিচয়ধারী রিয়াদ ও তার চার সহযোগী শুধু চাঁদাবাজিতেই নয়, জড়িত মাদক ব্যবসার সঙ্ঘবদ্ধ এক সিন্ডিকেটে। তদন্তে উঠে এসেছে, সারাদেশে শতাধিক তরুণ ‘সমন্বয়ক’ পরিচয়ে কাজ করছে একটি শক্তিশালী মাদকচক্রে। তারা শুধু মাদক পরিবহন ও বিক্রির নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে না, বরং নতুন নতুন ভোক্তা তৈরিতেও সক্রিয় ভূমিকা রাখছে।
বিশেষ সূত্র বলছে, এসব তরুণ জুলাই আন্দোলনের সময় বিভিন্ন মহলে পরিচিতি পায়, সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে তারা পরে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে মাদক নেটওয়ার্ক ছড়িয়ে দেয়। গুলশান-বনানীসহ ঢাকার অভিজাত এলাকাগুলোয় যেখানে আগে মাদক কারবার অন্যদের হাতে ছিল, সেখানে এখন দখল নিয়েছে এই ‘সমন্বয়ক’ গোষ্ঠী।
১১ মাস ধরে তারা ঢাকার বিভিন্ন বার, মাদক স্পট এবং আড্ডাস্থল থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় করছে। একইসঙ্গে, এসব জায়গায় তাদের পণ্য বিক্রি করতেও বাধ্য করছে সংশ্লিষ্টদের। বিভিন্ন সূত্র বলছে, ৫ আগস্টের পর এই চক্র আরো সংঘবদ্ধ হয় এবং স্থানীয় প্রভাবশালী মাদক ব্যবসায়ীদের ছত্রচ্ছায়ায় নতুন সিন্ডিকেট গড়ে তোলে।
প্রথমে টাকা ও মাদকের প্রলোভনে প্রভাবশালীদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে, পরে ‘সমন্বয়ক’ পরিচয় ব্যবহার করে মাদক পরিবহন ও বিক্রির নিরাপদ চক্র তৈরি করে তারা। তাদের মাধ্যমে শতাধিক লোক এখন এই কাজে নিয়োজিত, যারা জল, স্থল ও আকাশপথে ভারত ও মিয়ানমার থেকে আসা মাদক সারা দেশে ছড়িয়ে দিচ্ছে।
মাদকের সহজলভ্যতা ও নিরাপদ ডেলিভারির কারণে ভোক্তার সংখ্যাও বেড়ে যাচ্ছে বলে জানায় সংশ্লিষ্ট সূত্র। স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের মাঝেও সক্রিয়ভাবে মাদক ছড়ানো হচ্ছে, যা উদ্বেগজনক। মাদক ব্যবসার মাধ্যমে অনেক ‘সমন্বয়ক’ এখন কোটিপতির কাতারে।
ঢাকার গুলশান, বনানী, ধানমন্ডি, উত্তরা, মিরপুর, মোহাম্মদপুর, যাত্রাবাড়ী, পুরান ঢাকা ছাড়াও দেশের সব জেলা শহরে এই গোষ্ঠী ছড়িয়ে পড়েছে। কেউ প্রতিবাদ করলে তাকে হয়রানি, হেনস্তা বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে। কখনো আবার সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য মব তৈরি করা হচ্ছে।
এরা এককালীন, দৈনিক ও মাসিক ভিত্তিতে চুক্তিভিত্তিক অর্থ গ্রহণ করে কাজ করছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, মাদক ব্যবসায়ীরা সবসময়ই প্রভাবশালীদের দলে টানার চেষ্টা করে। এভাবে অনেকেই মাদকচক্রে জড়িয়ে পড়ছে। দেশে অল্প সময়ে ধনী হওয়ার প্রবণতা থেকেও বহু মানুষ এই অপরাধে নামছে।
তিনি জানান, মাদক চক্রের সদস্যদের তালিকা তৈরি করে তা নিয়মিত হালনাগাদ করা হচ্ছে এবং অভিযান চলমান রয়েছে। মাদক কারবারে জড়িত কেউই ছাড় পাচ্ছে না।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ও অপরাধ বিশ্লেষক ড. তৌহিদুল হক বলেন, ‘মাদক ব্যবসায় প্রতিনিয়ত নতুন লোক যুক্ত হচ্ছে। তারা আগের চেয়ে আরও উন্নত কৌশল ও বাহক ব্যবহার করছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাদক উদ্ধার ও গ্রেপ্তার করলেও এর মূল হোতারা এখনো অধরাই থেকে যাচ্ছে।’
খবরওয়ালা/এমএজেড