খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬
বিশ্বজুড়ে মোটর বা গাড়ি বিমা খাতের পরিধি এক অভূতপূর্ব গতিতে বৃদ্ধি পাচ্ছে। সাম্প্রতিক এক বাজার বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, ২০২৬ সালের মধ্যে বৈশ্বিক গাড়ি বিমা বাজারের আর্থিক মূল্য ২.১৩ ট্রিলিয়ন (লক্ষ কোটি) মার্কিন ডলারে পৌঁছাবে। মূলত ক্রমবর্ধমান যানবাহনের চাহিদা, উন্নত প্রযুক্তি এবং প্রিমিয়ামের মূল্য বৃদ্ধির ফলে এই খাতে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ২০৩১ সাল পর্যন্ত এই খাতটি বার্ষিক ৬.০৫ শতাংশ চক্রবৃদ্ধি হারে (CAGR) প্রসারিত হবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
কয়েন ল (CoinLaw) প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বিমা কোম্পানিগুলো বর্তমান প্রেক্ষাপটে তাদের পলিসির মূল্য বা প্রিমিয়াম বাড়াতে বাধ্য হচ্ছে, যা সামগ্রিক বাজারের আকার বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখছে। ২০২৫ সালে বৈশ্বিক মোটর বিমা বাজারের মূল্যমান ছিল ৯৭৬.১ বিলিয়ন ডলার, যা ২০৩৪ সাল নাগাদ ১.৭৫ ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ২০২৬ সাল পরবর্তী সময়ে এই প্রবৃদ্ধির হার আরও ত্বরান্বিত হবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
নিচে বৈশ্বিক গাড়ি বিমা বাজারের প্রক্ষেপিত প্রবৃদ্ধির একটি তুলনামূলক সারণি দেওয়া হলো:
| বিষয়বস্তু | সময়কাল/বছর | প্রক্ষেপিত বাজার মূল্য | বার্ষিক চক্রবৃদ্ধি হার (CAGR) |
| গাড়ি বিমা বাজার (লক্ষ্য) | ২০২৬ | $২.১৩ ট্রিলিয়ন | ৬.০৫% (২০৩১ পর্যন্ত) |
| গাড়ি বিমা বাজার (লক্ষ্য) | ২০৩১ | $২.৮৬ ট্রিলিয়ন | – |
| মোটর বিমা বাজার (মূল্যায়ন) | ২০২৫ | $৯৭৬.১ বিলিয়ন | ৬.৭% (২০২৬ পরবর্তী) |
| মোটর বিমা বাজার (পূর্বাভাস) | ২০৩৪ | $১.৭৫ ট্রিলিয়ন | – |
বর্তমান সময়ের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হলো বিমা খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর ব্যাপক ব্যবহার। ঝুঁকি নিরূপণ (Underwriting) এবং দাবিনিষ্পত্তি (Claims) প্রক্রিয়ায় বিমা কোম্পানিগুলো এখন এআই প্রযুক্তির ওপর অনেক বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। চলতি বছরে বিমা খাতে এআই থেকে প্রাপ্ত আয়ের পরিমাণ আনুমানিক ২৬.৩ বিলিয়ন ডলার, যা ২০৩১ সাল নাগাদ ১১৪.৫২ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। এই নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে বার্ষিক চক্রবৃদ্ধি হার ধরা হয়েছে ৩৪.২ শতাংশ।
শিল্পজরিপ অনুযায়ী, বিশ্বের বড় বিমা কোম্পানিগুলো ইতিমধ্যে তাদের কার্যক্রমে এআই টুলস ব্যবহার শুরু করেছে। বর্তমানে প্রায় ৬০ থেকে ৮০ শতাংশ প্রাথমিক বিমা দাবি সংক্রান্ত গ্রাহকসেবা এআই-চালিত ভার্চুয়াল এজেন্ট বা চ্যাটবটের মাধ্যমে সম্পন্ন হচ্ছে। এটি কেবল পরিচালন ব্যয়ই কমাচ্ছে না, বরং গ্রাহকদের দ্রুত সেবা নিশ্চিত করতেও সহায়তা করছে।
প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে ‘ইউজেজ-বেসড ইনস্যুরেন্স’ বা ব্যবহারের ভিত্তিতে বিমা করার প্রবণতাও বাড়ছে। গাড়ি চালকের ড্রাইভিং প্যাটার্ন এবং গাড়ির ব্যবহারের ওপর ভিত্তি করে এই বিমার প্রিমিয়াম নির্ধারিত হয়। টেলিমেটিকস প্রযুক্তির সহজলভ্যতা এই বাজারকে ২০৩০ সালের মধ্যে ২৪৩.৩২ বিলিয়ন ডলারে নিয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই উপ-খাতটির বার্ষিক প্রবৃদ্ধির হার ধরা হয়েছে প্রায় ২৩.১ শতাংশ।
সব মিলিয়ে, ২০২৬ সালটি বৈশ্বিক গাড়ি বিমা খাতের জন্য একটি মাইলফলক হতে যাচ্ছে। প্রযুক্তির সংমিশ্রণ এবং স্মার্ট বিমা পলিসির জয়জয়কার এই শিল্পকে আরও স্বচ্ছ এবং শক্তিশালী করে তুলবে। তবে বাজার বিশ্লেষকদের মতে, কোম্পানিগুলোর আকার এবং বাজারভেদে এই প্রযুক্তি গ্রহণের সক্ষমতায় কিছুটা ভিন্নতা থাকতে পারে।