খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬
ইরানের শাসনব্যবস্থা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর পরও টিকে আছে, যদিও প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে দেশজুড়ে বিমান হামলা ও সামরিক উত্তেজনা চলছে। এই পরিস্থিতিতে ইসরায়েলি নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সূত্র বলছে, ইরানে হামলার সময় তারা কোন বাস্তবসম্মত রাজনৈতিক পরিবর্তনের আশা করেছিল না। অভিযানের পেছনে কোন শক্ত গোয়েন্দা তথ্যের অভাব ছিল এবং আশা করা হয়েছিল সাধারণ জনগণ বিদ্রোহে লিপ্ত হবে।
সূত্রগুলো বলছে, অভিযানের সফলতা এখন সরাসরি নির্ভর করছে ৪৪০ কেজি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের অবস্থার ওপর। গত বছরের জুনে সংঘাতের পর এই পরিমাণ ইউরেনিয়াম একটি পাহাড়ের নিচে সংরক্ষিত করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি থেকে ১০টিরও বেশি পারমাণবিক ওয়ারহেড তৈরির উপাদান বের করা সম্ভব, যা ইরানকে দ্রুত পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথে নিয়ে যেতে পারে।
এক সাবেক ইসরায়েলি জ্যেষ্ঠ প্রতিরক্ষা ও গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, “৪৪০ কেজি ইউরেনিয়ামই যুদ্ধের ফলাফল বোঝার সবচেয়ে স্পষ্ট সূচক। অভিযান সফল হয়েছে কি না—এর উত্তর এ নির্ভর করে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, ইসরায়েলের সামনে দুটি পথ রয়েছে: এক, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ইরানের বাইরে নেওয়া; দুই, এমন সরকার নিশ্চিত করা যা ইউরেনিয়ামের নিরাপদ সংরক্ষণ নিশ্চিত করবে।
ইরানের কট্টরপন্থীরা দীর্ঘদিন ধরে বলছেন, পারমাণবিক প্রতিরোধ ক্ষমতাই ইসলামি প্রজাতন্ত্রের টিকে থাকার প্রধান ভিত্তি। বর্তমান শাসনব্যবস্থা যদি টিকে থাকে, এই ধারণা আরও শক্তিশালী হবে। যুক্তরাষ্ট্র এমন একটি ঝুঁকিপূর্ণ সেনা অভিযানও বিবেচনা করছে যাতে ইউরেনিয়াম নিরাপদে জব্দ করা যায়। আগে আলোচনায় প্রস্তাব উঠেছিল, ইরানকে তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম অন্য কোনো দেশের কাছে হস্তান্তর করতে হবে।
সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তারা উল্লেখ করেছেন, চলমান যুদ্ধ হলো একটি উচ্চঝুঁকিপূর্ণ খেলা। সফল হলে মধ্যপ্রাচ্যকে পুরোপুরি বদলে দিতে পারে। কিন্তু যদি ইরানের শাসনব্যবস্থা টিকে থাকে এবং ৪৪০ কেজি ইউরেনিয়াম সংরক্ষিত থাকে, তাহলে ইরান দ্রুত পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথে এগোবে।
জোয়াব রোসেনবার্গ, সাবেক উপপ্রধান, ইসরায়েলি সামরিক গোয়েন্দা গবেষণা বিভাগ, বলেন, “ইউরেনিয়াম যদি ইরানের হাতে থাকে, যুদ্ধশেষে আমাদের জয় হবে ‘পিরিক ভিক্টরি’—এক ধরণের বিজয় যা শেষ পর্যন্ত ক্ষতির কারণ হয়।”
ইরানের পারমাণবিক হুমকির মাত্রা আরো বাড়তে পারে যদি খামেনির হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনির মনোভাব এখনো অপ্রকাশিত। সাবেক এক উচ্চপদস্থ ইসরায়েলি কর্মকর্তা বলেন, “মোজতবা দ্রুত পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথে এগোবেন।”
চলমান সংঘাতের ফলে পারমাণবিক কার্যক্রম হয়তো বিলম্বিত হবে, কিন্তু রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিলে তা ইসরায়েলের জন্য হুমকিকে তীব্রতর করবে। ইসরায়েলি সমর্থকরা আশা করছেন শাসনব্যবস্থা টিকে থাকলেও পারমাণবিক সক্ষমতা হারাবে। প্রয়োজনে লেবানন, সিরিয়া ও ইয়েমেনে সংঘাত সম্প্রসারণেও সমর্থন দেওয়া হবে।
| উপাদান | পরিমাণ | সম্ভাব্য ওয়ারহেড সংখ্যা | লক্ষ্য কার্যকারিতা |
|---|---|---|---|
| সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম | ৪৪০ কেজি | ১০+ | দ্রুত পারমাণবিক অস্ত্র প্রস্তুতি |
| সংরক্ষিত স্থান | পাহাড়ের নিচে | – | নিরাপদ, কঠিন লক্ষ্য |
| ঝুঁকি | উচ্চ | – | সামরিক অভিযান প্রয়োজনীয় |
এই তথ্যগুলো নির্দেশ করে, মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ এবং ইসরায়েলের কৌশলগত বিজয় এখন মূলত ৪৪০ কেজি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের নিয়ন্ত্রণে নির্ভর করছে।