খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৫ মে ২০২৫
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল এবং বামপন্থি ছাত্রসংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার (১৫ মে) দুপুরে এসব সংগঠনের নেতাকর্মীরা ভবনে ঢুকে কর্মকর্তাদের দুই মিনিটের মধ্যে বের হয়ে যাওয়ার ‘আল্টিমেটাম’ দেন বলে অভিযোগ করেছেন কর্মকর্তারা।
বৃহস্পতিবার (১৫ মে) দুপুরে ছাত্রদল ও বাম ছাত্রসংগঠনের একদল নেতাকর্মী প্রশাসনিক ভবনে ঢুকে পড়েন। তাঁরা ভবনের প্রতিটি কক্ষে গিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেরিয়ে যেতে বলেন। পরে তাঁদের উপস্থিতিতে কর্মীরা ভবন ত্যাগ করেন। ঘটনার সময় উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ খান ভবনে ছিলেন না।
দুপুর দেড়টার দিকে প্রশাসনিক ভবনে গিয়ে দেখা যায়, সব কক্ষে তালা ঝুলছে। কয়েকজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ছাত্রদল ও বাম সংগঠনের নেতারা এসে বলেন, কোনো কার্যক্রম চলবে না, সবাইকে বের হয়ে যেতে হবে। এ সময় কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে ‘ঔদ্ধত্যপূর্ণ’ আচরণও করা হয়েছে বলে জানান তাঁরা।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন ছাত্রদলের ধর্ম সম্পাদক শরীফ উদ্দিন সরকার, আন্তর্জাতিক সম্পাদক মেহেদী হাসান, ক্রীড়া সম্পাদক সাইফ উল্লাহ সাইফ, কবি জসীম উদ্দিন হল ছাত্রদলের প্রচার সম্পাদক তানভীর বারী হামিম, সূর্য সেন হলের প্রচার সম্পাদক প্রান্ত মাহমুদ, বিপ্লবী ছাত্রমৈত্রীর কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক জাবির আহমেদ জুবেল, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের ঢাবি শাখার সংগঠক সীমা আক্তারসহ আরও অনেকে।
বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে ছাত্রদলের ক্রীড়া সম্পাদক সাইফ উল্লাহ সাইফ বলেন, ‘আমরা কারও সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করিনি। সবাইকে শালীনভাবে ভবন ছাড়তে বলা হয়েছে। ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ থাকা সত্ত্বেও প্রশাসনিক কার্যক্রম চালানো হচ্ছিল। কেউ কালো ব্যাজও পরেননি।’
তবে প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ করার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ছিল না—এমন প্রশ্নে সাইফ দাবি করেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অফিসিয়াল কার্যক্রমও বন্ধ করেছে।’
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মুন্সী শামস উদ্দিন আহম্মদ বলেন, ‘অফিসিয়াল কার্যক্রম বন্ধ করা হয়নি। গতকাল এক ঘোষণায় বলা হয়েছিল, আজ অর্ধদিবস ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ থাকবে। আজ নতুন করে জানানো হয়েছে, পূর্ণ দিবস ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ থাকবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আজ দুপুরে কিছু শিক্ষার্থী কক্ষে কক্ষে গিয়ে বলেন, “দুই মিনিটের মধ্যে বের হয়ে যান।” এরপর বাধ্য হয়ে সবাই বেরিয়ে যান।’
উল্লেখ্য, ছাত্রদল নেতা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাম্য হত্যার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার অর্ধদিবস ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ রাখে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
খবরওয়ালা/এন