খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ১১ আগস্ট ২০২৫
রংপুরের তারাগঞ্জে চোর সন্দেহে গণপিটুনিতে নিহত হয়েছেন রূপলাল দাস (৪০) ও তাঁর আত্মীয় প্রদীপ লাল (৩৫)। মৃত্যুর আগে তাঁরা হাত জোড় করে জীবনের জন্য আকুতি জানালেও উপস্থিত লোকজনের মন গলেনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে দেখা যায়, তাঁদের অনুনয়ের মুহূর্তও থামাতে পারেনি নির্মমতা।
ঘটনাটি ঘটেছে তারাগঞ্জ উপজেলার সয়ার ইউনিয়নের বটতলা এলাকায়। নিহত রূপলাল দাস কুর্শা ইউনিয়নের ঘনিরামপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং পেশায় মুচি, আর প্রদীপ লাল মিঠাপুকুর উপজেলার বালুয়াভাটা গ্রামের বাসিন্দা।
ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, স্থানীয় কয়েকজন তাঁদের ভ্যানসহ আটক করে নাম–পরিচয় জানতে চান। ভ্যান থেকে একটি প্লাস্টিকের বস্তা বের করার পর উত্তেজিত জনতা তাঁদের মারতে উদ্যত হয়। এসময় এক যুবক পুলিশে খবর দেওয়ার প্রস্তাব করলেও ভিড়ের মধ্যে উচ্চ স্বরে ‘চোর–ডাকাইতের বাপ’ বলে গালি দেওয়া হয়।
রূপলাল প্রস্রাবের কথা বললে জনতা ভেবে বসে তিনি পালাতে চাইছেন, তাই তাঁকে যেতে দেওয়া হয়নি। কিছুক্ষণ পর তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। প্রদীপ তখন ভ্যানে বসে ছিলেন, কিন্তু তাকেও ছাড়েনি উত্তেজিত জনতা। পরে দুজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে রূপলালকে মৃত ঘোষণা করা হয়। প্রদীপকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর ভোর ৪টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।
পুলিশ ঘটনাস্থল ও হাসপাতাল থেকে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়। সন্ধ্যায় রূপলালের লাশ বাড়িতে পৌঁছালে এলাকাবাসী মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন।
স্থানীয় ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের এক যুবক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘রাত তখন সাড়ে ৯টা। খবর ছড়িয়ে পড়ে, অজ্ঞান করে ভ্যান ছিনতাই করতে গিয়ে ধরা পড়েছে চোর। গিয়ে দেখি, শত শত মানুষের ভিড়। তাঁরা হাত জোড় করলেও কেউ শুনছিল না। মারতে মারতে বুড়িরহাট উচ্চবিদ্যালয়ের মাঠে নিয়ে যায়। অজ্ঞান হয়ে পড়লে মাঠে ফেলে রাখা হয়।’
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বুড়িরহাট বাজারের এক ব্যবসায়ী বলেন, ১০ থেকে ১২ দিন আগে বুড়িরহাটে শিশু ইরফান বাবুকে গলা কেটে হত্যা করে ভ্যান চুরি হয়। এর আগেও আশপাশে তিনটি চুরি–ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। তখন থেকে এলাকা উত্তপ্ত ছিল। চোর ধরা পড়েছে শুনে, ক্ষুব্ধ লোকজন ছুটে গিয়ে তাঁদের পিটিয়েছেন।
নিহতের স্ত্রী ভারতী রানী তারাগঞ্জ থানায় অজ্ঞাত ৭০০ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ ভিডিও বিশ্লেষণ ও প্রযুক্তির সহায়তায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে—এবাদত হোসেন (২৭), আক্তারুল ইসলাম (৪৫), রফিকুল ইসলাম (৩৩) ও মিজানুর রহমান (২২)।
তারাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এম এ ফারুক জানান, ঘটনায় জড়িত কেউই ছাড় পাবে না; বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
খবরওয়ালা/এসআই