খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 12শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ২৪ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
আর্জেন্টিনার ফুটবল সম্প্রদায় সাম্প্রতিক কয়েক সপ্তাহ ধরে এক অস্থির পরিস্থিতির মুখোমুখি। মাঠের কোনো ঘটনা নয়, বরং আদালত ও কর দপ্তরের ফাইল এবং তদন্তে কেন্দ্রীভূত হয়েছে এই উত্তেজনা। এই প্রেক্ষাপটে আর্জেন্টাইন ফুটবল লিগের নবম রাউন্ডের সব ম্যাচ স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে। লিগ কর্তৃপক্ষ গতকাল এক বিবৃতিতে এই ‘অপ্রত্যাশিত’ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন।
মূল কারণ হিসেবে দেখানো হচ্ছে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) সভাপতি ক্লদিও তাপিয়ার বিরুদ্ধে চলমান দুর্নীতি ও কর ফাঁকির তদন্ত। আদালত এক পর্যায়ে তাপিয়ার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল, যদিও পরবর্তীতে তা প্রত্যাহার করা হয়। কিন্তু লিগ কর্তৃপক্ষ ‘ধর্মঘটের’ মাধ্যমে প্রতিবাদ জানিয়েছে।
গত বছরের ডিসেম্বরে আর্জেন্টিনার কর কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে যে, এএফএ খেলোয়াড় ও কর্মীদের অবসরভাতা সংক্রান্ত অর্থ আটকে রেখেছে এবং ২০২৪ সালের মার্চ থেকে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মোট ১৯ বিলিয়ন পেসো (প্রায় ১ কোটি ৩৮ লাখ মার্কিন ডলার) কর পরিশোধ করেনি। এর সঙ্গে অর্থ পাচারের অভিযোগও অন্তর্ভুক্ত।
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| কর ফাঁকির সময়কাল | মার্চ ২০২৪ – সেপ্টেম্বর ২০২৫ |
| করের পরিমাণ | ১৯ বিলিয়ন পেসো (প্রায় ১.৩৮ কোটি USD) |
| তল্লাশি করা ক্লাব | রেসিং, ইন্দিপেন্দিয়েন্তে, সান লরেঞ্জো |
| আদালতের জামিন | ৫০ লাখ পেসো |
| আগামী হাজিরার তারিখ | ৫ মার্চ ২০২৬ |
তাপিয়া আদালতের অনুমতি পেয়েছিলেন কলম্বিয়ার বারাঙ্কিয়ায় ফুটবল ফেডারেশনের এক অনুষ্ঠানে এবং রিও ডি জেনিরোতে কনমেবল বোর্ড মিটিংয়ে অংশ নেওয়ার জন্য। আদালত তাকে ৫০ লাখ পেসো জামিনের শর্তে বিদেশে যাত্রার অনুমতি দিয়েছে। তবে আগামী ৫ মার্চ তাপিয়া ও এএফএর কোষাধ্যক্ষ তোভিগিনোসহ আরও তিন কর্মকর্তাকে আদালতে হাজির হতে হবে।
এমতাবস্থায় আর্জেন্টাইন ক্লাবগুলো ঐক্যবদ্ধভাবে ৫ থেকে ৮ মার্চ পর্যন্ত লিগে ‘কর্মবিরতি’ ঘোষণা করেছে। মূলত তাপিয়া ও অন্যান্য কর্মকর্তাদের আদালতে হাজিরার দিনটিকে কেন্দ্র করে এই প্রতিবাদ গঠিত হয়েছে।
এএফএ এই ঘটনার সমালোচনা করে এটিকে “নোংরা অপপ্রচার” বলে উল্লেখ করেছে। তাদের অভিযোগ, আর্জেন্টিনার ডানপন্থী প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই সরকারের পক্ষ থেকে এই ষড়যন্ত্র চলছে, যা অলাভজনক ক্লাবগুলোকে পাবলিক লিমিটেড কোম্পানিতে রূপান্তর করতে চায়।
সরকার সমর্থক আইনপ্রণেতা সিলভানা গিউদিচি বলেন, “এখানে কোনো রাজনৈতিক প্রতিহিংসা নেই। আশা করি, ক্লাবগুলো ব্যক্তিদের কাছে জিম্মি হবে না।”
ফলস্বরূপ, আর্জেন্টিনার ফুটবলের ভবিষ্যত এই মুহূর্তে এক দ্বন্দ্বপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যেখানে আদালত, কর দপ্তর, ক্লাব এবং এএফএ-এর মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে, এবং লিগের নিয়মিত কার্যক্রম আপাতত স্থগিত রয়েছে।