খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
টানা দুই আসরের শিরোপা ধরে রেখে এবার হ্যাটট্রিক লক্ষ্য নিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় নারী ফুটবল টুর্নামেন্ট সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে নামতে যাচ্ছে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। আগামী ২৫ মে ভারতের গোয়ার মাটিতে শুরু হতে যাওয়া এই প্রতিযোগিতার আগে নিজেদের আরও শাণিত করতে বিদেশে প্রস্তুতি ক্যাম্পের পরিকল্পনা করছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)।
বাফুফে সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় দলের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ঋতুপর্ণা চাকমা, মারিয়া মান্দাসহ সিনিয়র খেলোয়াড়দের নিয়ে দুই সপ্তাহের জন্য চীন অথবা থাইল্যান্ডে কন্ডিশনিং ক্যাম্প আয়োজনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে দলকে উচ্চমানের অনুশীলন পরিবেশ ও শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে প্রস্তুতির সুযোগ করে দিতে চায় ফেডারেশন।
বাফুফে সহ-সভাপতি ফাহাদ করিম জানিয়েছেন, বিদেশে ক্যাম্প আয়োজনের বিষয়ে আলোচনা চলমান রয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা দুই সপ্তাহের জন্য থাইল্যান্ড কিংবা চীনে ক্যাম্প করার পরিকল্পনা করছি। ফিফা উইন্ডোর বাইরে থাকায় আনুষ্ঠানিক আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজন কঠিন, তবে স্থানীয় লিগের দলগুলোর সঙ্গে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার চেষ্টা থাকবে।”
এর আগে এশিয়ান কাপ এবং অনূর্ধ্ব–২০ নারী এশিয়ান কাপের সময়ও বিদেশে ক্যাম্পের পরিকল্পনা থাকলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। তবে এবার সাফের মতো গুরুত্বপূর্ণ টুর্নামেন্ট সামনে রেখে পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নের বিষয়ে বাফুফে তুলনামূলকভাবে বেশি আশাবাদী।
প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, জাতীয় দল প্রথমে দেশের মাটিতে অনুশীলন ক্যাম্প করবে। ফাহাদ করিম জানান, চট্টগ্রামে ১০ দিনের একটি প্রাথমিক ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হবে। এরপর দল ঢাকায় ফিরে আরও দুই দিন অনুশীলন করবে। সবশেষে বিদেশে ক্যাম্পে যোগ দিতে ঋতুপর্ণা–মারিয়ারা সরাসরি থাইল্যান্ড বা চীনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করবে।
বিদেশের ক্যাম্প শেষ করে দল আর দেশে ফিরবে না। সেখান থেকেই ২১ বা ২২ মে সরাসরি ভারতের গোয়ায় পৌঁছে যাবে বাংলাদেশ নারী দল, যেখানে তাদের সাফ শিরোপা ধরে রাখার মিশন শুরু হবে।
এবারের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে। পাকিস্তান অংশগ্রহণ না করায় এবার মোট ছয়টি দল নিয়ে টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হবে। ফলে প্রতিযোগিতার ফরম্যাট কিছুটা ভিন্ন হলেও শিরোপার লড়াই হবে আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ।
বাংলাদেশ নারী দলের সাম্প্রতিক সাফল্য, বিশেষ করে টানা দুইবার সাফ জয়, এশিয়ান পর্যায়ে তাদের অবস্থানকে আরও দৃঢ় করেছে। সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতেই বাফুফে এবার প্রস্তুতিতে বাড়তি গুরুত্ব দিচ্ছে।
নিচে প্রস্তুতি পরিকল্পনার একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র তুলে ধরা হলো—
| ধাপ | বিবরণ |
|---|---|
| প্রাথমিক ক্যাম্প | চট্টগ্রামে ১০ দিন |
| দ্বিতীয় ধাপ | ঢাকায় ২ দিন অনুশীলন |
| বিদেশি ক্যাম্প | চীন বা থাইল্যান্ডে ২ সপ্তাহ |
| প্রস্তুতি ম্যাচ | স্থানীয় ক্লাব বা দল (সম্ভাব্য) |
| টুর্নামেন্ট যাত্রা | ২১ বা ২২ মে, সরাসরি গোয়া |
| টুর্নামেন্ট ভেন্যু | গোয়া, ভারত |
| অংশগ্রহণকারী দল | মোট ৬টি (পাকিস্তান অনুপস্থিত) |
ফুটবল সংশ্লিষ্টদের মতে, বিদেশে ক্যাম্প করলে খেলোয়াড়দের শারীরিক সক্ষমতা, ট্যাকটিক্যাল দক্ষতা এবং আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর সুযোগ বাড়বে। বিশেষ করে চীন বা থাইল্যান্ডের মতো দেশের শক্তিশালী লিগ কাঠামো ও উচ্চমানের অনুশীলন পরিবেশ বাংলাদেশের নারী দলের জন্য বড় সহায়ক হতে পারে।
সব মিলিয়ে, টানা তৃতীয় সাফ শিরোপার লক্ষ্য সামনে রেখে বাংলাদেশ নারী দলের প্রস্তুতিতে এবার আরও পেশাদার ও আন্তর্জাতিক মানের পরিকল্পনার ছাপ স্পষ্ট। বিদেশি ক্যাম্প সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে দলের আত্মবিশ্বাস ও পারফরম্যান্স—দুটিই নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।