খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ১২ জানুয়ারি ২০২৬
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ইতিহাসের এক অনাকাঙ্ক্ষিত অধ্যায়ে প্রবেশ করেছে। সম্প্রতি ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে ব্রাইটনের কাছে ২-১ গোলে হেরে এফএ কাপের তৃতীয় রাউন্ড থেকেই বিদায় নিয়েছে ইংলিশ জায়ান্টরা। এই হারের ফলে ১৯৮১-৮২ মৌসুমের পর প্রথমবার একই মৌসুমে দুই ঘরোয়া কাপ—এফএ কাপ ও কারাবাও কাপ—থেকে শুরুতেই ছিটকে যাওয়ার লজ্জার রেকর্ডে নাম লেখাল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড।
চলতি ২০২৫-২৬ মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে সর্বাধিক ৪০টি ম্যাচ খেলবে ইউনাইটেড। ইউরোপিয়ান প্রতিযোগিতায় না থাকার পাশাপাশি দুই ঘরোয়া কাপ থেকেও প্রথম রাউন্ডে বিদায় নেয়ার ফলে এখন তাদের একমাত্র ফোকাস প্রিমিয়ার লিগ।
কারাবাও কাপের প্রথম রাউন্ডে তারা লিগ টু ক্লাব গ্রিমসবির কাছে হেরে বিদায় নিয়েছিল। এরপর এফএ কাপেও ব্রাইটনের কাছে পরাজয় তাদের টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে দিয়েছে।
কোচের স্থিতিও অস্থিতিশীল। রুবেন আমোরিম বরখাস্ত হওয়ার পর অন্তর্বর্তী কোচ ড্যারেন ফ্লেচারের অধীনে দল ধারাবাহিকভাবে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল আনতে পারেনি। সাম্প্রতিক সাত ম্যাচে ইউনাইটেডের জয় মাত্র একটি।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এমন পরিস্থিতিতে এখনো প্রিমিয়ার লিগের শীর্ষ চারের মাধ্যমে ইউরোপিয়ান যোগ্যতা অর্জন সম্ভব হলেও চ্যাম্পিয়নস লিগে প্রত্যাবর্তন কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নিচের টেবিলে চলতি মৌসুমে ইউনাইটেডের ঘরোয়া কাপের ফলাফল সংক্ষেপে দেখানো হলো:
| প্রতিযোগিতা | রাউন্ড | প্রতিপক্ষ | ফলাফল |
|---|---|---|---|
| কারাবাও কাপ | প্রথম রাউন্ড | গ্রিমসবি | হার ০-২ |
| এফএ কাপ | তৃতীয় রাউন্ড | ব্রাইটন | হার ১-২ |
পরিসংখ্যানও সতর্কবার্তা দিচ্ছে। যেসব দল প্রিমিয়ার লিগে মাত্র ৪০টি ম্যাচ খেলে, তাদের বেশিরভাগই টেবিলের মাঝামাঝি বা নিচের দিকে অবস্থান করেছে। উদাহরণস্বরূপ, ২০২২ সালে নিউক্যাসল ইউনাইটেড ৪০ ম্যাচ খেলে ১১তম স্থানে শেষ করেছিল।
এখন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সামনে মূল লক্ষ্য বাকি আছে—মৌসুমটি সম্মানের সঙ্গে শেষ করা এবং প্রিমিয়ার লিগের শীর্ষ চারের মধ্যে স্থান নিশ্চিত করে আগামী মৌসুমের ইউরোপিয়ান প্রতিযোগিতার যোগ্যতা অর্জন। অন্যদিকে ট্রফি জয় প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এভাবে, ৪৪ বছরের ইতিহাসে এক লজ্জাজনক রেকর্ডের মাঝে থেকে ইউনাইটেডের প্রতিটি ম্যাচই এখন আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।