ইরানে একদিনে ১২০০- এর বেশি বোমা ফেলার দাবি ইসরাইলের

সম্প্রতি, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই ইসরাইল দাবি করেছে যে, তারা এবং যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ অভিযানে মাত্র একদিনে ইরানের বিভিন্ন স্থানে ১,২০০-এর বেশি বোমা ও গোলাবারুদ নিক্ষেপ করা হয়েছে। রোববার (১ মার্চ) এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে আল জাজিরা, যেখানে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় হরমোজগান প্রদেশের মিনাব শহরের একটি প্রাথমিক বালিকা বিদ্যালয়ও হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল। এই হামলায় অন্তত ১৪৮ জন নিহত হয়েছেন এবং আরও বহু মানুষ আহত হয়েছেন।

হামলার বিস্তারিত

ইসরাইলি বিমান বাহিনী দাবি করেছে যে, এক দিনের অভিযানে তারা ইরানের বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে। মিনাব শহরের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হামলা চালানো হয়, যেখানে শিশুদের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, হামলায় “ডজনখানেক নিরীহ শিশু” নিহত হয়েছেন। তিনি আরও বলেন, “এই হামলার প্রতিশোধ অবশ্যই নেওয়া হবে”। ইরানি জনগণের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে, বিশেষ করে এমন একটি স্থান লক্ষ্যবস্তু হওয়ার কারণে যেখানে অধিকাংশই শিশু।

খামেনির মৃত্যু এবং শোক

এ হামলার প্রেক্ষিতে ইরান সরকার নিশ্চিত করেছে যে, দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এই হামলায় মারা গেছেন। ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই হামলায় খামেনির মৃত্যু ইরানকে আরও একটি কঠিন পরিস্থিতির মুখে ঠেলে দিয়েছে। রোববার (১ মার্চ) আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম ও ফার্স নিউজ এজেন্সি খামেনির মৃত্যু নিশ্চিত করেছে। তার মৃত্যুতে ইরান সরকার সাত দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছে এবং ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালনের ঘোষণা দিয়েছে।

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া

এই হামলার পর আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। অনেক দেশ এই হামলার নিন্দা জানিয়েছে এবং ইরানের ওপর হামলার ফলে পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, এই হামলা ইরান ও ইসরাইলের মধ্যে আরও দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের সূচনা হতে পারে, যা শুধু দুই দেশের জন্য নয়, বরং গোটা অঞ্চলের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে।

ইরান–ইসরাইল সম্পর্ক

ইরান ও ইসরাইলের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচি এবং ইসরাইলের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যার কারণে ইসরাইল ইরানকে লক্ষ্য করে একাধিক অভিযান চালিয়েছে। গত কয়েক মাসে দুই দেশের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা এবং শত্রুতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এই নতুন হামলা তারই একটি অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে আরও উত্তেজনা সৃষ্টি করবে।

ইরানের প্রতিশোধের হুমকি

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ইতিমধ্যেই জানিয়েছেন যে, ইরান এই হামলার জবাব দিতে প্রস্তুত। তিনি বলেন, “এই হামলার প্রতিশোধ নেওয়া হবে।” ইরান সরকার পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য আন্তর্জাতিক সমর্থন লাভের চেষ্টা করছে, এবং তাদের পক্ষ থেকে শত্রু দেশগুলোর বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।

হামলায় ক্ষয়ক্ষতির পরিসংখ্যান

হামলার স্থান নিহতের সংখ্যা আহতের সংখ্যা হামলার তারিখ
মিনাব শহর, ইরান ১৪৮ জন বহু আহত ১ মার্চ
ইরান, সারাদেশ – – ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে

উপসংহার

এই হামলা ইরান এবং ইসরাইলের মধ্যে চলমান উত্তেজনার একটি নতুন অধ্যায় সূচনা করেছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনির মৃত্যু এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পর, দেশটি পরিস্থিতি মোকাবিলায় একাধিক পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই হামলার ফলে গোটা মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিতিশীলতা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে, যা আন্তর্জাতিক সম্পর্ক এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য বিপদজনক হতে পারে। ইরান সরকারের প্রতিশোধের হুমকি এবং আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ভবিষ্যতের রাজনৈতিক গতিবিধি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

Tags :

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Are you human? Please solve:Captcha


সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।