খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে ১৭ বছরের ব্যবধানে বিরোধী দলের নেতা ও কর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা আরও ১,২০২টি রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই নতুন সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ১৭ বছর ধরে রাজনৈতিক কারণে দায়েরকৃত মামলাগুলোর প্রতি সরকারের সমন্বিত মনোযোগ ও ন্যায়নিষ্ঠার প্রতিফলন ঘটে।
আজ মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা (পরিচালক) ফয়সল হাসান স্বাক্ষরিত এক খুদেবার্তায় এই তথ্য জানানো হয়। এর আগে গত রোববার একই কর্মকর্তার আরেক খুদেবার্তায় মন্ত্রী জানিয়েছিলেন, ১৭ বছর ধরে বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা ১,৬০৬টি রাজনৈতিক মামলা ইতিমধ্যে প্রত্যাহারের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
আইন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, হেফাজতে ইসলাম, গণ অধিকার পরিষদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা ও কর্মীদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা নিয়ে একটি সমন্বিত পর্যালোচনা করা হয়েছিল। এর ফলস্বরূপ ২৩,৮৬৫টি মামলার মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মামলা প্রত্যাহারের সুপারিশ অন্তর্বর্তী সরকারে করা হয়েছিল।
এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে রাজনৈতিক পরিবেশকে স্বচ্ছ ও ন্যায়নিষ্ঠ করার পাশাপাশি বিরোধী দলগুলোর প্রতি দীর্ঘস্থায়ী হয়রানিমূলক আচরণ বন্ধে সরকারের প্রতিশ্রুতি পুনরায় প্রতিফলিত হচ্ছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আশা প্রকাশ করেছে, এ ধরণের উদ্যোগ দেশকে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও নাগরিকদের প্রতি বিশ্বাসযোগ্যতার দিকে আরও এগিয়ে নেবে।
নিচের টেবিলে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহারের তথ্য সংক্ষেপে দেখানো হলো:
| সময়কাল | মামলার ধরন | অনুমোদিত মামলা | মন্তব্য |
|---|---|---|---|
| ১৭ বছর (ফ্যাসিস্ট সরকার আমল) | রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা | ১,২০২ | আজ মঙ্গলবার অনুমোদিত |
| ১৭ বছর (ফ্যাসিস্ট সরকার আমল) | রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা | ১,৬০৬ | গত রোববার অনুমোদিত |
| সামগ্রিক পর্যালোচনা (আওয়ামী লীগ সরকারের আমল) | রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা | ২৩,৮৬৫ | অন্তর্বর্তী সরকারের সুপারিশ |
এই উদ্যোগের মাধ্যমে রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে বিরাজমান হয়রানি ও চাপ কমানো সম্ভব হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেছেন, দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ন্যায়বিচার ও বিশ্বাস পুনঃস্থাপনের ক্ষেত্রে এ ধরনের পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
মন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, “এছাড়া, সরকার সর্বদা রাজনৈতিক সংলাপ ও সহমর্মিতা বৃদ্ধি করার মাধ্যমে দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশকে আরও শক্তিশালী করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
এই ধরণের নিয়মিত মামলা প্রত্যাহারের মাধ্যমে বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচারের সংস্কৃতি দৃঢ় করা সম্ভব হবে।