খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক:
প্রকাশ: সোমবার, ১০ মার্চ ২০২৫
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্যদের যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্রসহ পাঁচটি দেশে সম্পদের সন্ধান পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
সোমবার (১০ মার্চ) ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘একটি যৌথ তদন্ত দল শেখ হাসিনা, তার পরিবারের সদস্য এবং তাদের সঙ্গে সম্পর্কিত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, হংকং এবং কেম্যান দ্বীপপুঞ্জে সম্পদের সন্ধান পেয়েছে।’
মালয়েশিয়ার একটি ব্যাংকে রাশিয়ান অবৈধ অর্থের (স্লাশ ফান্ড) অস্তিত্ব পাওয়া গেছে বলেও জানান তিনি।
শফিকুল আলম জানান, ১২৪টি ব্যাংক হিসাবে জমা থাকা ৬৩৬ কোটি টাকা জব্দ বা ফ্রিজ করা হয়েছে। এছাড়াও রাজউকের ৬০ কাঠা জমি এবং ১০ শতক জমিসহ ৮টি ফ্ল্যাট, যার মূল্য ৮.৮৫ কোটি টাকা, জব্দ করা হয়েছে।
প্রেস সচিব জানান, লুণ্ঠন ও জালিয়াতির অভিযোগে হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে ছয়টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। তদন্ত শেষে ছয়টি মামলায় অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে।
হাসিনার সাতজন পরিবারের সদস্যের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।
বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) দুটি গোয়েন্দা প্রতিবেদন দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এ পাঠিয়েছে এবং ১১টি ব্যাংক হিসাবে জমা থাকা ৫.১৫ কোটি টাকা ফ্রিজ করেছে বলেও জানান আলম।
বিএফআইইউ হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্যদের সকল ব্যাংক হিসাবের বিবরণ দুদক-এ পাঠিয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
মানি লন্ডারিং প্রসঙ্গে প্রেস সচিব বলেন, শেখ হাসিনার শাসনামলে বাংলাদেশ থেকে প্রায় ২৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিদেশে পাচার করা হয়েছে এবং এর মধ্যে ১৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার দেশের ব্যাংকিং খাত থেকে পাচার করা হয়েছে।
‘এটি ছিল এক ধরনের অতিরিক্ত মহাসড়ক ডাকাতি,’ তিনি যোগ করেন।
খবরওয়ালা/জেআর