খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬
ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার ধুরাইল ইউনিয়নের চরগোরকপুর এলাকায় একটি বাড়ি থেকে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ১৫ বস্তা সরকারি চাল জব্দ করা হয়েছে। মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ রাত সাড়ে ১২টার দিকে পরিচালিত অভিযানে এসব চাল উদ্ধার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জান্নাত।
স্থানীয় ও প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি ধুরাইল ইউনিয়নে সরকারি খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির অংশ হিসেবে উপকারভোগীদের মাঝে চাল বিতরণ করা হয়। এ সময় আশরাফ উদ্দিন নামের এক ব্যক্তি সুবিধাভোগীদের কাছ থেকে কম দামে চাল কিনে নিজের বাড়িতে মজুত করেন। এই অনিয়মের তথ্য গোপন সূত্রে প্রশাসনের নজরে আনা হয়। উপজেলা এনসিপির প্রধান সমন্বয়কারী আবু রায়হান এই বিষয়ে প্রশাসনকে অবহিত করেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে পৌঁছে মাছের খাদ্যের পাশে রাখা ১৫ বস্তা সরকারি চাল উদ্ধার করেন। প্রতিটি বস্তার ওজন ৫০ কেজি হওয়ায় মোট উদ্ধারকৃত সরকারি চালের পরিমাণ দাঁড়ায় ৭৫০ কেজি। অভিযানের সময় আশরাফ উদ্দিন বাড়িতে উপস্থিত ছিলেন না। ফলে তাকে সরাসরি আটক করা সম্ভব হয়নি। তবে সরকারি চাল কেনা ও মজুত রাখার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
ইউএনও জান্নাত বলেন, “গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। সরকারি চাল কেনা ও মজুত রাখা একটি দণ্ডনীয় অপরাধ। এ ধরনের অনিয়ম আমরা বরদাশত করব না। এ ধরনের কার্যক্রমের বিরুদ্ধে প্রশাসন কঠোর অবস্থান নিয়েছে।”
ঘটনাটি স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে। তারা মনে করছেন, সরকারি খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি মূলত দুর্বল ও ক্ষুদ্র আয়ের পরিবারের জন্যে বরাদ্দ, তাই এর অপব্যবহার ন্যায়সঙ্গত নয়। প্রশাসনও এই ধরনের অনিয়ম প্রতিরোধে জনগণের সহায়তা কামনা করেছে।
উদ্ধারকৃত সরকারি চালের বিবরণ
| ধারা | পরিমাণ | বস্তার ওজন | মোট ওজন |
|---|---|---|---|
| সরকারি খাদ্যবান্ধব চাল | ১৫ বস্তা | ৫০ কেজি | ৭৫০ কেজি |
এ ঘটনায় জেলা প্রশাসন আরও সতর্ক হয়ে সম্প্রতি অন্যান্য ইউনিয়নে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির সরবরাহ পর্যবেক্ষণ বাড়িয়েছে। তারা জনগণকে অনুরোধ করেছে, কোনো ধরনের অনিয়মের তথ্য থাকলে তা গোপন বা প্রকাশিতভাবে জানাতে।
উল্লেখ্য, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি দেশের দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকারের এই প্রণোদিত চাল বিতরণ কর্মসূচি সচল রাখা এবং এর যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করাই প্রধান লক্ষ্য। প্রশাসন আশা করছে, এই অভিযান ও মামলার মাধ্যমে ভবিষ্যতে অনিয়মকারীরা সতর্ক হবেন।
এই ঘটনায় সরকারের স্বচ্ছতা ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমের প্রতি জনগণের আস্থা রক্ষা পাবে এবং খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির উদ্দেশ্য সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হবে।