খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬
সাশ্রয়ী ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে মার্চ পর্যন্ত জ্বালানি সরবরাহ ধরে রাখা সম্ভব বলে মনে করছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। বুধবার সচিবালয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, দেশে জ্বালানি সরবরাহ বর্তমানে ধীরগতি সম্পন্ন এবং এ অবস্থায় বিদ্যুৎ উৎপাদন সীমিত হতে পারে। মন্ত্রী আরও বলেন, “জ্বালানি না থাকলে বিদ্যুৎ আসবে কোথা থেকে। কিছুটা গ্যাস–সংকট হতে পারে, তবে লোডশেডিং হলেও তা অসহনীয় হবে না।”
তিনি সবাইকে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান জানান এবং বলেন, “যদি সবার সহযোগিতা থাকে, তাহলে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ ধরে রাখা সম্ভব হবে। ইফতার থেকে তারাবিহ পর্যন্ত এবং সাহ্রির সময় লোডশেডিং হবে না।” মন্ত্রী উল্লেখ করেন, এই সংকট রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবের তুলনায় অনেক বড়। তাই যা আছে, তা সঠিকভাবে ব্যবহার করা অত্যাবশ্যক।
জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, “এটি শুধু বাংলাদেশের সমস্যা নয়। বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানি সংগ্রহের জন্য প্রতিযোগিতা তীব্র। খোলাবাজার থেকে অতিরিক্ত জ্বালানি কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তবে প্রত্যাশিত সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। তাই বর্তমান সংকটের ব্যবস্থাপনা এখন প্রধান কাজ।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, ঈদের ছুটির সময়ে শিল্প কারখানার কার্যক্রম কমার কারণে বিদ্যুতের চাহিদা হ্রাস পাবে এবং বিভিন্ন খাতে গ্যাস সরবরাহ রেশনিং করা হবে।
মন্ত্রী জানান, দেশের মধ্যে হঠাৎ ডিজেলের বিক্রি অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। সীমান্তের ওপারে দাম বেশি থাকায় কিছু ডিজেল পাচার হতে পারে। তিনি বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। প্রয়োজনে সীমান্ত অঞ্চলে ডিজেল বিক্রিতে রেশনিং ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতিমধ্যে কিছু এলাকায় বিক্রি নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ শুরু হয়েছে।
জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। মন্ত্রী বলেন, “শপিংমলে এ সংকটের সময় আলোকসজ্জা করা উচিত নয়। যুদ্ধ ও বৈশ্বিক সমস্যার কারণে সবার জন্য সাশ্রয়ী ব্যবস্থাপনা জরুরি।” মন্ত্রণালয় থেকে বিস্তারিত নির্দেশনা ও বিজ্ঞপ্তি জারি করা হবে।
| খাত | সরবরাহ পরিস্থিতি | রেশনিং সম্ভাবনা | মন্তব্য |
|---|---|---|---|
| বিদ্যুৎ | সীমিত, তবে ধারাবাহিক | সীমিত লোডশেডিং | ইফতার ও সাহ্রি সময় রেশনিং নেই |
| গ্যাস | ধীরগতি, সংকট সম্ভাব্য | শিল্প ও বিভিন্ন খাতে রেশনিং | শিল্প কার্যক্রম হ্রাসে চাপ কমবে |
| ডিজেল | বিক্রি অস্বাভাবিক বৃদ্ধি | প্রয়োজনে রেশনিং | সীমান্তে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে |
মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু সবাইকে সতর্ক করেছেন যে, সংরক্ষিত ও সাশ্রয়ী ব্যবহারের মাধ্যমে দেশকে জ্বালানি সংকটের বড় ধাক্কা থেকে রক্ষা করা সম্ভব। সকলে যদি সচেতনভাবে অংশ নেন, তাহলে মার্চ পর্যন্ত সরবরাহ ধরে রাখা সম্ভব হবে এবং বিদ্যুৎ–গ্যাস ব্যবস্থাপনা তদারকি সহজ হবে।