খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
মিসরের মরুভূমি ও পাহাড়বেষ্টিত ঐতিহাসিক সিনাই উপদ্বীপে দশ হাজার বছরের পুরনো এক প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের সন্ধান পাওয়া গেছে। সম্প্রতি দেশটির পর্যটন ও পুরাকীর্তি বিষয়ক মন্ত্রণালয় উম ইরাক মালভূমিতে প্রাগৈতিহাসিক যুগের এই শিলাচিত্রগুলো আবিষ্কারের ঘোষণা দিয়েছে। এই আবিষ্কার কেবল মিসরের ইতিহাসকেই সমৃদ্ধ করেনি, বরং মানব সভ্যতার বিবর্তনের এক অনন্য দলিল হিসেবে বিশ্ববাসীর সামনে উন্মোচিত হয়েছে।
সিনাই উপদ্বীপ ঐতিহাসিকভাবেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অঞ্চল। এটি এশিয়া ও আফ্রিকা মহাদেশের মিলনস্থলে অবস্থিত। ১৯৬৭ সালের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের পর অঞ্চলটি ইসরায়েলের দখলে থাকলেও ১৯৮২ সালের চুক্তির মাধ্যমে তা পুনরায় মিসরের নিয়ন্ত্রণে আসে। বর্তমানে সিনাইয়ের দক্ষিণ অংশে অবস্থিত উম ইরাক মালভূমিতে প্রায় ১০০ মিটার দীর্ঘ একটি বিশাল শিলা কাঠামোর ওপর এই প্রাচীন চিত্রকর্মগুলো আবিষ্কৃত হয়েছে।
মিসরের সুপ্রিম কাউন্সিল অব অ্যান্টিকিউটিস-এর মতে, এই স্থানটি মূলত একটি ‘উন্মুক্ত জাদুঘর’। এখানে প্রাগৈতিহাসিক যুগ থেকে শুরু করে আদি ইসলামি যুগ পর্যন্ত মানুষের শিল্পকলা ও জীবনযাত্রার বিবর্তন স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
শিলাখণ্ডগুলোতে দুই ধরণের শিল্পকলা লক্ষ্য করা গেছে—একটি হলো লাল রঙে আঁকা চিত্রকর্ম এবং অন্যটি শিলার ওপর খোদাই করা নকশা। গবেষকদের মতে, লাল রঙের চিত্রগুলো প্রাগৈতিহাসিক যুগের শিকারী ও সংগ্রাহক সমাজের চিহ্ন বহন করে। অন্যদিকে, খোদাই করা চিত্রগুলোতে পরবর্তী সময়ের কৃষি ও পশুপালন ভিত্তিক সমাজের প্রতিচ্ছবি দেখা যায়।
টেবিল: সিনাই শিলাচিত্রের প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ
| বৈশিষ্ট্য | বিবরণ | ঐতিহাসিক সময়কাল |
| শিল্পশৈলী | লাল রঙে আঁকা এবং শিলা খোদাই (Petroglyphs) | প্রাগৈতিহাসিক থেকে ইসলামি যুগ |
| চিত্রের বিষয়বস্তু | বন্য প্রাণী, শিকারের দৃশ্য, সংকেত ও প্রতীক | প্রস্তর যুগ ও ব্রোঞ্জ যুগ |
| আবাসিক চিহ্ন | প্রাচীন দেয়াল, পাথুরে চুলা ও রান্নার সরঞ্জাম | ১০,০০০ বছর পূর্ব থেকে বর্তমান |
| সামাজিক চিত্র | পশুপালন, বাণিজ্য কাফেলা ও ধর্মীয় আচার | ফারাওনিক ও গ্রিকো-রোমান যুগ |
প্রত্নতাত্ত্বিকরা এই শিলা কাঠামোর ভেতরে প্রাচীন চুলা এবং পাথরের দেয়ালের ধ্বংসাবশেষ পেয়েছেন। এটি প্রমাণ করে যে, এই এলাকাটি কেবল চিত্রাঙ্কনের স্থান ছিল না, বরং হাজার হাজার বছর ধরে মানুষের স্থায়ী বসতি হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। মিসরের পর্যটন ও প্রত্নতত্ত্বমন্ত্রী শরিফ ফাতহি জানিয়েছেন, এই আবিষ্কারটি প্রমাণ করে যে মরুভূমির চরম আবহাওয়ার মধ্যেও প্রাচীন সভ্যতাসমূহ কতটা উন্নত ও সৃজনশীল ছিল।
বর্তমানে কায়রো সরকার সেন্ট ক্যাথরিন শহরকে কেন্দ্র করে একটি বৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নিয়েছে। ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় থাকা এই অঞ্চলটিতে পর্যটকদের আকর্ষণ বাড়াতে এবং এই নতুন আবিষ্কৃত শিলাচিত্রগুলোকে সংরক্ষণের লক্ষ্যে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। এর ফলে প্রত্নতত্ত্ব প্রেমী এবং গবেষকদের জন্য সিনাই উপদ্বীপ এক নতুন গন্তব্য হয়ে উঠবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।