খবরওয়ালা বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ১৩ জুলাই ২০২৫
বাংলা চলচ্চিত্রের অমর কিংবদন্তি কৌতুক অভিনেতা দিলদার। যে অভিনেতার উপস্থিতি এক সময় প্রেক্ষাগৃহে শুধু হাসির ঝরনা নয়, বরং এক ধরনের জীবন্ত আনন্দ ছড়িয়ে দিতো, তিনি আজও দর্শকদের হৃদয়ে বেঁচে আছেন। ২২ বছর আগে আজকের দিনে (১৩ জুলাই) যখন তিনি পৃথিবী থেকে চলে যান, তখনই যেন হারিয়ে গেলো বাংলা সিনেমার এক মহান কৌতুক অভিনেতা। তবে তার স্মৃতি, তার হাসি, তার অমর অভিনয় আজও আমাদের মনে গেঁথে আছে।
দিলদারের জন্ম চাঁদপুরে, মা-বাবার দেওয়া নাম ছিল দেলোয়ার হোসেন। চলচ্চিত্রে এসে হয়ে যান দিলদার। তার সিনেমায় আগমন ঘটেছিল ১৯৭২ সালে “কেন এমন হয়” সিনেমার মাধ্যমে। সেখানে তিনি প্রথম বড় পর্দায় অভিষেক করেন, এবং এরপর কখনোই পিছনে তাকাননি। তার অভিনীত “বেদের মেয়ে জোসনা”, “বিক্ষোভ”, “চাওয়া থেকে পাওয়া”, “অন্তরে অন্তরে” কিংবা “শুধু তুমি” সিনেমাগুলোর মধ্য দিয়ে তিনি শুধু দর্শকদের নয়, চলচ্চিত্রপ্রেমীদেরও হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছিলেন। তাঁর হাসি এবং অনবদ্য কৌতুক শৈলী, দর্শকদের মনে এক দীর্ঘদিনের স্মৃতি রেখে গেছে।
দিলদার শুধু একজন কৌতুক অভিনেতা ছিলেন না, বাস্তব জীবনে তিনি ছিলেন একজন সৎ ও সদালাপী মানুষ। শুটিং সেটে তার প্রাণবন্ত উপস্থিতি, সহশিল্পীদের উৎসাহ দেওয়ার জন্য প্রতিদিনই পরিচিত হয়ে ওঠে। এক সময়, মালেক আফসারীর “লাল বাদশা” সিনেমার জন্য তিনি “শুধু ডিম দিয়ে পরিচয়” গানটি গেয়ে শোনান, যা তখন জনপ্রিয়তার শীর্ষে পৌঁছেছিল।
তিনি ছিলেন একজন পরিবারের প্রতি দায়িত্বশীল পিতা ও স্বামী। রাত ১০টার পর শুটিংয়ে থাকতেন না, বরং তিনি সময় দিতেন তার পরিবারের জন্য। তার দুই কন্যা সন্তান এবং স্ত্রী রোকেয়া বেগম এখনো তার স্মৃতিতে বাঁচেন, যিনি বর্তমানে দিলদারের রেখে যাওয়া বাড়িতে আছেন।
দিলদার শুধু সিনেমার পর্দাতেই ছিলেন জনপ্রিয়, তার হৃদয়ের জায়গাও ছিল দর্শকদের মাঝে। ১৯৯৩ সালে “তুমি শুধু আমার” সিনেমায় অভিনয়ের জন্য তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছিলেন। এই পুরস্কার তার প্রতিভার জন্য আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি হলেও, আসল সম্মান তিনি পেয়েছেন জনগণের ভালোবাসা থেকে।
আজও যখন আমরা তার অভিনয় ও হাসির দৃশ্য মনে করি, তখন মনে হয়, যেন তার হাসির ঝরনা আজও আমাদের পাশে। দিলদারের মৃত্যুর ২২ বছর পরেও তার হাসির রাজত্ব অব্যাহত রয়েছে, যা বাংলা সিনেমার ইতিহাসে চিরকালীন স্থান করে নিয়েছে।
খবরওয়ালা/আরডি