খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
বিশ্বকাপ ফুটবলের আসরে আরও একবার বড় দলের বিপক্ষে নিজেদের শক্তিমত্তা ও লড়াকু মনোভাবের পরিচয় দিল সৌদি আরব। পূর্ববর্তী বিশ্বকাপে শক্তিশালী আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দেওয়া এশিয়ার এই দলটি এবার সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ের মুখোমুখি হয়ে চমৎকার ফুটবল উপহার দিয়েছে। ম্যাচের প্রথমার্ধে লিড নিয়েও শেষ পর্যন্ত ১-১ গোলের সমতায় মাঠ ছাড়তে হয়েছে তাদের। তবে ল্যাটিন আমেরিকার অন্যতম পরাশক্তি উরুগুয়ের বিপক্ষে এই ড্র এবং মূল্যবান এক পয়েন্ট অর্জন করার ফলে প্রতিযোগিতার পরবর্তী রাউন্ডে যাওয়ার পথ অনেকটাই মসরিন হলো সৌদি আরবের জন্য।
খেলার প্রাক্কালে কাগজের কলমে এবং দলগত শক্তিতে উরুগুয়ে স্পষ্ট ব্যবধানে জয়ী হওয়ার দাবিদার ছিল। তবে মাঠের লড়াইয়ে সৌদি আরব দেখিয়েছে যে, আন্তর্জাতিক বড় মঞ্চে যেকোনো প্রতিপক্ষকে রক্ষণাত্মক ও আক্রমণাত্মক কৌশলে পরাস্ত করার সামর্থ্য তাদের রয়েছে। ম্যাচের শুরু থেকেই বেশ সুসংগঠিতভাবে আক্রমণ সাজাতে থাকে সৌদি আরব। এর ফলশ্রুতিতে ম্যাচের ৪১তম মিনিটে তারা প্রথম সফলতার দেখা পায় এবং প্রতিপক্ষের জালে বল পাঠাতে সক্ষম হয়।
খেলার প্রথমার্ধ এবং দ্বিতীয় অর্ধের গোল করার বিবরণ ও সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড়দের ভূমিকা নিচের তালিকার মাধ্যমে উপস্থাপন করা হলো:
| অর্ধাংশ | গোলের সময় | গোল অর্জনকারী দল | গোলদাতার নাম | গোলের সংক্ষিপ্ত প্রেক্ষাপট |
| প্রথমার্ধ | ৪১ মিনিট | সৌদি আরব | আবদুলেলাহ আল–আমরি | কর্নার থেকে আসা বলে হাসান আল তামবাকতির হেডের পর গোলরক্ষকের হাত ফসকে যাওয়া ফিরতি বলে গোল। |
| দ্বিতীয়ার্ধ | ৮০ মিনিট | উরুগুয়ে | মাক্সিমিলিয়ানো আরাউহো | ম্যাচের শেষভাগে ক্রমাগত আক্রমণের চাপ ধরে রেখে চমৎকার ফিল্ড গোল। |
ম্যাচের ৪১তম মিনিটে একটি কর্নার থেকে উড়ে আসা বলে প্রথমে জোরালো হেড করেন সৌদি আরবের হাসান আল তামবাকতি। উরুগুয়ের অভিজ্ঞ ও নির্ভরযোগ্য গোলরক্ষক ফার্নান্দো মুসলেরা বলটি প্রথমাঘাতেই নিজের গ্লাভসে বন্দি করতে ব্যর্থ হন। তার হাত থেকে বল ফসকে গোললাইনের সামনে চলে আসলে সেখানে থাকা সৌদি ডিফেন্ডার আবদুলেলাহ আল–আমরি দ্রুত শটে বল জালে জড়িয়ে সৌদি আরবকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে নেন।
এক গোলে পিছিয়ে পড়ে বিরতির পর থেকেই ম্যাচে ফেরার জন্য আক্রমণের গতি ও তীব্রতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয় দুবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ে। ডারউইন নুনিয়েস, ফেদেরিকো ভালভার্দে এবং মাক্সিমিলিয়ানো আরাউহোদের সমন্বয়ে গড়া উরুগুয়ের আক্রমণভাগ একের পর এক আক্রমণ চালিয়ে সৌদি রক্ষণভাগকে ব্যস্ত ও কোণঠাসা করে ফেলে। তবে সৌদি আরবের রক্ষণভাগের খেলোয়াড়রা অত্যন্ত ধৈর্য ও শৃঙ্খলার সাথে দীর্ঘ সময় ধরে উরুগুয়ের সেই অগ্রযাত্রা প্রতিহত করে আসছিল।
ম্যাচের ৭০ মিনিট অতিবাহিত হওয়ার পরও যখন উরুগুয়ে কোনো গোলের দেখা পাচ্ছিল না, তখন ফুটবল মহলে আবারও ২০২২ সালের মতো সৌদি আরবের আরেকটি বড় অঘটনের সম্ভাবনা উঁকি দিচ্ছিল। কিন্তু ম্যাচের ৮০তম মিনিটে উরুগুয়ের আক্রমণভাগের খেলোয়াড় মাক্সিমিলিয়ানো আরাউহো নিখুঁত ফিনিশিংয়ে গোল করে দলকে সমতায় ফেরান। দীর্ঘ সময় ধরে চালানো আক্রমণের ফল হিসেবে এই গোলটি পাওয়ায় ম্যাচটি ১-১ সমতায় রূপ নেয়। খেলার শেষ দিকে জয়সূচক গোলের জন্য দুই দলই চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত পয়েন্ট ভাগাভাগি করেই মাঠ ছাড়তে হয় উভয় দলকে।